
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তান মৃত্যুর পর প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি নেই বলে জানিয়েছেন সহকারী কারা মহাপরিদর্শক মো. জান্নাত-উল ফরহাদ।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সহকারী কারা মহাপরিদর্শক।
তিনি বলেন, প্যারোল সাধারণত কারা কর্তৃপক্ষ দেখে না, প্যারোল বাস্তবায়ন করেন কারা কর্তৃপক্ষ। তিনটা পার্টের মধ্যে আমরা একটা পার্ট। মূলত প্যারোল দেয় জেলা মাজিস্ট্রেট, এটা তার এখতিয়ার। আমাদের কাছে প্যারোলের আদেশ এলে, ওই আদেশের একটা অংশ হিসেবে বন্দিকে সংশ্লিষ্ট পুলিশের হাতে হস্তান্তর করি। প্যারোলের ক্ষেত্রে একটা নিদিষ্ট টাইম দেওয়া থাকে, ওই সময় অতিবাহিত হলে পুলিশ ওই বন্দিকে আবার আমাদের কাছে হস্তান্তর করে।
তিনি আরও বলেন, সাদ্দামের ক্ষেত্রে তার পরিবার বা আত্মীয়স্বজন প্যারোলের জন্য আবেদন করেছে কিনা এ বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষের জানার সুযোগ নেই। তবে আমাদের কাছে যখন তারা লাশটা দেখাতে সুযোগ দেব কিনা জানতে চায়, তখন আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে সাক্ষাৎ করার ব্যবস্থা করি৷ এক্ষেত্রে প্যারোলের বিষয়ে আমাদের সংশ্লিষ্টতা নেই। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আমাদের একটি পত্র দিয়েছেন। এছাড়াও একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দেখেছি সেখানেও তিনি বলেছেন প্যারলের জন্য কেউ আবেদন করেননি। কাজেই কারা কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি বা কাজের প্রতি কোনো অনীহা নেই। বরং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি।
এর আগে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে মাত্র পাঁচ মিনিট স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ পান নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম। শনিবার সন্ধ্যায় স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে পৌঁছায়।
জানা যায়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন সাদ্দাম। বর্তমানে একাধিক মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় তার ৯ মাস বয়সি শিশুসন্তান নাজিমের মরদেহ।