
দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক বছরের মাথায় ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রোববার (১২ জুলাই) দেওয়া এ ঘোষণার ফলে দেশটির পুরো সরকারই পদত্যাগের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে, কারণ ইউক্রেনের আইন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের সঙ্গে পুরো মন্ত্রিসভাও পদত্যাগ করে।
জেলেনস্কি জানান, সরকারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর শীর্ষ পর্যায়েও পরিবর্তন আনা হবে। তবে কে নতুন প্রধানমন্ত্রী হবেন বা সভিরিদেঙ্কোকে কোন দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইউলিয়ার দায়িত্বশীল, স্থির ও কার্যকর নেতৃত্বের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তাকে আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের নতুন দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি। তিনি আরও জানান, সংসদের সহযোগিতায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
অর্থনীতিবিদ সভিরিদেঙ্কো ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী হন। এর আগে তিনি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের উপপ্রধান এবং দীর্ঘ চার বছর উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্য খাতের দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে ইউক্রেনে গত এক বছরে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ সরকারকে চাপে ফেলেছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কোম্পানি এনারগোআটম–এ প্রায় ১০ কোটি ডলারের কমিশন কেলেঙ্কারিকে ঘিরে আলোচিত ‘মিডাস’ মামলায় প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। এতে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও আইনপ্রণেতাদের মতে, সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে রয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শমিহাল, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ এবং রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাফতোগাজ–এর প্রধান সেরহি কোরেতসকি। বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ জেলেজনিয়াকের দাবি, কোরেতসকির মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে সভিরিদেঙ্কোকে যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনের নতুন রাষ্ট্রদূত করা হতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
সূত্র: রয়টার্স