যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহে ৬ বাংলাদেশির অপমৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৪৭

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে অপমৃত্যুর সংখ্যা। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়ায় পৃথক চারটি ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছেন ৬ জন বাংলাদেশী। এসব দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন। নিহত ৬ জনের মধ্যে ৪ জনই বয়সে তরুণ।
চারটি পৃথক ঘটনার মধ্যে দুটি সড়ক দুর্ঘটনার একটি নিউইয়র্ক সিটিতে এবং অপরটি সংঘটিত হয় নিউইয়র্ক স্টেটের রাজধানী আলবানীতে। নিউইয়র্ক সিটিতে গত ২৯ মার্চ মধ্যরাতে রাস্তা পার হওয়ার সময় গার্বেজ ট্রাকে চাপা পড়ে মৃত্যুর শিকার হন ১৯ বছর বয়সী বাংলাদেশী তরুণী নিশাত জান্নাত। অপরদিকে ৬ এপ্রিল আলবানীতে মারাত্নক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশী একই পরিবারের বাবা-ছেলে সহ করুণ মৃত্যুর শিকার হন তিনজন। এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ হিরামন এবং তার ২৯ বয়সী পুত্র গাড়ী চালক নাজমূল রুবেল ও তার ২৫ বয়সী বন্ধু ফাহিম হালিম। গুরুতর আহত হন ৩৩ বছর বয়সী রত্না আকতার ও তার এক বছরের শিশু কন্যা ইকরা আয়াত। দুর্ঘটনায় জড়িত অপর গাড়ীর যাত্রী জুলিয়া রিচিত নিহত হন ঘটনাস্থলে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে ফ্লোরিডার ফোর্টমায়ার্স শহরে গত ৪ এপ্রিল। এদিন ভোরে স্থানীয় একটি গ্যাস স্টেশনে কৃষ্ণাঙ্গ দুর্বৃত্ত হাতুড়ি দিয়ে পৈচাশিকভাবে পিটিয়ে হত্যা করে বাংলাদেশী নারী নিলুফার ইয়াসমীনকে। বাংলাদেশী মালিকানাধীন গ্যাস স্টেশনের কর্মী নিলুফার (৪৮) এর হত্যাকান্ডের ভিডিও চিত্র দেখে আঁতকে উঠেছে মানুষ। চতুর্থ মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে ক্যালিফোর্নিয়ার মেরিনা ডেলরে এলাকায় একটি এপার্টমেন্টে। গত ৬ এপ্রিল ভবনটি থেকে উদ্ধার করা হয় বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুণ ইঞ্জিনিয়ার ৩২ বছর বয়সী সাকিব আলীর মরদেহ। বাসায় তিনি একাই বসবাস করতেন।
পৃথক এসব অপমৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে আমেরিকান বাংলাদেশী কমিউনিটিতে। দাবি উঠেছে নিলুফার খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ও সড়ক দুর্ঘটনার ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির। তবে সবচেয়ে বেশী ভীতির কারণ হয়ে উঠেছে সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণীদের অপমৃত্যুর ঘটনাগুলো। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটিতে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এ ধরণের মৃত্যুর সংখ্যা। বিশেষ করে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সের অনেক সন্তানকে হারিয়েছেন বাংলাদেশী কমিউনিটির মা-বাবা। সন্তানের শোকে এখন তারা অনেকেই পাগল প্রায়। এসব মৃত্যুর বেশিরভাগ ঘটনা ঘটছে হতাশা ও নৈরাশ্য, একাকীত্ব থেকে। ভিন্ন প্রতিবেশ ও পরিবারের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারায় এবং অসৎ সঙ্গের কারণেও ঘটছে অনেক ঘটনা। এসব কারণে সন্তানদের নিয়ে অভিভাবকগণ বরাবরই থাকেন উদ্বেগ উৎকন্ঠায়।
মৃত্যুর কোন কাল নেই। তাই অকাল মৃত্যু বলে কিছু নেই। কিন্তু পরিবার ও সমাজে অহরহ ঘটছে অস্বাভাবিক বা অপমৃত্যুর ঘটনা। বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান যেমন শক্তিমত্তাসহ সবকিছুর শীর্ষে, তেমনি অপমৃত্যুর শীর্ষেও রয়েছে এ দেশটি। বিশেষ করে আত্মহত্যা, বন্দুক সহিংসতা, খুন-হত্যা ও সড়ক দুর্ঘটনাজনিত কারণে এদেশে প্রতিবছর অপমৃত্যুর শিকার হন কয়েক লক্ষ মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রেও অসুস্থতার কারণে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে হৃদরোগে। প্রতি ৩৪ সেকেন্ডে হৃদরোগে প্রাণহারান একজন আমেরিকান। বার্ষিক মৃত্যুর হার এদেশে ৯.২৮ শতাংশ। গত আয়ু ৭৭.৫ বছর। যদিও পুরুষরা নারীদের আগে শিকার হন মৃত্যুর। যুক্তরাষ্ট্রের অপমৃত্যুর পরিসংখ্যান ভয়াবহ। এদেশেও অনেক ক্ষেত্রে গ্যারান্টি নেই স্বাভাবিক মৃত্যুর।
শুধুমাত্র ২০২২ সালে এদেশে আত্নহত্যার পথ বেছে নেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। যাদের সিংহভাগই নিজ বন্দুককে আত্নহননের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। এদেশে গড়ে প্রতিদিন ১২০জন নিহত হন বন্দুক সহিংসতায়। এছাড়াও নানাভাবে বছরে খুনের শিকার ২০২৩ সালে ৪২ হাজার মানুষ। একই বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৪৩ হাজার প্রাণহানি ঘটে সড়ক দুর্ঘটনায়। এদেশে জনসংখ্যার উল্লেখ্যযোগ্য একটি অংশ অপরাধপ্রবণ। তবে আইনের শাসনের কঠোরতার কারণে এর বর্হিপ্রকাশ সীমিত। তারপরও উন্নত জীবন ও জীবিকার অন্বেষণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো মানুষ পাহার-সমুদ্র পেরিয়ে জীবনের ঝুঁিক নিয়ে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রে। বাংলাদেশীরাও পিছিয়ে নেই এই প্রতিযোগিতায়। ধারণা করা হয় ১০ লক্ষাধিক বাংলাদেশীর বসবাস এখন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে। জনসংখ্যার ঘনত্বেও আনুপাতিকে বাংলাদেশীরাও এখন সর্বত্র স্পষ্টত দৃশ্যমান।
বাংলাদেশী আমেরিকান তরুণ প্রজন্ম এখন অনেক কিছুতেই অগ্রসরমান। ভালো-মন্দ সবমিলিয়ে বাংলাদেশী কমিউনিটিও অনেকটা মিশে গেছে মূল ধারায়। ঘটনা-দুর্ঘটনা কমবেশী সব কমিউনিটিতেই ঘটেছে। তবে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে অপমৃত্যুর ঘটনা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশী। তাছাড়া বাংলাদেশীরা নিজেদের কমিউনিটির সুখ-দুঃখ এবং অনাকাংখিত ঘটনার বরাবরই স্পর্শকাতর। একারণেই তাদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা এতো প্রবল। তাই প্রতিটি অস্বাভাবিক মৃত্যু ও দুঘর্টনায় বাংলাদেশীরা হয়ে উঠেন আবেগপ্রবণ। নিলুফারদের করুণ মৃত্যু নীরবে কাঁদায় তাদেরকে।
ট্রাকের ধাক্কায় বাংলাদেশি তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু
বাংলাদেশ ডেস্ক : নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। ২৯ মার্চ রোববার গভীর রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি গারবেজ ট্রাকের ধাক্কায় তিনি নিহত হন বলে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। নিহত তরুণীর নাম নিশাত জান্নাত। তার বাবা হেলাল আহমদ কুইন্সের উডসাইড এলাকার বায়তুল জান্নাহ জামে মসজিদের ইমাম।পুলিশ জানায়, উডসাইডের রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ ও ৬২তম স্ট্রিটের সংযোগস্থলে (বাংলাদেশি মালিকানাধীন গ্রোসারি ‘ফুড ফেয়ার’-এর সামনে) রাত প্রায় ১১টা ৫৫ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সে সময় নিশাত ক্রসওয়াক দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। পশ্চিমমুখী রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ দিয়ে আসা ‘রয়্যাল ওয়েস্ট সার্ভিসেস’-এর একটি স্যানিটেশন ট্রাক ডান দিকে ঘুরে ৬২তম স্ট্রিটের উত্তরমুখী লেনে ওঠার সময় তাকে ধাক্কা দেয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সংযোগস্থলের উত্তর পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই জরুরি সেবা (ইএমএস) কর্মীরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় বোন নওশিন জান্নাত সোমবার সকালে পরিবারের কুইন্সের বাসায় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমার বাবা-মা ভেঙে পড়েছেন। ঘরের ভেতর সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।”তিনি জানান, নিশাত জ্যামাইকার পারসন্স বুলেভার্ডে একটি পার্কিং গ্যারেজে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন এবং কালো ইউনিফর্ম পরতেন। রোববার রাত ১১টার দিকে কাজ শেষে ছোট বোনের জন্য কেক আনতে তিনি উডসাইড ট্রেন স্টেশনে নামেন। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় এবং বাসায় না ফেরায় নওশিন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে নিশাতের ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে রাত প্রায় ২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারপাশে পুলিশ দেখতে পান।নওশিন আরও বলেন, “আমার বোন খুব আশাবাদী ছিল। সে সবসময় মানুষকে বলত-আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে।” নিশাত তার দুই ছোট বোনÑযাদের বয়স ৯ ও ৪ বছর-রেখে গেছেন।বোনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “সে বলতÑআশা রাখো। মৃত্যু যেকোনো সময় আসতে পারে, তাই প্রস্তুত থাকো। বর্তমানেই বাঁচো, এই মুহূর্তের জন্য বাঁচো। অতীত বা ভবিষ্যতে আটকে থেকো না।”
দুর্ঘটনায় জড়িত স্যানিটেশন ট্রাকটির ৩৮ বছর বয়সী নারী চালক ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং সামান্য আঘাতের জন্য চিকিৎসা নেন।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের হাইওয়ে ডিস্ট্রিক্টের কলিশন ইনভেস্টিগেশন স্কোয়াড বিষয়টি তদন্ত করছে।‘রয়্যাল ওয়েস্ট সার্ভিসেস’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েস্ট কানেকশনস’-এর এক মুখপাত্র বলেন, “কুইন্সে আজ সকালে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহতের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা রইল। চলমান তদন্তের স্বার্থে এবং সংশ্লিষ্টদের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করছি না।”
এদিকে, কুইন্সের উডসাইড এলাকার বায়তুল জান্নাহ জামে মসজিদে ৩১ মার্চ মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর নিশাতের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন তার বাবা হেলাল আহমদ। জানাজায় নিহতের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবসহ বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ও অন্যান্য মুসলিম কমিউনিটির মানুষ অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের প্রতিনিধি ও স্থানীয় অ্যাসেম্বলি সদস্যের প্রতিনিধিরা। জানাজাস্থলজুড়ে ছিল শোকের আবহ; অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নিহতের বাবা হেলাল আহমদ সন্তানের অকালমৃত্যুতে শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তিনি সন্তানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চান। জানাজা শেষে মরদেহ নেওয়া হয় নিউ জার্সির একটি মুসলিম কবরস্থানে, যেখানে তাকে দাফন করা হয়। শেষ বিদায়ে সেখানে উপস্থিত হন স্বজন ও কমিউনিটির অসংখ্য মানুষ।উল্লেখ্য, নিহত নিশাত জান্নাতের পরিবার ২০১৭ সালে অভিবাসী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসে। তাদের দেশের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ এলাকায়।
বাবা-ছেলেসহ নিহত তিন
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্যের আপস্টেট অঞ্চলে রাজধানী আলবানীর কাছাকাছি এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২ জন, যাদের মধ্যে রয়েছে এক বছর বয়সী একটি শিশু ও নারী রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাবা ও ছেলে রয়েছেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ক্ল্যাভারাক এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বাংলাদেশীরা নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কস থেকে আপস্টেট যাচ্ছিলেন এবং তাদের দেশের বাড়ী কুমিল্লা বলে জানা গেছে। মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনায় নিউইয়র্কের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা হলেন- লাউডনভিলের বাসিন্দা নাজমুল রুবেল (২৯), ব্রঙ্কসের মোহাম্মদ হেরামন (৬০) ও ফাহিম হালিম (২৫)। তারা তিনজন বাংলাদেশী ও অপর একজন ৬২ বছর বয়সী জুলিয়া রিচি। খবর ইউএনএ’র।
কলম্বিয়া কাউন্টি শেরিফ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ক্লেভেরাক এলাকায় দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় চারজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং আরও দুইজন গুরুতরভাবে আহত হন। সোমবার (৬ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার ঠিক আগে ভ্যান উইক লেনের কাছে স্টেট রুট ৯এইচ-এ এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।পুলিশ জানায়, ২০০৯ মডেলের টয়োটা প্রিয়াসস্টেট রুট ৯এইচ ধরে উত্তর দিকে যাচ্ছিলো। গাড়ীটি চালাচ্ছিলেন নাজমুল রুবেল। হঠাৎ তার গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত লেনে চলে যায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ২০২৫ মডেলের টয়োটা ক্রাউন গাড়ির সঙ্গে তার গাড়ির সরাসরি সংঘর্ষ হয়।
নিহতের ছোট ভাই মোহাম্মদ আজমুল রাব্বি মিডিয়ার সাথে আলাপকালে জানান, নিউইয়র্ক সিটি থেকে আলবানী যাওয়ার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাবা মোহাম্মদ হিরামন, বড় ভাই নাজমুল এম. রুবেল এবং তার প্রিয় বন্ধু ফাহিম হালিম নিহত হয়েছেন।রাব্বি আরও জানান, গাড়িতে থাকা তার বোন ফাতিমা আক্তার (৩৩) এবং এক বছরের ভাতিজি ইকরা আয়াতও ওই দুর্ঘটনায় আহত হন। বর্তমানে তারা আলবানী মেডিক্যাল সেন্টারের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনায় আহত টয়োটা ক্রাউন গাড়িটির চালক লুক পালভেনিয়ানকে (২৪) অ্যাম্বুলেন্সে করে আলবানী মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে ক্রাউন গাড়িটিতে থাকা ৬২ বছর বয়সী নারী জুলিয়া রিচিকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়।
কলম্বিয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ডেপুটি, তদন্তকারী এবং শেরিফের কার্যালয়ের দুর্ঘটনা তদন্তকারী দল দুর্ঘটনাটি তদন্ত করছে। ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে শেরিফ জ্যাকি সালভাতোরে বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি দুর্ঘটনা। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছানোর আগেই আশপাশের অনেক বাসিন্দা শব্দ শুনে ছুটে আসেন। উদ্ধার কাজে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও রেসকিউ ইউনিট অংশ নেয়। দুর্ঘটনার পর প্রায় চার ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের নামাজে জানাজা বুধবার (৮ এপ্রিল) বাদ জোহর ব্রঙ্কসের বাইতুল আমান ইসলামিক সেন্টার (২৩৫১ নিউবোল্ড অ্যাভিনিউ, ব্রঙ্কস, নিউইয়র্ক ১০৪৬২)-এ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে।
ফ্লোরিডায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা
বাংলাদেশ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্স শহরে নীলুফার ইয়াসমিন নামে এক বাংলাদেশি নারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রোলবার্ট জোয়াচিনকে গ্রেপ্তার করেছে ফোর্ট মায়ার্স পুলিশ। বর্তমানে তাকে লি কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে। নিহত নীলুফার ইয়াসমিন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বুলেভার্ডে অবস্থিত বাংলাদেশি মালিকানাধীন ডি অ্যান্ড ডি কনভিনিয়েন্স স্টোরে ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ৪ এপ্রিল শনিবার সাউথ ফ্লোরিডার মুসলিম কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
দোকানটির ম্যানেজার ও সহপ্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ শিপু গণমাধ্যমকে জানান, ৪৮ বছর বয়সী নীলুফার প্রায় তিন মাস আগে ওই দোকানে যোগ দেন। তার গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নে। তিনি দুই কন্যাসন্তানের জননী-যাদের বয়স ১৬ ও ২০ বছর।
দোকানসংলগ্ন স্থাপনার মালিক ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডার সাধারণ সম্পাদক আরিফ আহমেদ আশরাফ জানান, দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গত ৩১ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অভিযুক্ত রোলবার্ট জোয়াচিন এটিএম মেশিন থেকে টাকা তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে তিনি ক্যাশিয়ারের কাছে টাকা দাবি করেন। জবাবে নীলুফার ইয়াসমিন জানান, এটি তার মেশিন নয় এবং তিনি কোনো অর্থ দিতে পারবেন না।

এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখান থেকে চলে যান।এরপর ২ এপ্রিল ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে ফজরের নামাজ শেষে নীলুফার ইয়াসমিন দোকানের বাইরে গাড়ি ভাঙচুরের শব্দ শুনে বের হয়ে আসেন। তিনি এগিয়ে গিয়ে কী ঘটছে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জোয়াচিন ‘আমার টাকা দাও’ বলে চিৎকার করে তার ওপর হামলা চালায় এবং হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সকাল ৭টা ১৪ মিনিটে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে নীলুফারের গাড়ির উইন্ডশিল্ড ভাঙচুর করে। এরপর তিনি বাইরে এলে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।ঘটনার পর ফোর্ট মায়ার্স ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিসেস (ইএমএস) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নীলুফার ইয়াসমিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফোর্ট মায়ার্স পুলিশ তাদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, অভিযুক্ত রোলবার্ট জোয়াচিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা ও সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় কারও কাছে অতিরিক্ত তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।জানা গেছে, অভিযুক্ত জোয়াচিন (৪০) একজন গৃহহীন ব্যক্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
ক্যালিফোর্নিয়ায় তরুণের মরদেহ উদ্ধার
বাংলাদেশ ডেস্ক : ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক তরুণ সফটওয়্যার প্রকৌশলীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের মেরিনা ডেল রে এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ প্রকৌশলী শাকিব আলীর (৩২) মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। তিনি সেখানে একাই বসবাস করতেন বলে জানা গেছে। তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।
তবে প্রাথমিকভাবে অনেকেই হৃদরোগজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন। নিহত শাকিব আলী জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সুপরিচিত চিকিৎসক, আটলান্টাপ্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা)-এর কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী মানিক ও শাকিরা আলী বাচ্চির একমাত্র ছেলে। বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, শাকিবের সঙ্গে তার বাবা-মায়ের প্রায় প্রতিদিনই যোগাযোগ হতো। তবে গত তিন থেকে চার দিন ধরে একাধিকবার ফোন করেও তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। এতে পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ও আশঙ্কা দেখা দেয়। পরে সোমবার সকালে তারা ক্যালিফোর্নিয়ার মেরিনা ডেল রে-তে শাকিবের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে তার মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।শাকিব আলী পেশায় একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তিনি আমাজনে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। চাকরির সুবাদে মাত্র ছয় মাস আগে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় যান।
এদিকে প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণ সাকিবের মরদেহ হস্তান্তর ও জানাজা সংক্রান্ত নতুন সূচি জানা গেছে । পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ৮ এপ্রিল বুধবার সাকিবের মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে রিলিজ হয়ে সংশ্লিষ্ট ফিউনারেল হোমে পৌঁছার কথা। একই দিন লস অ্যাঞ্জেলেসে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।পরবর্তী ধাপে ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার মরদেহটি আটলান্টায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ১০ এপ্রিল শুক্রবার সেখানে প্রধান জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।