
নিউইয়র্ক কুইন্সের উডসাইডে রুজভেল্ট অ্যাভিনিউয়ে একটি বেসরকারি স্যানিটেশন ট্রাকের ধাক্কায় ১৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি তরুণী নিশাত জান্নাতের মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রায় নয় সপ্তাহ পর ৩ জুন বুধবার চালককে গ্রেফতার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ।
২৯ মার্চ রাত প্রায় বারোটার দিকে মেয়রা ক্রুজ নামের ৩৯ বছর বয়সী এক ব্রঙ্ক্স নিবাসী নারী রয়্যাল ওয়েস্ট সার্ভিসেসের একটি গার্বেজ ট্রাক চালিয়ে রুজভেল্ট অ্যাভিনিউয়ের পূর্বমুখী লেন থেকে ৬২ স্ট্রিটে উত্তর দিকে মোড় নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে নিশাত জান্নাত ৬২ স্ট্রিটের উত্তর পাশের ক্রসওয়াক দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। ট্রাকটি সরাসরি তাকে ধাক্কা দেয় এবং তিনি ট্রাকের নিচে আটকে যান। ১০৮ প্রিসিংক্টের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে অচেতন অবস্থায় ট্রাকের ডানপাশে আটকে পড়া দেখতে পায়। ঘটনাস্থলেই ইএমএস তাকে মৃত ঘোষণা করে।
মৃত্যুর আগের মুহূর্তগুলো ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। উডসাইডের ৫৫ স্ট্রিটের বাসিন্দা নিশাত জান্নাত সেদিন রাতে জামাইকার পার্সনস বুলেভার্ড পার্কিং গ্যারেজে রিসেপশনিস্টের কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তিনি ছোট বোনের জন্মদিনের কেক কিনতে থেমেছিলেন। বাড়ি থেকে মাত্র আধা মাইল দূরে, একটি ভাঙা ক্রসওয়াকে পার হতে গিয়ে তাকে এই মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হতে হয়।
দুর্ঘটনার পর থেকে এনওয়াইপিডির হাইওয়ে ডিস্ট্রিক্টের কলিশন ইনভেস্টিগেশন স্কোয়াড তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর গত ৩ জুন সকালে মেয়রা ক্রুজকে গ্রেফতার করে বেসাইডের ১১১ প্রিসিংক্টে বুক করা হয়। তার বিরুদ্ধে পথচারীকে পথ না ছেড়ে দেওয়া এবং যথাযথ সতর্কতা না নেওয়ায় গুরুতর আঘাতের কারণ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে একটি ডেস্ক অ্যাপিয়ারেন্স টিকিট দেওয়া হয়েছে, আগামী ২৩ জুন তাকে আদালতে হাজির হতে হবে।
নিশাতের মৃত্যু উডসাইডের বাংলাদেশি কমিউনিটিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। গত ১৫ মে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং কমিউনিটি বোর্ড ২-এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। যেখানে রুজভেল্ট অ্যাভিনিউয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির দাবি তোলা হয়। ভাঙা ক্রসওয়াক, অপর্যাপ্ত আলো এবং ভারী যানবাহন চলাচলের বিপজ্জনক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ নতুন করে সামনে আসে এই ঘটনার পর। কমিউনিটির পক্ষ থেকে সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে আর কোনো নিশাত জান্নাতকে এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়।