বিদেশি চিকিৎসকদের জন্য ছাড় দিল ট্রাম্প প্রশাসন, অনিশ্চয়তায় এখনও হাজারো অভিবাসী

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১০ মে ২০২৬, ১২:৫৩


ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি চিকিৎসকদের ভিসা ও গ্রিন কার্ড আবেদন পর্যালোচনার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত কেবল চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য — হাজারো গবেষক, উদ্যোক্তা এবং অন্যান্য পেশাজীবী এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS) গত সপ্তাহে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই তাদের ওয়েবসাইট আপডেট করে জানায় যে চিকিৎসকরা এখন থেকে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিতাদেশের আওতামুক্ত। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এই পরিবর্তন নিশ্চিত করে বলেছে, "চিকিৎসকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলো প্রক্রিয়াকরণ অব্যাহত থাকবে।"
তবে এই ছাড়ের পরিধি সীমিত — এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে অবস্থানরত বিদেশি চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বাইরে থাকা চিকিৎসকরা এখনও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন।
২০২৫ সালের জুনে প্রথমে ১৯টি দেশকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়, এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তা ৩৯টি দেশে সম্প্রসারিত করা হয়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে এবারের নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কর্মরত মানুষদের উপরেও প্রযোজ্য হয়েছিল, যা আগে কখনো হয়নি।
এই স্থগিতাদেশ শুরু হয়েছিল একজন আফগান নাগরিক কর্তৃক দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর, যেটিকে প্রশাসন "অপর্যাপ্ত যাচাই-বাছাইয়ের" উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে।
২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জারি করা একটি নির্বাহী আদেশে H-1B ভিসার জন্য এক লক্ষ ডলার ফি নির্ধারণ করা হয়। তবে আদেশে বলা হয়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি "জাতীয় স্বার্থে" বিবেচনা করলে এই ফি মওকুফ করতে পারবেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, চিকিৎসক ও মেডিকেল রেসিডেন্টরা এই ফি থেকেও অব্যাহতি পেতে পারেন, তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়।
লিবিয়ান চিকিৎসক ফায়সাল আলগুলা ইন্ডিয়ানার প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায় এক হাজার রোগীর চিকিৎসা করেন। তাঁর গ্রিন কার্ড নবায়ন আটকে ছিল এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা না হলে তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। নতুন ছাড়ের ফলে তাঁর আবেদন এখন বিবেচিত হতে পারে। তবে আলগুলা বলেন, অনেক অভিবাসীকে কাগজপত্র নবায়নের সাক্ষাৎকারেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে — এমন খবর শুনে তিনি এখনও আতঙ্কিত।
ইরানি চিকিৎসক জাহরা শোকরি ভার্নিয়াব তিন বছর আগে রেডিওলজি গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তিনি গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু তা আটকে যায়। পরে আদালতের নির্দেশে আবেদন পর্যালোচনা হলেও শেষমেশ তা নাকচ করা হয়। তিনি মনে করেন, মামলা করার কারণেই তাঁকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের অনেক অভিবাসী কর্মসংস্থানের অনুমতি না পেয়ে কাজ করতে পারছেন না। ইরান থেকে আসা কাভেহ জাভানশির সাত বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করছেন। জানুয়ারিতে একটি ল্যাব চাকরি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কর্মসংস্থানের অনুমতি না থাকায় তা আর হয়নি। বন্ধুদের কাছ থেকে ধার করে ভাড়া দিচ্ছেন তিনি। এই গ্রীষ্মে তাঁর স্ত্রীরও পিএইচডি শেষ হবে — এবং তিনিও একই সমস্যায় পড়বেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন যে বিদেশি চিকিৎসকরা অনুপাতহীনভাবে অবহেলিত এলাকায় সেবা দেন। অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো বৈধ অভিবাসীদের জীবনকে এতটাই কঠিন করে দিচ্ছে যে তারা নিজেরাই দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।