জব্দ মোবাইল ফেরত চেয়ে সাইবার অপরাধ সংস্থাকে রিজওয়ানের চিঠি

স্পোর্টস ডেস্ক
  ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:১৬


জব্দ করা মোবাইল ফোন ফেরত চেয়ে পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন দেশটির উইকেটকিপার ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। একই সঙ্গে লাহোর হাইকোর্টের সর্বশেষ নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সংস্থাটিকে অনুরোধ করেছেন তিনি।
চিঠিতে রিজওয়ান জানিয়েছেন, এনসিসিআইএ ঠিক কোন বিষয়ে তদন্ত করছে, সে সম্পর্কে এখনো তাকে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্তের বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করার পাশাপাশি কবে তাকে সংস্থাটির কার্যালয়ে হাজির হতে হবে, সেটিও জানাতে বলেছেন তিনি।
গত ৩১ আগস্ট ইংল্যান্ডে রিজওয়ানের কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি জব্দ করে এনসিসিআইএ। এর আগের দিন লর্ডসে ইংল্যান্ডের কাছে দ্বিতীয় টেস্টে হেরেছিল পাকিস্তান। রিজওয়ানের দাবি, ফোন নেওয়ার সময় তাকে বলা হয়েছিল, তিন ঘণ্টার মধ্যেই সেটি ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ফোনটি ফেরত পাননি তিনি।
রিজওয়ানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, যুক্তরাজ্যে থাকাকালে তিনি এনসিসিআইএকে তার মোবাইলের পাসওয়ার্ডও দিয়েছিলেন। যদিও তার ভাষ্য, ফোনে প্রবেশাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে তার ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। তারপরও দ্রুত ফোন ফেরত পাওয়ার আশায় তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেছিলেন।
চিঠিতে রিজওয়ান উল্লেখ করেছেন, মোবাইল ফোন নেওয়ার পর থেকে সেটি ফেরত দেওয়ার বিষয়ে এনসিসিআইএ তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করেনি। তার স্বেচ্ছায় ফোন হস্তান্তর এবং পরবর্তী সহযোগিতার বিষয়গুলোই প্রমাণ করে যে তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন। এখন সংস্থাটির কাছ থেকেও একই ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন তিনি।
এর আগে এনসিসিআইএর তদন্তের এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে লাহোর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রিজওয়ান। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আদালত তার আবেদন খারিজ করে দেয়। তবে একই রায়ে রিজওয়ানকে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তাকে হয়রানি বা অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তিতে না ফেলতে এনসিসিআইএকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া রিজওয়ানের কাছ থেকে জব্দ করা সামগ্রী, বিশেষ করে মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগও রাখা হয়।
পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফরে দ্বিতীয় টেস্টে হারের পরই এনসিসিআইএর এই তদন্তের সূত্রপাত। ওই ঘটনার পর মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হকসহ কয়েকজন ক্রিকেটারকে দ্রুত পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে সংস্থাটি।
ইমাম-উল-হক এনসিসিআইএর প্রশ্নপত্রের উত্তর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও রিজওয়ান আইনি পরামর্শ নিয়ে সংস্থাটির তদন্তের এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি জানান। আদালতে করা সেই আবেদন খারিজ হলেও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন তিনি। এখন মামলাসংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে এনসিসিআইএকে লিখিতভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন এই পাকিস্তানি ক্রিকেটার।