মিন–স্ট্রিট থেকে ক্লিন–স্ট্রিট: নিউইয়র্কবাসীর জন্য পরিচ্ছন্ন শহর

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৭ আগস্ট ২০২৫, ১৫:০৫


"আমরা আমাদের আবর্জনা কেমনভাবে সামলাই, সেটিই বলে দেয় আমরা কেমন সমাজে বাস করি"—এই স্লোগান সামনে রেখে নিউইয়র্ক সিটি গত চার বছর ধরে ‘ট্র্যাশ  রেভল্যুশন’-এর পথে হাঁটছে। একসময়ের কালো গার্বেজ ব্যাগে স্তুপাকার সাইডওয়াকগুলো, যা ‘মিন–স্ট্রিট’ নামে পরিচিত ছিল, তা এখন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে ‘ক্লিন–স্ট্রিটস’-এ।
শহরের আবর্জনা ফেলার সময় বিকেল ৪টা থেকে সরিয়ে রাত ৮টা করা হয়েছে। এতে রাস্তায় আবর্জনা কম সময় থাকে, দুর্গন্ধও কমে এবং অফিস শেষে পথচারীদের আর হোঁচট খেয়ে পড়তে হয় না। পাশাপাশি খাবার–সম্পর্কিত ব্যবসা এবং চেইন ব্যবসাগুলোকে ঢাকনাযুক্ত বিন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আবাসিক এলাকায় কনটেইনার ব্যবহার বাধ্যতামূলক হওয়ার পর থেকে ইঁদুরের উপদ্রব চোখে পড়ার মতো হারে কমছে। সোমবার (২৫ আগস্ট) কমিউনিটি অপ–এডে সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেন, “৩১১–এ করা অভিযোগের তথ্য অনুযায়ী, গত আট মাসে ইঁদুর দেখার হার টানা কমেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ হ্রাস নির্দেশ করছে।”
শুধু ইঁদুর তাড়ানোই নয়, নিউইয়র্কবাসীরা প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৫০ লাখ পাউন্ড খাদ্য ও বাগানের বর্জ্য কম্পোস্ট করছে বলেও জানান অ্যাডামস। এতে মূল্যবান জৈব উপাদানগুলো ল্যান্ডফিলে না গিয়ে কাজে লাগছে—যেমন বাগানের জন্য মাটি তৈরি।
তিনি আরও বলেন, “নিউইয়র্ক সিটির ১ হাজার ১০০ মাইলের বেশি হাইওয়ে রয়েছে। বহু দশক ধরে এসব হাইওয়ে পরিষ্কারের দায়িত্ব বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিভক্ত ছিল এবং তা নিয়মিত সম্পন্ন হতো না। এজন্যই আমরা স্যানিটেশন ডিপার্টমেন্টে ‘হাইওয়ে ইউনিট’ তৈরি করেছি। এখন পরিষ্কারের পূর্ণ দায়িত্ব এই ইউনিটের। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে তারা সরিয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টন আবর্জনা—গাড়ির বাম্পার থেকে শুরু করে প্লাস্টিক বোতল, ফাস্টফুডের র‌্যাপার সবই। এতে শুধু সৌন্দর্য নয়, নিরাপত্তাও বেড়েছে বহুগুণ।”
বড় ভবনের পর এবার ছোট ভবনেও আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। অ্যাডামস বলেন, “জুন ২০২৬–এর সময়সীমার আগেই ১ থেকে ৯টি আবাসিক ইউনিটের ভবনের জন্যও আবর্জনার কনটেইনার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বড় ভবনে আগে থেকেই এ নিয়ম ছিল। তবে এখন ছোট ভবনগুলোর জন্য অনলাইনে ৮ লাখের বেশি সরকারি এনওয়াইসি বিন এবং হোম ডিপো থেকে আরও ৮০ হাজার বিন অর্ডার হয়েছে। এতে রাস্তা থেকে দুর্গন্ধযুক্ত কালো ব্যাগ প্রায় উঠে যাচ্ছে, যা শহরের বড় সাফল্য।”
উত্তর আমেরিকায় প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কে পরীক্ষামূলক চালু হয়েছে স্বয়ংক্রিয় সাইড–লোডিং আবর্জনার ট্রাক। আর এই উদ্যোগ ধরে রাখতে ‘সেরা বাজেট’–এ স্যানিটেশন ডিপার্টমেন্টের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৩২ মিলিয়ন ডলার।
অ্যাডামস বলেন, “চার বছর আগে যখন বলা হয়েছিল নিউইয়র্ক হবে পরিচ্ছন্ন শহর, অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছিলেন। তারা বলেছিল, নিউইয়র্ক সিটি অনেক বড়, সরকার ধীরে চলে, আর কেউই কোনোদিন ইঁদুরের উপদ্রব কমাতে পারবে না। কিন্তু আমরা ‘না’ শব্দটিকে উত্তর হিসেবে গ্রহণ করিনি। আজ নিউইয়র্কবাসীর চোখে ভেসে উঠছে সাফল্যের ছবি—পরিচ্ছন্ন রাস্তা, নিরাপদ হাইওয়ে, ইঁদুরবিহীন পরিবেশ।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা আমেরিকার সবচেয়ে নিরাপদ বড় শহরে আছি এবং আমরা সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর হওয়ার দিকেও এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ‘ট্রিপল–ক্লিন’ সাফল্য—পরিচ্ছন্ন হাইওয়ে, বেশি কনটেইনার ব্যবহার আর কম ইঁদুর—প্রমাণ করছে যে আমাদের প্রচেষ্টা কার্যকর হচ্ছে।”