
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল গ্রামে বৌলাই নদী থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি মটিয়ান হাওড়ে প্রবেশের সময় একটি বসতঘর নদীতে ভেসে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নিখোঁজ রুবেল মিয়া (৩০) গ্রামের বশিরুল হকের ছেলে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জুয়েল আহমদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বড়দল পুরান হাটির বশিরুল হকের ছেলে রুবেল মিয়া একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি। তাকে দীর্ঘদিন ধরে বসতঘরে একটি পরিত্যক্ত ঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছিল পরিবার। সোমবার সকালে উপজেলার বড়দল গ্রামের পাশ দিয়ে চলা বৌলাই নদী থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি মটিয়ান হাওড়ে প্রবেশের সময় একটি বসতঘর স্রোতের টানে নদীতে ভেসে তলিয়ে যায়। এ সময় শিকলে বাঁধা অবস্থায় ভারসাম্যহীন ওই যুবক তলিয়ে যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ চালালেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত যুবককে উদ্ধার করা যায়নি বলে জানিয়েছেন ওই ইউপি সদস্য।
নিখোঁজের ঘটনায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম।
এদিকে রোববার মধ্যরাত থেকে বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল বন্ধ থাকায় সুনামগঞ্জের সীমান্ত নদী জাদুকাটা, বৌলাই, প্রধান নদী সুরমাসহ সব নদীতে পানি হ্রাস পেতে শুরু করেছে।
বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে নদীতে পানি হ্রাস পাওয়ায় সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের আনোয়ারপুর ও শাক্তিয়ারখলা থেকে পানি নেমে সড়কে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃসচল হয়েছে।
পাউবো সূত্র অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমার পানি ৩ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।