ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদন

ইমিগ্রেশন দমন অভিযানে ‘মেগা ডিটেনশন’ কেন্দ্র হচ্ছে

ডেস্ক রিপোর্ট
  ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:২৮

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড় ও দ্রুত বহিষ্কারের লক্ষ্যে ব্যাপক ডিটেনশন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে ট্রাম্প প্রশাসন। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ লক্ষ্যে অন্তত আটটি অঙ্গরাজ্যে বড় বড় শিল্পগুদাম কেনা বা ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে প্রশাসন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) দুটি ভবন কিনেছে—মেরিল্যান্ডে একটি ভবন ১০২ মিলিয়ন ডলারে এবং অ্যারিজোনায় আরেকটি ৭০ মিলিয়ন ডলারে। এ ছাড়া মিসৌরির কানসাস সিটিতে প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার বর্গফুটের একটি গুদাম পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে সেখানে নতুন ডিটেনশন সেন্টার ঠেকাতে সিটি কাউন্সিল একটি প্রস্তাবও পাস করেছে।
কানসাস সিটির মেয়র কুইন্টন লুকাস দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-কে বলেন, “এ ধরনের ডিটেনশন ব্যবস্থা কতটা মানবিক, তা নিয়ে আমার বড় সন্দেহ আছে।” তাঁর আশঙ্কা, প্রস্তাবিত ওই গুদামটি রূপান্তরিত হলে সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৭,৫০০ মানুষ রাখা হতে পারে।
ডিসেম্বরে পোস্ট পর্যালোচনা করা আইস-এর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) একটি খসড়া নথিতে বলা হয়, অভিবাসীদের বহিষ্কারের আগে অস্থায়ীভাবে রাখার জন্য ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ জন ধারণক্ষমতার সাতটি বিশাল গুদাম ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব গুদাম লুইজিয়ানা, ভার্জিনিয়া, টেক্সাস, অ্যারিজোনা, জর্জিয়া ও মিসৌরিতে অবস্থিত।
আইস দাবি করছে, নতুন এসব স্থাপনা “দক্ষতা বাড়াবে, খরচ কমাবে, প্রক্রিয়াকরণের সময় ও আটক থাকার মেয়াদ কমাবে এবং বহিষ্কার প্রক্রিয়া দ্রুত করবে—একই সঙ্গে হেফাজতে থাকা সবার নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করবে।”
তবে এসব পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ইউজিন ভিন্ডম্যান ভার্জিনিয়ার স্ট্যাফোর্ডে প্রস্তাবিত একটি ‘মেগা ডিটেনশন সেন্টার’-এর বিরোধিতা করেন, যেখানে সর্বোচ্চ ১০,০০০ মানুষ রাখা হতে পারে।
এক বিবৃতিতে ভিন্ডম্যান বলেন, “আমার পরিবার ও আমি সাবেক সোভিয়েত ইউক্রেনের দমন-পীড়ন থেকে পালিয়ে মাত্র ৮০০ ডলার নিয়ে এই দেশে এসেছিলাম—আমেরিকান ড্রিমের খোঁজে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা তখনই সেরা জাতি হই, যখন সবাইকে মর্যাদা ও সম্মান দিয়ে দেখি।”
ভিন্ডম্যানের ভাষায়, “নিরাপদ সীমান্ত রাখা সম্ভব, নিষ্ঠুর না হয়েও। স্ট্যাফোর্ডে প্রস্তাবিত এই কেন্দ্রটি নিষ্ঠুরতার চূড়ান্ত উদাহরণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ইচ্ছারও পরিপন্থী।”