চট্টগ্রামে গুলি করে দুজনকে হত্যায় সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীর নামে মামলা

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০২ এপ্রিল ২০২৫, ১১:২১
গ্রেফতার সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী তামান্না শারমিন


চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় প্রাইভেটকারে গুলি চালিয়ে দুজনকে হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী তামান্না শারমিনকে হুকুমের আসামি করা হয়।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দুপুরে নগরের বাকলিয়া থানায় মামলাটি করেন নিহত বখতিয়ার হোসেন মানিকের মা ফিরোজা বেগম। মামলায় সাত জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ছয়-সাত জনকে আসামি করা হয়। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।  
ওসি বলেন, ‘মামলার আসামিদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। তারা কে কোথায় অবস্থান করছে, সে বিষয় জানার চেষ্টা করছি আমরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।’
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ জোনের উপকমিশনার শাকিলা সোলতানা  বলেন, ‘ডাবল মার্ডারের ঘটনায় বাকলিয়া থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ এবং তার স্ত্রীকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে মামলার আসামিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা।’
গত শনিবার (২৯ মার্চ) রাত পৌনে ৩টার দিকে নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় চার-পাঁচটি মোটরসাইকেল থেকে আট-নয় জন লোক এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে চট্টগ্রামের আরেক সন্ত্রাসী সারোয়ার হোসেন বাবলাকে বহনকারী প্রাইভেটকার ঝাঁঝরা করে ফেলে। এতে সারোয়ারের প্রাইভেটকার চালক বখতিয়ার হোসেন মানিক (৩০) ও তার সহযোগী আবদুল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তবে অক্ষত ছিলেন সারোয়ার ও তার সহযোগী রবিউল ইসলাম রবিন, ইমন ও হৃদয়। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ রবিন ও হৃদয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তবে সারোয়ার ও ইমন কোথায় চিকিৎসা নিচ্ছেন, তা জানাননি রবিন। নিহত ও আহতরা সবাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রবিন গত রবিবার বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, হামলাকারীদের টার্গেট ছিল প্রাইভেটকারে থাকা সারোয়ার হোসেন। মূলত তাকে হত্যার জন্য এভাবে গুলি চালানো হয়। এতে সারোয়ারের প্রাইভেটকার চালক মানিক এবং তার সহযোগী আবদুল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তবে অক্ষত আছেন সারোয়ার ও তার সহযোগীরা। 

হামলাকারীদের চিনতে না পারলেও সম্প্রতি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেনের লোকজন এর সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করছেন রবিন। তিনি বলেছিলেন, ‘সাজ্জাদের সঙ্গে সারোয়ার ভাইয়ের আগে থেকে দ্বন্দ্ব ছিল। সম্প্রতি সাজ্জাদের গ্রেফতার এবং রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝামেলা বেড়েছে। তাই সাজ্জাদের লোকজন সারোয়ারকে খুন করতে এ হামলা চালাতে পারে।’

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সারোয়ার হোসেন। ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্তি পান। তার বিরুদ্ধে ১৬টি হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা সারোয়ার।

গত ১৫ মার্চ রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে ঘোরাঘুরি করার সময় সাজ্জাদকে গ্রেফতার করেছিল তেজগাঁও থানা পুলিশ। এর আগে তাকে ধরতে গত ৩০ জানুয়ারি পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ। এর আগের দিন নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি আরিফুর রহমানকে ফেসবুক লাইভে এসে হুমকি দেন সাজ্জাদ। তাকে গ্রেফতারের পরদিন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তার স্ত্রী তামান্না শারমিনের বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তামান্না শারমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা কাঁড়ি কাঁড়ি, বান্ডিল বান্ডিল টাকা ছেড়ে আমার জামাইকে (স্বামী) নিয়ে আসবো। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’

পুলিশ জানায়, সাজ্জাদ হোসেন বিদেশে পলাতক ‘শিবির ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত আরেক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির ১৭টি মামলা রয়েছে। গত বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবরে আনিস, কায়সার ও আফতাব উদ্দিন নামের তিন বালু ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার মামলার আসামি তিনি।