
নিউইয়র্ক সিটিতে ইহুদিবিদ্বেষ ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশল ঘোষণা করেছে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন। মঙ্গলবার প্রকাশ করা ৩০ পৃষ্ঠার পরিকল্পনায় ঘৃণাজনিত অপরাধ প্রতিরোধ, নিরাপত্তা জোরদার, ইহুদি ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে শিক্ষা এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভিডিও বার্তায় মেয়র মামদানি বলেন, নিউইয়র্কের ইহুদি বাসিন্দাদের নিরাপদ ও সম্মানিত বোধ করার অধিকার রয়েছে। ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলা শুধু একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিষয় নয়, এ ক্ষেত্রে নগর সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নগর প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের মোট জনসংখ্যার আনুমানিক ১০ থেকে ১২ শতাংশ ইহুদি। তবে ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত ঘৃণাজনিত অপরাধের প্রায় অর্ধেকই ইহুদিদের লক্ষ্য করে সংঘটিত হয়েছে। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২২৯টি ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি।
পরিকল্পনায় ঘৃণাজনিত সহিংসতা প্রতিরোধ ও ভুক্তভোগীদের সহায়তায় ৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। ইহুদি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আরও ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার এবং উপাসনালয় ও হিব্রু স্কুলের নিরাপত্তায় ১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া নগর সংস্থাগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সমন্বয় বাড়ানো এবং স্কুলে ইহুদি ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে শিক্ষা সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ইহুদি ঐতিহ্য জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ বাড়ানো এবং নিউইয়র্কে ইহুদি সম্প্রদায়ের ইতিহাস ও অবদান নিয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিকল্পনায় কুইন্স হলোকাস্ট স্মৃতিসৌধ ও ব্রুকলিনের নতুন ইহুদি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের কথাও বলা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, ঘৃণাজনিত অপরাধ প্রতিরোধে অর্থায়ন গত বছরের তুলনায় ২৬ মিলিয়ন ডলার বাড়ানো হয়েছে।
তবে পরিকল্পনায় ইহুদিবিদ্বেষের কোনো আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। মেয়রের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, ইহুদিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা গ্রহণ অপরিহার্য নয়।
মামদানির ইসরায়েল-সংক্রান্ত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কিছু ইহুদি সংগঠন ও সমালোচক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, মেয়র বলেছেন, ইসরায়েল সরকারের নীতির সমালোচনা এবং ইহুদিবিদ্বেষ এক বিষয় নয়।
নতুন কৌশলের আওতায় নিরাপত্তা ও ঘৃণাজনিত অপরাধ মোকাবিলায় বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।