যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে বিমানঘাঁটিতে কী ঘটেছে

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৫

যুক্তরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি বিমানঘাঁটিতে ‘বড় ধরনের ঘটনা’ ঘোষণার পর বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসী অপরাধে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দেশটির গ্লস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে কয়েকটি সন্দেহভাজন যানবাহন তল্লাশি করছে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলের আশপাশের কয়েক ডজন ঘরবাড়ি থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এখন পর্যন্ত এ ঘটনা সম্পর্কে যা জানা গেছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো।
আরএএফ ফেয়ারফোর্ড কোথায়
যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ারের কটসওল্ডসে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড। ফেয়ারফোর্ড শহর থেকে ঘাঁটিটি প্রায় ৬ দশমিক ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে। দীর্ঘদিন ধরে ঘাঁটিটি মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করেছে।
কী ঘটেছিল
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় গতকাল রোববার রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি অভিমুখে তিনটি সন্দেহজনক গাড়ি যাচ্ছে বলে খবর পায় গ্লস্টারশায়ার পুলিশ। পরে ঘাঁটি থেকে প্রায় ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরের উইলফোর্ড এলাকায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই এলাকায় কয়েকটি গাড়ি পরীক্ষা করতে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল পাঠানো হয়েছে। ৪০০ মিটার এলাকায় নিরাপত্তাবেষ্টনী দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছে কাউন্টার টেররিজম পুলিশিং (সিটিপি)।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং মার্কিন কর্মকর্তা, তাদের পরিবার ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
অপরাধী সন্দেহে বিস্ফোরক আইনে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। পরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগ এনে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁরা এখনো পুলিশ হেফাজতে আছেন। তবে তাঁদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ তাঁদের কোথায় রেখেছে, সে বিষয়েও কিছু জানা যায়নি। যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসবাদ আইনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে অভিযোগ গঠন ছাড়াই সর্বোচ্চ ১৪ দিন আটকে রাখা যায়।
নিরাপদ স্থানে ৮৫ পরিবার
সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় ৮৫টি পরিবারকে তাদের বাড়ি থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। গতকাল রাতে পরিবারগুলো বাড়ি ফিরতে পারবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে যাঁরা আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের কাছে থাকতে পারবেন না, তাঁদের জন্য কটসওল্ড ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় একটি অবকাশযাপনকেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন জানান, গভীর রাতে পুলিশ তাঁদের ঘুম থেকে তুলে দ্রুত বাড়ি ছাড়তে বলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা কী বলছেন
স্থানীয় এক নারী জানান, গতকাল ভোরে ঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক তৎপরতা দেখে তিনি পুলিশকে খবর দেন। তিনি তিনটি ভ্যান ও মুখোশ পরা কয়েকজনকে দেখেছিলেন বলে জানান। জেফ নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, তিনি চিৎকারের শব্দ শুনে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে পুলিশকে কয়েকজনকে আটক করতে দেখেন।
যুক্তরাজ্য সরকার কী বলেছে
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এ ঘটনাকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই নেবে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং চলমান অভিযান নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করার সময় এখনো আসেনি।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সামরিক অভিযান পরিচালনা ও বিমান মোতায়েনের কাজে মার্কিন বিমানবাহিনী আরএএফ ফেয়ারফোর্ডকে ব্যবহার করে আসছে। স্নায়ুযুদ্ধ এবং ১৯৯১ সালের প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ঘাঁটিটি মার্কিন বিমানবাহিনীর স্ট্র্যাটেজিক এয়ার কমান্ডের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০০৩ সালে ইরাকে হামলার সময় এখান থেকে বি-৫২ বোমারু বিমানও পরিচালনা করা হয়। সর্বশেষ গত ১ মার্চ ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।