নতুন রাজনীতির কথা বলার চেষ্টা করছি

জারা
ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:১৫


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা বলেছেন, মানুষের অসুবিধার কথা চিন্তা করে এলাকায় কোনো মাইকিং করছি না, কোনো শোডাউন (মহড়া) করছি না। কারণ মাইকিং, শোডাউন কিংবা ডিজিটাল ব্যানার দিয়ে শহরটা একেবারে ছেয়ে ফেলা জনসেবার জন্য করা হয় না। আমরা অলিতে-গলিতে, বাজারে, মহল্লায়, বাসায় গিয়ে নতুন রাজনীতির কথা বলার চেষ্টা করছি। 
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) মানিকনগর বিশ্বরোড এলাকায় গণসংযোগের সময় তিনি এসব কথা বলেন। 
জারা বলেন, একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের কাছে নিজের মার্কা (প্রতীক) চেনানো একটা বড় চ্যালেঞ্জ। নারী প্রার্থী হওয়ার একটা ইতিবাচক দিকও আছে।  নারীরা খুব স্বাচ্ছন্দ্যে আমার কাছে এসে তাদের সমস্যার কথা বলতে পারছেন। অনেকেই বলছেন- আমাদের কথা অন্য কেউ বুঝবে না, তুমি বুঝবে, মা।  এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। 
‘নেতিবাচক দিক হলো সাইবার বুলিং’ জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু আমি নই, জনজীবনে বা রাজনীতিতে সক্রিয় সব নারীই এর শিকার হচ্ছেন।  নারীদের জন্য রাজনীতির মাঠ নিরাপদ করতে আমাদের কাজ করতে হবে।
জারা বলেন, আধুনিক বর্জ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করতে, এলাকার পার্কগুলোতে হাঁটার পরিবেশ উন্নত করতে সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করব। এই যে বছরের পর বছর ধরে বাসার পাশে, হাসপাতালের পাশে, স্কুলের পাশে বর্জ্য পড়ে থাকে, এটা সিটি করপোরেশনের ব্যর্থতা। সিটি করপোরেশন যখন ফেল করছে, যখন দুর্ভোগ বাড়ছে। তখন মানুষ কার কাছে সমাধান চাইবে? সিটি করপোরেশন বলেন, তিতাস বলেন, ওয়াসা বলেন, তাদের জবাবদিহির মধ্যে কে নিয়ে আসবে? সংসদ সদস্য চাইলে এসব সেবা সংস্থাকে জবাবদিহির মধ্যে আনতে পারেন। নির্বাচিত হলে এটি আমার দায়িত্ব হবে।
নির্বাচনে জয়ী হলে নিজের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদে যেতে পারলে ‘নো সার্ভিস, নো বিল’ নীতির জন্য খসড়া আইন প্রস্তাব করব এবং চাপ সৃষ্টি করব। তিতাস যদি গ্যাস দিতে না পারে, তাহলে মাসিক বিল যাতে মওকুফ হয়, খসড়া আইনে সেই প্রস্তাব করব আমরা। সরকার যদি পাইপলাইনে গ্যাস দিতে ব্যর্থ হয়, সরকার তখন ভর্তুকি মূল্যে বা ন্যায্য দামে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করবে। সিন্ডিকেট করে যদি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়, তাহলে প্রশাসনকে চাপ দেব, যাতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।
তিনি বলেন, আমি পেশাদার রাজনীতিবিদ ছিলাম না। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের মতো পেশাজীবীদের রাজনীতিতে আসার সুযোগ করে দিল। গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো বহুমত। নির্বাচনের মাঠ কোনো ব্যক্তিগত দ্বৈরথের জায়গা নয়, এটি আদর্শ ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপনের মঞ্চ। আমার সাবেক সহকর্মী বা অন্য যারা প্রার্থী আছেন, তাদের প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। আমি মনে করি, যত বেশি যোগ্য প্রার্থী থাকবেন, ভোটারদের সামনে তত ভালো বিকল্প থাকবে। আমি আমার যোগ্যতা ও ভিশন দিয়ে মানুষের সমর্থন চাইব, ব্যক্তিগত কাদা-ছোড়াছুড়ি আমার রাজনৈতিক দর্শনের পরিপন্থি।