
কানাডীয় গবেষকদের পরিচালিত সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনা ও মেটা-অ্যানালাইসিসে দেখা গেছে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ‘জিএলপি-১’ গোত্রের ওজন কমানোর ইনজেকশন ব্যবহারে স্থূলতায় আক্রান্ত শিশুরা ওজন কমাতে এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সক্ষম হতে পারে।
৬ থেকে ১৮ বছর বয়সি ৭৫০ জনেরও বেশি শিশু ও কিশোর-কিশোরীকে নিয়ে আয়োজিত ৯টি পৃথক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, জিএলপি-১ ওষুধগুলো কেবল অতিরিক্ত ওজন কমাতেই সাহায্য করে না, বরং এটি অংশগ্রহণকারীদের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাজ্যে সীমিত কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক স্থূলতায় ভোগা অনুর্ধ্ব-১৮ রোগীদের চিকিৎসার জন্য ‘মাউনজারো’ ও ‘ওয়েগোভি’-এর মতো জিএলপি-১ ওষুধগুলো প্রেসক্রাইব করার সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে যখন অতিরিক্ত ওজনের কারণে শরীরে নানা জটিলতা দেখা দেয় এবং অন্যান্য সাধারণ চিকিৎসা কিংবা খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন কোনো কাজে আসে না, তখনই দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা-র বিশেষায়িত সেন্টারগুলো থেকে এগুলো দেওয়া হয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা
গবেষকরা জানান, এই ইনজেকশন গ্রহণের পর সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা গেছে বমি বমি ভাব। তুলনামূলক অন্যান্যদের তুলনায় ওষুধ গ্রহণকারী শিশুদের মধ্যে এই উপসর্গটি বেশি দেখা গেছে।
তারা জোর দিয়ে বলেছেন, সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কেবল বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে ও নির্দেশনায় এই ওষুধগুলো ব্যবহার করা উচিত। এ ছাড়া শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ওপর জিএলপি-১ চিকিৎসার দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে তারা জানান।
বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এসব ওষুধ মারাত্মক স্থূলতার চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে, তবে এটি কোনোভাবেই সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম কিংবা সুস্থ জীবনযাত্রার বিকল্প হতে পারে না। ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি এসব স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখা সমান জরুরি।
সূত্র: সামা টিভি