
ওয়াশিংটন থেকে—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ ঘিরে কংগ্রেস কক্ষে উত্তেজনার রেশ কাটেনি। ভাষণ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন ডেমোক্র্যাট সদস্যদের আচরণকে “লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেছেন।
নিউজম্যাক্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জনসন বলেন, ভাষণ চলাকালে ডেমোক্র্যাট সদস্যদের কেউ কেউ উচ্চস্বরে মন্তব্য ছুঁড়ে দেন, কেউ প্রতিবাদী বার্তা লেখা পোশাক পরে উপস্থিত হন, আবার অনেকে অধিবেশনেই আসেননি। তাঁর ভাষায়, “আমি চাই আমেরিকার মানুষ দেখুক—তারা নিজের ওপর কী লজ্জা ডেকে আনছে।”
স্পিকার জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি চাইলে কয়েকজন সদস্যকে কক্ষ থেকে বহিষ্কারও করতে পারতেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিস্থিতি “খুব দক্ষতার সঙ্গে” সামাল দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবেই তিনি কঠোর পদক্ষেপ নেননি, যাতে জনগণ নিজেই ঘটনাপ্রবাহ মূল্যায়ন করতে পারে।
জনসনের দাবি, ডেমোক্র্যাটরা “ভুল সময়ে দাঁড়িয়েছেন, আর যখন দাঁড়ানো উচিত ছিল তখন বসে থেকেছেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, কর্মজীবী পরিবারের জন্য করছাড় প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েও তারা করতালি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “এটি ছিল আমেরিকান জনগণের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় করবৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নেওয়া, অথচ তারা নিজেদেরই অভিনন্দন জানিয়েছে।”
স্পিকার জনসন বলেন, এসব আচরণ রিপাবলিকানদের জন্য আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রচার-উপকরণ হিসেবে কাজ করবে। “এই ভিডিও ভবিষ্যতে আমাদের জন্য খুবই মূল্যবান হবে,” মন্তব্য করেন তিনি।
ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছর ছিল “যুগান্তকারী প্রত্যাবর্তন।” জনসনও সেই বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসনের কাছ থেকে তারা “একটি বিশৃঙ্খল অবস্থা” উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন। তাঁর দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই রিপাবলিকানরা কাজ শুরু করেছে এবং জনগণের জন্য ফল দিতে পেরেছে, তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিতে আরও সময় প্রয়োজন।