রয়টার্সকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান

জামায়াতে সঙ্গে ঐক্য সরকার নয়, একক জয়ে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি 

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৩

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠনে সক্ষম হবে বলে দলটির পূর্ণ আত্মবিশ্বাস রয়েছে। শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছেন।
ঐক্য সরকারের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী যদি বিরোধী দলে থাকে, তবে তিনি তাদের কাছ থেকে একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
আবার তারেক রহমানের সহযোগীরা বলেছেন, নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় লাভের বিষয়ে বিএনপি আশাবাদী। নির্বাচনে ২৯২টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাকি আসনগুলোতে তাঁদের জোট শরিকেরা লড়ছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হবে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছিল। সম্প্রতি জামায়াত জানিয়েছে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য তারা আবারও ঐক্য সরকার গঠনে আগ্রহী। তবে এবার সেই সম্ভাবনা তারেক রহমান স্পষ্টভাবে নাকচ করেছেন।
অন্যদিকে, নির্বাচনে জয়ী হলে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার ক্ষমতা রাখে এমন অংশীদারদের প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আমরা যদি সরকারে থাকি, তবে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে হবে, যাতে নতুন চাকরি তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন যাপন করতে পারে। তাই বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যেই জনগণ ও দেশের জন্য উপযুক্ত প্রস্তাব দেবে, তার সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখা হবে, কোনও নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়।
আবার শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরার প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, যদি জনগণ কাউকে গ্রহণ করে, স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার আছে।
রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি চান তারা নিজ দেশে ফিরুক, তবে নিরাপদ পরিবেশে। তিনি বলেন, যতক্ষণ পরিবেশ নিরাপদ হবে না, ততক্ষণ তারা এখানে স্বাগত।