ফিফা সভাপতি পদেই থাকছেন ইনফান্তিনো, চতুর্থ মেয়াদে লড়াইয়ের ঘোষণা

স্পোর্টস ডেস্ক
  ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:০৮


বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটির ম্যানেজমেন্ট বোর্ড। মরক্কোতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সিনিয়র কর্মকর্তাদের সমর্থন পাওয়ার পর নিজের কিছু ‘ভুলের’ জন্য ক্ষমাও চান ইনফান্তিনো। এতে আগামী নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদের জন্য তার প্রার্থিতা আরও জোরালো হয়েছে।
ফিফার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বৈঠকে উপস্থিত ফিফা ম্যানেজমেন্ট বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।’
আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে হলে ফিফার ২১১ সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টির ভোট প্রয়োজন হবে ইনফান্তিনোর।
সম্প্রতি ফিফার প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর অংশীদারত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা প্রকাশের পর থেকেই ইনফান্তিনো ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিফা তাদের বিশ্বকাপসহ প্রধান প্রতিযোগিতাগুলো পরিচালনার জন্য একটি নতুন বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) গঠন করবে। সেখানে বাইরের বিনিয়োগকারীরা সংখ্যালঘু, তবে নিয়ন্ত্রণহীন অংশীদারত্ব কিনতে পারবেন।
ফিফার দাবি, এতে ফুটবলের উন্নয়নে বড় ধরনের অর্থায়ন নিশ্চিত হবে। ইনফান্তিনো সদস্যদেশগুলোর উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে জানান, পরিকল্পনাটি সমর্থন করলে প্রতিটি সদস্য সংস্থা ৪ কোটি ডলার পর্যন্ত পেতে পারে। এর মধ্যে ১ জানুয়ারি থেকেই ২ কোটি ডলার ছাড় করা সম্ভব হবে।
পরবর্তীতে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় ইনফান্তিনো বলেন, ‘এটি কোনো বাধ্যবাধকতা নয়, বরং একটি সুযোগ। এটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার সোনালি সুযোগ।’
তবে এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা। উয়েফার ৫৫ সদস্যসংস্থা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে তারা বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টিও বিবেচনা করবে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের সংস্থা কনকাকাফও তাদের ৪১ সদস্যের পক্ষ থেকে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) উয়েফা ও কনকাকাফের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করলেও সরাসরি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেনি।
এদিকে ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পদত্যাগ করে বলেছেন, এটি ‘ফুটবলের জন্য খারাপ চুক্তি’, যা ‘ফুটবলের ভবিষ্যৎ বন্ধক রাখবে’।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, ‘ফুটবল বিনিয়োগকারীদের নয়, এটি সমর্থকদের। বিশ্বকাপ কোনো পণ্য নয়; এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এর কোনো অংশ বিক্রি মানেই ফুটবলকে বিক্রি করে দেওয়া।’    
তবে সমালোচনার জবাবে ফিফা বলেছে, ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না।’ সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি নিয়ে তারা এগিয়ে যাবে এবং এটি বিশ্ব ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিনিয়োগ প্রস্তাবসংক্রান্ত ২৫ পৃষ্ঠার এক নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০৩৫-২০৩৯ মেয়াদে সদস্য সংস্থাগুলোর জন্য আর্থিক বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, পুরো পরিকল্পনায় নারী ফুটবলের বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই।
ফিফা জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুমোদিত হলে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেবে মার্কিন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটারনাল। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জশুয়া কুশনার, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই।

সূত্র: বিবিসি