অ্যামেরিকায় অপেক্ষাকৃত কম সময়ে বেশি বেতন যে ক্যারিয়ারে

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৮ আগস্ট ২০২৫, ২০:০২


উন্নত ক্যারিয়ার গড়ার আশায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতি বছরই অ্যামেরিকায় পাড়ি দেন অনেকে, কিন্তু তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়াশোনা শেষ করে ক্যারিয়ার গড়াটাও চ্যালেঞ্জিং। এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত দিকনির্দেশনা অনেকের ক্যারিয়ার গড়ার পথকে সহজ করে দিতে পারে।
এ সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন নিউ ইয়র্ক কলাম্বিয়া প্রেসবিটেরিয়ান হসপিটালের ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজি টেকনোলজিস্ট জেসিয়া গায়েন জলিকে করেছেন টিবিএনের দ্য ভিউজের সঞ্চালক রানা আহমেদ। অতিথি তার অভিজ্ঞতার আলোকে দিয়েছেন উত্তর।

টিবিএন: অনেকেরই স্বপ্ন থাকে আমেরিকায় আসব, কিন্তু গোলটা (লক্ষ্য) আমরা নির্ধারণ করতে পারি না। অনেকে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়েও আসে। ওখান থেকেই আমরা সাবজেক্ট নির্ধারণ করি, কিন্তু আমাদের বলার কেউ থাকে না যে, কোন বিষয়টি পড়লে…।
অ্যামেরিকা, হ্যাঁ, এটা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দেশ, সেরা দেশ, ধনী দেশ। সবকিছু আছে। ল্যান্ড অব অপরচুনিটি। সব কথাই আমাদের ঠিক আছে, কিন্তু এখানেও মানুষ বেকার আছে। এখানেও মানুষ পড়াশোনা করে বছরের পর বছর কিন্তু চাকরি পাচ্ছে না।
একটা চাকরির জন্য দ্বার দ্বারে ঘুরছে, রেফারেন্স নেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু তাও চাকরি হচ্ছে না। এটাও কিন্তু সত্য। আবার এটাও সত্য যে, চাকরি আপনার পেছনে ঘুরছে, কিন্তু আপনি জানতেন না।
এ রকমই একটি পড়াশোনার বিষয়টি যে রেডিওলজি, এই রেডিওলজি ক্যারিয়ারে আশাতীত বেতনে চাকরি পাওয়ার যে একটা অপূর্ব সুযোগ আছে, সে কারণে আপনার কাছে প্রথমেই জানতে চাই, আমাদের কমিউনিটির মানুষজনকে জানাতে চাই। তারাও তাদের ভবিষ্যৎটা নির্ধারণ করবে, স্বপ্ন দেখবে যে, এই সাবজেক্টটি পড়লে আমি একদিন একজন সফল মানুষ হয়তো হতে পারব, একজন ভালো ক্যারিয়ার করতে পারবই। রেডিওলজি টেকনোলজিস্টের কাজটা কী?

জেসিয়া: রেডিওলজি হচ্ছে আমরা যদি বলি যে, উই আর দ্য আই অফ ডক্টরস। আমাদের চোখ দিয়ে ডাক্তাররা দেখেন যে, একজন রোগীকে কীভাবে, কী ডায়াগনোসিস করা যাবে বা রোগীর কোনো কন্ডিশন থাকলে সেটা কীভাবে মনিটর করা যাচ্ছে অথবা একজন ডক্টরের সার্জারির সময় যে সহায়তা দরকার, সেটা কিন্তু রেডিওলজির মাধ্যমেই হচ্ছে। আমরা যদি অ্যাড করি যে, রেডিওলজি কীভাবে কাজ করে।
রেডিওলজি হচ্ছে স্মল অ্যামাউন্ট অব আয়োনাইজিং রেডিয়েশন, যেটা দিয়ে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা শরীরের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অর্গান অথবা এয়ার অথবা ফ্লুইড লেভেলটা আমরা দেখে থাকি এবং এটা দিয়েই ডক্টররা ডায়াগনোসিস করতে পারেন যে, এই রোগী কী ধরনের সমস্যায় ভুগছেন।
সেইম থিং যদি ক্যাট স্ক্যানের কথা চিন্তা করি। ক্যাট স্ক্যানটা হচ্ছে রেডিয়েশন প্লাস কম্পিউটারের একটা থ্রিডি ওয়েতে ইমেজ তৈরি করে। যেমন: আমরা এক্সাম্পল হিসেবে যদি এক টুকরা পাউরুটির কথা চিন্তা করেন যে, অনেকগুলা স্লাইস থাকে, কিন্তু ক্যাট স্ক্যানের ইমেজটা সে রকমই স্লাইস করা ইমেজ, যেটাতে খুব সূক্ষ্মভাবে ওটার কী ধরনের আপনার সমস্যা আছে, ভেতরে সেই ছবির মাধ্যমে সেটা ডায়াগনোসিস করতে ইজি হয়। বাট আমাদের অনেকের মধ্যে কিন্তু একটা ভুল ধারণা থাকে যে, এমআরআই মনে হয় অনেক হিউজ রেডিয়েশন দরকার হয়, কিন্তু সেটা একেবারেই না।
এমআরআইতে কোনো ধরনের রেডিয়েশন ইউজ হয় না। এমআরআইতে ইউজ হচ্ছে হচ্ছে খুব পাওয়ারফুল ম্যাগনেট এবং রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে মাধ্যমে এমআরআইতে ইমেজ আমরা নিয়ে থাকি এবং আল্ট্রাসাউন্ডে সেইম সাউন্ড ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে।
সব মিলিয়ে রেডিওলজিতে আমরা মেইন, মানে সহজ কথা যদি আমি বলতে চাই, রেডিওলজি হচ্ছে আমরা ফটোগ্রাফার।
আমরা আপনার বডির ভেতরের অভ্যন্তরীণ সমস্ত ছবি তুলে ডক্টরকে সহায়তা করি যে, আপনাকে কী ধরনের ট্রিটমেন্ট দেওয়া যায়।

টিবিএন: তো আপনি তো আপনার এই টেকনোলজির কাজ রেডিওলজির কাজগুলোর কথা বললেন। আমিও বললাম যে, আমার ক্যারিয়ার গড়বার জন্য এমন একটি বিষয় করতে চাই, যেটাতে চাকরি আমার পেছনে ঘুরবে আমি চাকরির পেছনে ঘুরব না। তাহলে রেডিওলজি পড়ার সময়টা কী পরিমাণ লাগে বা পড়তে কত সময় কী পরিমাণ প্রয়োজন পড়ে এবং আপনার কাছে একটু জানতেই চাইব যে, বিষয়টি কেন আমি পড়ব?

জেসিয়া: আমি কোন মেজরকেই ছোট করে দেখছি না। সব মেজরই ইম্পরট্যান্ট, বাট আমরা যখন এ দেশে আসি, আমাদের সবার একটা লক্ষ্য থাকে যে, কীভাবে আমি কম সময়ে পড়াশোনা করে একটা ভালো ক্যারিয়ার করতে পারি, যেখানে আমাকে হ্যান্ডসাম অ্যামাউন্ট অফ একটা উইকলি পে চেক আসবে। তো সেই ক্ষেত্রে রেডিওলজি খুবই একটা সময় উপযোগী বলব যে, যেহেতু এত এত টেকনোলজি আমাদের এবং রেডিওলজিতে আমাদের হাই টেকনোলজি মেশিনটেশিন সব একেবারে খুব ইউজফুল।

আর পড়াশোনার দিকটা তো আরও ইজি। বিকজ আপনি যদি হাই স্কুল শেষ করেন বা আপনার যদি বাংলাদেশ থেকে অনেকেই আসে। অনেকের অনেক বড় বড় ভালো ডিগ্রি থাকে। কিন্তু এ দেশে এসে তারা কী করবে? আপনি যেহেতু আগেই বলেছেন যে, কেউ দিকনির্দেশনা দেওয়ার মতো থাকে না যে, আমি কোথায় কোন সেক্টরে যাব বা কোন ফিল্ডে গেলে আমার কম সময়ে বাট আমি একটা ইউজফুল ক্যারিয়ার করতে পারব। তো সেই ক্ষেত্রে আপনাদের কারও যদি বাংলাদেশের শুধু ইন্টারমিডিয়েটের সার্টিফিকেট থাকে, কেউ যদি ইন্টারমিডিয়েট পাস করে আসেন বাংলাদেশ থেকে, শুধু এখানে এসে যদি আপনি নিউ ইয়র্ক সিটিতে থাকেন, যদি কমিউনিটি কলেজে যেতে চান, বিকজ কমিউনিটি কলেজগুলা একটু তুলনামূলকভাবে রিজনেবল অন্যান্য প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি বা প্রাইভেট কলেজের তুলনায়।

তো সেখানে আপনি যদি কিউনির আন্ডারে যান এবং কিউনির আন্ডারে গেলে আপনার যে সার্টিফিকেট আছে ম্যাট্রিক এবং ইন্টারমিডিয়েটের, সেই সার্টিফিকেট তারা ইকুইভ্যালেন্ট করে আপনাকে একটা জিইডি বা এখানে হাই স্কুল ডিপ্লোমার একটা সার্টিফিকেট দিবে। যেটা নিয়ে আপনি সরাসরি কলেজে ঢুকতে পারবেন, যেটা কিনা দুই বছরের অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি। আমরা যেটা বলে থাকি অথবা আপনি ফোর ইয়ার্সের ব্যাচেলর প্রোগ্রামে যেতে পারেন, কিন্তু আপনি দুই বছরে যাওয়ার আগে এখন আপনি অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন যে, আমার তো সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড নাই। আমি তো এসেছি আর্টস থেকে। আমার ইন্টারমিডিয়েট ছিল আর্টসের বা আমার ইন্টারমিডিয়েট ছিল কমার্সের। সে ক্ষেত্রে আমি কী করব?

এই জন্য কলেজই আপনাকে দুই বছর প্রোগ্রামে ঢোকানোর আগে কিছু প্রিরিকোয়ারমেন্টস ক্লাসেস দেবে, যেখানে আপনি বায়োলজি নেবেন, যেখানে আপনি ম্যাথ নেবেন, যেখানে আপনি কমিউনিকেশন বা অন্যান্য সাবজেক্টগুলা নেবেন, যেখানে আপনাকে বিল্ড করবে তারা যে, আপনি সেই পড়াশোনাটার মতো আপনি ধরতে পারছেন কি না বা আপনি পড়তে পারছেন কি না। তো আপনি প্রিরিকোয়ারমেন্টসগুলা নেবেন। এটা নিতে আরও এক বছরের মত সময় লাগে। প্রিরিকোয়ারমেন্ট শেষ করে আপনার ভিত্তিটা শক্ত করে দেন।

আপনি দুই বছরের অ্যাসোসিয়েট করলেন। টোটাল তিন বছর বা ম্যাক্সিমাম চার বছরে আপনি গ্রাজুয়েট হলেন, পড়াশোনা শেষ করলেন অ্যান্ড আপনাকে যেহেতু জব খুঁজে বের করবে, আপনার লাইসেন্স লাগবে না। যেখানে আমরা এখানে বলি যে একটা স্টেট লাইসেন্সের দরকার হয়, আপনি এজ সুন এজ ইউ ফিনিশ ইউর স্কুল, এখন তো আমাদের হসপিটাল আছে; আর্জেন্ট কেয়ার আছে। বিভিন্ন এজেন্সি আছে। তারা আপনাকে নিয়ে খুঁজে নেবে। আপনাকে অফার করবে যে, তোমরা আসো, আমার সাথে কাজ করো এবং ছয় মাসের একটা সময় বেঁধে দিবে যে ছয় মাসের মধ্যে ধীরেসুস্থে তুমি লাইসেন্স নিয়ে নাও, কোনো অসুবিধা নাই, বাট কাজ করতে থাকো।

টিবিএন: আপনি যেটা বুললেন যে আমরা পড়ার সময়টাও পেয়ে গেলাম দুই থেকে তিন বা চার বছর পর্যন্ত সর্বোচ্চ। তাও সেটা আপনার ওই যেটা মেডিক্যাল পড়ার মতো, প্রি-ম্যাড যে রকম পড়তে হয়, সে রকম একটা অবস্থা। তো সে ক্ষেত্রে এবং কেন পড়ব, সেটাও আপনি বললেন। তা আপনার কাছে এখন যে প্রশ্নটা হলো যে, আমি আপনার কথায় ধরুন কনভিন্স হয়ে গেলাম। আমি যে দিকনির্দেশনা দিলাম, আমি এখন বুঝলাম যে, হ্যাঁ এ বিষয়টি আমার পড়লে ভালো হবে। কিন্তু আমি কোন কলেজে পড়ব? কোন কলেজে গেলে আমার জন্য ভালো হবে? মেজর সাবজেক্ট হিসেবে আমি কী নিতে পারি? এই বিষয়টি যদি বলেন।

জেসিয়া: থ্যাংক ইউ রানা ভাই। এ জন্য আমি একটা লিস্ট নিয়ে এসছি যে যেহেতু বেশ কয়েকটা কলেজে এই প্রোগ্রামগুলা মেজর হিসেবে আপনারা নিতে পারেন। তো এখানে যারা ব্রঙ্কসে থাকেন বা ব্রঙ্কসের আশেপাশে থাকেন, সেখানে ব্রঙ্কস কমিউনিটি কলেজ খুবই খুবই ভালো একটা কলেজ, যেখান থেকে পাশের গ্রাজুয়েটের সংখ্যা খুবই বেশি এবং আরেকটি আছে হোস্টোস কমিউনিটি কলেজ। তারপরে যারা আমরা কুইন্সের দিকে থাকি লাগোরিডিয়া কমিউনিটি কলেজ। দেন ম্যানহাটন ইউনিভার্সিটি আছে। তারপরে ফুলটন মন্টগোমারি কমিউনিটি কলেজ আছে। ব্রুম কমিউনিটি কলেজ আছে, নাসাউ কমিউনিটি কলেজ আছে নিউ ইয়র্কের সিটির ভিতরে এবং এ ছাড়াও যারা যেহেতু এই হসপিটালগুলোতে চান্স পাওয়াটা একটু বেশি কম্পিটিশন হয়ে থাকে, বিকজ ওরা প্রত্যেক বছর একবার ৪০ জন স্টুডেন্ট নেয়।

বছরে একবার, যেটা কিনা সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়। ফল সেমিস্টার থেকে স্টুডেন্ট নেওয়া শুরু হয়। তো আমাদের এখন আগস্ট চলছে। ভালো একটা সময় আমরা আলোচনাটা করছি এবং সামনের মাস থেকেই স্টুডেন্ট এনরোলমেন্ট শুরু হবে. কিন্তু যেটা বলছিলাম যে, অনেকে যেহেতু হসপিটালে চান্স মানে কলেজগুলোতে চান্স পাওয়াটা একটু টাফ হয়ে যায়। বিকজ অনলি ৪০ স্টুডেন্টস চান্স পায়।

গুড নিউজ যে কিছু কিছু হসপিটাল তারা এটা অফার অফার দেয় এবং তারা শিখিয়ে নেয়, কিন্তু সে ক্ষেত্রে একটু পেমেন্ট বেশি হয়। কিছু কিছু হসপিটাল যারা যারা এই প্রোগ্রামগুলা প্রোভাইড করছে, এর মধ্যে বেলভিউ হসপিটাল আছে একটা, যারা কিনা করছে। মাউন্টসাইনে হসপিটাল আছে, মার্সি মেডিক্যাল সেন্টার আছে। তারপরে টরো কলেজ আছে। এই সমস্ত হসপিটাল বেইজ থেকেও কিন্তু আপনি গ্রাজুয়েট করতে পারছেন এবং এই লাইসেন্স নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে আপনি কিন্তু ইজিলি রেডিওলজিতে ক্যারিয়ার বিল্ড করতে পারছেন।

টিবিএন: খুব বেশ। আমরা কলেজগুলো পেলাম। মেজর সাবজেক্টও পেয়ে গেলাম। তো আপনার কাছে যেটা আমরা জানতে চাইব যে, ডাক্তারি পাস করার পরে তার একটু রেসিডেন্সি দরকার পড়ে বেশ কিছুদিনের জন্য। এ ক্ষেত্রেও আপনার কাছে আমি জানতে চাইব যে, এই যে রেডিওলজি যে রেসিডেন্সি বা ইন্টার্নশিপ এটা কত? যদিও আপনি বললেন যে, পাস করার সাথে সাথেই চাকরি হয়ে যায়। লাইসেন্সও দরকার পড়ে না। ছয় মাস পরেও লাইসেন্স নেওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রেই ইন্টার্নশিপটা কম দিন করতে…।

জেসিয়া: সো ইন্টার্নশিপটাও কিন্তু একটা পড়াশোনার অংশ। তো প্রথম সেমিস্টারে যেহেতু আমরা অনেকেই একবারে হসপিটাল সম্পর্কে কোনোই আইডিয়া নাই যারা বাংলাদেশ থেকে আসছি। আমরা তো মূলত খুব দরকার না হলে হসপিটাল আমরা যাই না। সো যারা হসপিটাল সম্পর্কে একান্তই আর মানে কোনো ধারণা নাই, তাদেরকে প্রথম সেমিস্টারটা হসপিটাল ইন্টার্নশিপের জন্য দেয় না।

সেকেন্ড সেমিস্টার থেকে আপনার সপ্তাহে পাঁচ দিনের। তিন দিন কলেজে গিয়ে ক্লাস করতে হবে। আর বাকি দুই দিন হসপিটালে গিয়ে আপনার হাতে-কলমে যেটা প্র্যাক্টিক্যালি আমরা শিখে থাকি, সেটা গিয়ে হসপিটালে গিয়ে আপনার করতে হবে। সো প্রথম সেমিস্টারে দুই দিন সপ্তাহে। সেকেন্ড ইয়ার থেকে সপ্তাহে তিন দিন। সো আপনি প্রিটি মাচ হাফ এন্ড হাফ বলা যায় যে, আপনি অর্ধেক সময়টা কলেজে কারিকুলামে শেষ করছেন। আর বাকি অর্ধেক সময়টা আপনি একচুয়ালি হাতে-কলমে পেশেন্ট কেয়ার করছেন। অ্যাকচুয়ালি আপনি হাতে-কলমে পেশেন্টকে ধরে এক্সরে করছেন বা সিটি স্ক্যান করছেন, যাই করছেন।

টিবিএন: তো তার মানে এটাও খুব একটা বেশি কিছু না। আমাদের হাতে সময় কম। হয়তো তিন-চার মিনিট আমরা হাতে সময় পাব। আপনার কাছে যেটা আমি জানতে চাইব, সেটি হচ্ছে, যেহেতু আমরা বলেছি যে, আমাদের ক্যারিয়ার বিল্ডআপের জন্যে এবং যেটা আমরা বলেছি যে, আশাতীত বেতনে যেহেতু আমরা চাকরি খুব পাওয়ার একটা সুযোগের কথা বলেছি। তো এই বিষয়টি আপনার কাছে জানতে চাইব যে, আমি কষ্ট করলাম, চার বছর পড়াশোনা করলাম। চাকরি আমার পেছনে আসল। এই চাকরিতে আমার কী ধরনের, মানে আমার বেইজ যেটা আছে, শুরুটা, বেতনটা কী পরিমাণ বা কী পরিমাণ বেতন পেতে পারি বা পাব আমি বা আর্থিক আর অন্যান্য কী কী সুযোগ-সুবিধা আছে, এই বিষয়টা যদি বলেন… সেটাও কিন্তু আমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে…।

জেসিয়া: যদি এক্সরে শেষ করে কেউ এবং ফ্রেশলি গ্রাজুয়েটেড ফ্রম স্কুল, তারা বছরে এইটিফাইভ টু নাইনটি থাউজ্যান্ড বছরে তারা মেক করতে পারছেন। শুরুতেই; আপনার এন্ট্রি লেভেল থেকে। আর যদি দুই বছর, তিন বছর, পাঁচ বছর, সাত বছর, ১০ বছর, এ রকম একটা ধাপ আছে। যত আপনার এক্সপেরিয়েন্স হবে তত আপনার বেতন বাড়তে থাকবে।
সো আপনি যদি এটলিস্ট তিন থেকে পাঁচ বছরের এক্সপেরিয়েন্স থাকে, আপনি ইজিলি ১ লাখ ১০ হাজার (ডলার) আপনি ও রকম একটা রেঞ্জে আসতে পারবেন। প্লাস যদি আপনি ওভারটাইম করেন, আপনার যদি অন কল থাকে, সে ক্ষেত্রে আরও কিছু এক্সট্রা ক্যাশ আপনার ব্যাগে আসবে। আর যদি আপনি কোনো ইউনিয়নের আন্ডারে কাজ করেন, যেমন: নিউ ইয়র্কে একটা বিরাট ইউনিয়ন আমরা সবাই জানি ইলাভেন নাইনটিনাইনের আন্ডারে যদি আপনি এর আন্ডারে কোন হসপিটাল যদি আপনি কাজ করেন, সে ক্ষেত্রে আপনার ইউনিয়ন বেনিফিটগুলা পাবেন। যেমন: আপনার হেলথ ইন্স্যুরেন্স নিয়ে আপনার কোনো চিন্তা করতে হবে না। আপনার ইমিডিয়েট ফ্যামিলি, আপনার হাজব্যান্ড বা আপনার পার্টনার, আপনার স্পাউজ, আপনার চিলড্রেন, সবাই সেই আন্ডারে আপনার কভার্ড হচ্ছে এবং আপনাকে একটি পয়সাও এক্সট্রা করে আপনাকে ইন্স্যুরেন্স কিনতে হচ্ছে না।
এটা একটা বিরাট বিষয়। আমাদের নিউ ইয়র্কে যারা থাকি, এটা একটা বিরাট খুশির খবর যদি ইউনিয়নের আন্ডারে থাকি। আর যদি আপনি এজেন্সির থ্রুতে কাজ করতে যান, সেখানে কোনো বেনিফিট পাচ্ছেন না।
বাট আপনাকে তারা যেহেতু কোনো বেনিফিট নাই, সেহেতু তারা আরেকটু বেশি করে আপনাকে স্যালারিটা বেশি দিয়ে আপনাকে সেটা কম্পেনসেট করে দিচ্ছে।

টিবিএন: তাহলে সে ক্ষেত্রে ছোট্ট করে শুধু বলবেন যে, আমরা তো যারা দিনান্ত পরিশ্রম করি বিভিন্ন অফিসে-আদালতে, সরকারি চাকরি ছাড়া। আমরা তো সারাক্ষণই পরিশ্রম করি এবং এক দিন দুই ঘণ্টা পরে গেলে বেতনও পাই না। তো সে ক্ষেত্রে এখানে ছুটির সুযোগ-সুবিধা কেমন আছে উথথ পে অর উইদাউট পে।

জেসিয়া: এখন ভ্যাকেশন থাকে। আপনার যদি প্রবেশন পিরিয়ড পার হয়ে যান বা এক বছর শেষ হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে আপনার চার সপ্তাহ ফুল ভ্যাকেশন হুইচ ইজ ফর উইক বছরে এবং আপনার ৪০ ঘণ্টা সিক টাইম। যেকোনো সময় আপনি সিক টাইম ৪০ ঘণ্টা আপনি ইউজ করতে পারবেন। আর তো ম্যাটারনিটি, প্যাটার্নিটি লিভ থাকেই। হ্যাঁ ওটা তো এটাও অনেক বড় সুযোগ এই চাকরির ক্ষেত্রে।

তথ্যসূত্র:টিবিএন২৪