উদ্ধার হওয়া কয়েকটি ম্যাগাজিন ও অস্ত্রের ওপর কিছু বার্তা দেয়া ছিল। যাতে লেখা ছিল- ডনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করো, ইসরায়েলের পতন ঘটাতে হবে, এবং ভারতে নিউক্লিয়ার হামলা করো। মিনিয়াপোলিসের অ্যানানসিয়েশন ক্যাথলিক স্কুলের চার্চে গুলি চালিয়ে কমপক্ষে দুই শিশুকে হত্যা এবং ১৭ জনকে আহত করা বন্দুকধারী গুলি চালানোর আগে ইউটিউবে একটি সহিংস ভিডিও পোস্ট করে।
ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এফবিআই হামলাকারীকে ২৩ বছর বয়সী রবিন ওয়েস্টম্যান হিসেবে শনাক্ত করেছে। হামলার আগে ওয়েস্টম্যান তার ইউটিউবে একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে দেখা যায়, চার্চের হাতে আঁকা একটি নকশায় ছুরি দিয়ে বারবার আঘাত করছেন তিনি। এতে মনে হচ্ছে, তিনি গির্জায় হামলার পরিকল্পনার প্রতীকী ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন।
ভিডিওতে ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরকামীদের গর্বের পতাকাও দেখা গেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছিল ওয়েস্টম্যানের সামনে একটি কাগজে চার্চের নকশা। যেখানে সামনের পডিয়াম, আসনের সারি এবং স্টেজে ক্রস। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি এক এক করে আসন গুনছিলেন, তারপর ছুরি নিয়ে কাগজে ছুরিকাঘাত করছিলেন।
আরেকটি পেন্সিল দিয়ে আঁকা স্কেচে দেখা যায়, ওয়েস্টম্যানের মতো এক ব্যক্তি তার বুকের কাছে বন্দুক বাঁধা অবস্থায় একটি খাঁচায় বন্দী দৈত্যের সঙ্গে কথা বলছে। ছবির ওপরে রাশিয়ান ভাষায় লেখা ছিল, ‘আমি কে? এটা কবে শেষ হবে? আমাকে সাহায্য করো। আমি চাই না এটা।’
ওয়েস্টম্যান ইউটিউবে ‘রবিন ডব্লিউ’ নামে একটি চ্যানেলে ভিডিওটি শিডিউল করেছিলেন। ভিডিওতে তিনি পরিবারের ও বন্ধুদের উদ্দেশ্যে চার পৃষ্ঠার হাতে লেখা চিঠি পড়েন। চিঠিতে তিনি তার কর্মকাণ্ডের প্রভাবের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। বছরের পর বছর চলা বিষণ্ণতার কথা বলেছেন, এবং প্রিয়জনদের পরামর্শ দিয়েছেন যেন তারা এগিয়ে চলে বা নাম পরিবর্তন করে।
হামলার পর ওয়েস্টম্যানকে স্কুলের পার্কিং লটে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ ওয়েস্টম্যানের কাছ থেকে রাইফেল, শটগান এবং পিস্তল সহ আগ্নেয়াস্ত্রের একটি ভাণ্ডার উদ্ধার করেছে।
উদ্ধার হওয়া কয়েকটি ম্যাগাজিন ও অস্ত্রের ওপর কিছু বার্তা দেয়া ছিল যেমন ডনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করো,ইসরায়েলের পতন ঘটাতে হবে, এবং ভারতে নিউক্লিয়ার হামলা করো। কিছু বার্তা সাইরিলিক ভাষায় লেখা ছিল এবং কয়েকটি ম্যাগাজিনে আগের স্কুল হামলাকারীদের নামও দেখা গেছে।
পুলিশ এখনও ওয়েস্টম্যানের আঁকা ছবি, ঘোষণাপত্র এবং অনলাইন কনটেন্ট পরীক্ষা করছে, হামলার পেছনের উদ্দেশ্য বোঝার জন্য।
ওয়েস্টম্যানের ভিডিওটি ইতোমধ্যে ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।