যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ড্রেসিংরুমে আবেগঘন বার্তা রেখে গেল ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২২ জুন ২০২৬, ১৫:৩৩

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ড্রেসিংরুমে একটি হাতে লেখা বার্তা রেখে গেছে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল। লস অ্যাঞ্জেলেসে দুটি ম্যাচ খেলার পর বিদায়ী ওই বার্তায় শহরটির আতিথেয়তা ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি স্মরণ করা হয়েছে ইরানের মিনাব শহরের একটি বিদ্যালয়ে হামলায় নিহত শিশুদের।
চলমান বিশ্বকাপে অভিবাসন সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৮ ঘণ্টার বেশি অবস্থানের অনুমতি পায়নি ইরান দল। সে কারণে লস অ্যাঞ্জেলেসে দুটি ম্যাচ শেষ করে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ড্রেসিংরুমে হাতে লেখা একটি বার্তা রেখে যায়।
রোববার বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে ইরান টুর্নামেন্টে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচ পর্যন্ত টিকে থাকা নিশ্চিত করে। তাদের পরবর্তী ম্যাচ সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে। দলটির রেখে যাওয়া বার্তার শুরুতে লেখা ছিল, “হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের সভ্য ইরান পর্যন্ত, ইরানের আত্মা আজও জীবিত এবং দৃঢ়ভাবে স্থির রয়েছে।”
বার্তাটিতে #১৬৮ এবং #মিনাব হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করা হয়। এটি মিনাব শহরের একটি বিদ্যালয়ে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘটিত হামলায় নিহতদের স্মরণে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য থাকলেও হামলাটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হয়েছে।
বার্তায় আরও লেখা হয়, “আমরা গর্ব নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছি, সম্মানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি এবং মর্যাদার সঙ্গে বিদায় নিচ্ছি।” এতে আরও বলা হয়, “লস অ্যাঞ্জেলেস, তোমাদের আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ। সেই সঙ্গে প্রতিটি ইরানিকে ধন্যবাদ, যারা এই ১৮০ মিনিট জুড়ে ইরানের জন্য তাদের হৃদয়, কণ্ঠ এবং আত্মা উজাড় করে দিয়েছে।”
বার্তার শেষাংশে বলা হয়, “সব জাতির মধ্যে শান্তি, সম্মান এবং বন্ধুত্ব বজায় থাকুক।” বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান নিয়ে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে ইরান দলকে। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধের কারণে দলটিকে তাদের বেস ক্যাম্প অ্যারিজোনার টুসন থেকে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় সরিয়ে নিতে হয়।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলতে ইরান দল ম্যাচের আগের দিন লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছায়। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই তাদের আবার মেক্সিকোতে ফিরে যেতে হয়। এ ছাড়া দলের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। নিউজিল্যান্ড ম্যাচের পর খেলোয়াড় মেহদি তোরাবির একবার প্রবেশযোগ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে নতুন ভিসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে আবেদন করতে হয়।
ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোই এই বিধিনিষেধের সমালোচনা করে তার দলকে “পুরো বিশ্বকাপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দল” বলে উল্লেখ করেছেন।