যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতাদেশ বাতিলের দাবিতে মামলা

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪০


যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন অধিকার সংগঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য জারি করা অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতাদেশ বাতিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা এ নির্দেশনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এটি জাতিগত ও জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে ‘পাবলিক চার্জ’ সংক্রান্ত নীতির নামে অপ্রমাণিত ও অসত্য ধারণার ওপর ভিত্তি করে কিছু দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছেÑএই অভিযোগও মামলায় তোলা হয়েছে।
কী আছে নতুন নির্দেশনায় : গত ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এ নির্দেশনার আওতায় বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা ইস্যু অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। যদিও আবেদনকারীরা এখনো ভিসার জন্য আবেদন ও কনসুলার সাক্ষাৎকার দিতে পারছেন, তবে ‘পাবলিক চার্জ’ মানদণ্ড পুনর্মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখা হয়েছে।স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ব্রাজিল, রাশিয়া, ইরান ও সোমালিয়ার মতো দেশ রয়েছে।
আদালতে মামলা : ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ব্যক্তিকেন্দ্রিক ‘পাবলিক চার্জ’ বিশ্লেষণ পদ্ধতি কার্যত বাতিল করে জাতীয়তার ভিত্তিতে একটি সামগ্রিক ও স্বয়ংক্রিয় প্রত্যাখ্যান নীতি চালু করা হয়েছে, যা আইনবিরোধী।
মামলার আবেদনে বলা হয়-
* ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিবাসী ভিসা স্থগিত করা হচ্ছে
* কনসুলার কর্মকর্তাদের জন্য ‘পাবলিক চার্জ’ নির্ধারণে অতিরিক্ত কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেখানে আয়, চিকিৎসা ইতিহাস ও সরকারি সুবিধা ব্যবহারের বিষয়গুলো কংগ্রেস নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে
* Immigration and Nationality Act অনুযায়ী যে ব্যক্তিগত মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক, তা উপেক্ষা করে সার্বিক প্রত্যাখ্যান কার্যকর করা হচ্ছে
সংবিধান ও প্রশাসনিক আইনের পরিপন্থী
মামলায় আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে—এই নীতির ওপর প্রাথমিক ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক এবং একে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রসিজার অ্যাক্ট (APA) ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পরিপন্থী ঘোষণা করা হোক।
মানবিক প্রভাব
মামলার একজন বাদি, নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের এক মার্কিন নাগরিক, আদালতে জানানÑতিনি বর্তমানে তার স্ত্রী ও ছোট কন্যা থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন। স্ত্রীর ভিসা সাক্ষাৎকারের জন্য তিনি গুয়াতেমালায় গিয়েছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এলেও কনসুলেট থেকে তার স্ত্রী ড্যানিয়া মারিয়েলা এসকোবারকে জানানো হয়, তিনি আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
বড় প্রশ্নের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর আরোপিত এই স্থগিতাদেশ শুধু ভিসা প্রক্রিয়াকেই সীমিত করছে না; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি, মানবাধিকার এবং সংবিধানস্বীকৃত অধিকার নিয়েও বড় প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।