
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক তেলের দাম ওঠানামার প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে লেনদেনের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সূচকই নিম্নমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়েছে।
দিন শেষে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সামান্য কমে শূন্য দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ বা ৩৪ দশমিক ২৯ পয়েন্ট হারিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৭০৬ দশমিক ৫১ পয়েন্টে। একইভাবে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ বা ১৪ দশমিক ৫১ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ৭৮১ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে নেমে আসে।
অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক সামান্য বেড়ে শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বা ১ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২২ হাজার ৬৯৭ দশমিক ১০ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
বাজারে অস্থিরতা কিছুটা কমে আসায় বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কের সূচক হিসেবে পরিচিত ভোলাটিলিটি ইনডেক্স (ভিআইএক্স) ২ দশমিক ২৪ শতাংশ কমে ২৪ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে নেমে আসে।
দিনভর তেলের দামের নাটকীয় ওঠানামায় দোলাচলে ছিল শেয়ারবাজার। আন্তর্জাতিক বাজারে মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম দিনের শুরুতে সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। ইরান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিতে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এই দাম বাড়ে।
তবে পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ায় তেলের দাম দ্রুত কমে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার ইঙ্গিত দেন যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ খুব শিগগির শেষ হতে পারে।
এরপর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমে প্রায় ৮৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) প্রায় ৭ শতাংশ কমে প্রায় ৮৭ ডলারে নেমে যায়। এর আগে রাতের লেনদেনে দুই ধরনের তেলের দামই ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, যা ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর সর্বোচ্চ।