
র্যাব ও ডিজিএফআইয়ের বিরুদ্ধে গুম-খুনের মতো অপরাধের অভিযোগ তুলে সংস্থা দুটির বিলুপ্তি চেয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
ডিজিএফআইয়ের হাতে গুম-খুনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি এ দাবি করেন।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এর দুই সদস্যের বেঞ্চে অপর সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ইকবাল করিম বলেন, আমি মনে করি, র্যাব অবিলম্বে বিলুপ্ত করা দরকার। সেটি সম্ভব না হলে র্যাব থেকে সেনাসদস্যদের সামরিক বাহিনীতে ফেরত আনা হোক।
তিনি বলেন, আমি আরও চাই, ডিজিএফআইও বিলুপ্ত করা হোক। কারণ এই সংগঠনটি হত্যার মতো অপসংস্কৃতির জন্ম দেওয়ার পর ঠিক থাকার বৈধতা হারিয়েছে।
এ সময় কাঠগড়ায় বসে সম্পূর্ণ সাক্ষ্য কাগজে-কলমে লিখেছেন এ মামলার আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান।
ইকবাল করিম বলেন, হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে না পেরে সেনাবাহিনী থেকে ডিজিএফআই ও র্যাবে সেনা কর্মকর্তা সরবরাহ বন্ধ করেছিলাম। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলেও জানান তিনি।
তার জবানবন্দির মাধ্যমে রোববার এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সোমবার তার সাক্ষ্য শেষ হওয়ার পর আংশিক জেরা হয়েছে। পরবর্তী জেরার জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন রেখেছে ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে রোববার দেওয়া সাক্ষ্যে আইকেবি বলেন, প্রশিক্ষণকালে সেনা সদস্যদের ‘ডিহিউম্যানাইজ’ করা হয়, যাতে তারা ধীরে ধীরে মানুষকে মানুষ মনে করা ভুলে যায়, মানুষকে টার্গেট বলতে শুরু করে। ফায়ারিং রেঞ্জে মানুষ আকৃতির টার্গেটের উপর গুলি করে তাদের মানুষ হত্যার মনস্তাত্বিক বাধা দূর করা হয়। এ কথা মনে রেখে সেনাবাহিনীকে কখনো বেসামরিক পুলিশের সাথে মেশানো ঠিক হয়নি।
অথচ সেটাই ঘটেছে ২০০৩ সালে, যখন র্যাব গঠন করা হয়। এটি ছিল একটি মারাত্মক ও ভয়াবহ সিদ্ধান্ত। সেনা সদস্যদের যে প্রশিক্ষণ তা র্যাবে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ছিল না। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে কিছু বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে। র্যাব গঠনের আগে অপারেশন ক্লিন হার্টে অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ নামে যৌথ বাহিনীর ওই অভিযান চলে।
ওই অভিযানের কার্যক্রমকে দায়মুক্তি দিয়ে ২০০৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ‘যৌথ অভিযান দায়মুক্তি আইন, ২০০৩’ করা হয়। এর এক যুগ পর এক রিট মামলার রায়ে হাই কোর্ট ওই দায়মুক্তি আইনকে ‘সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল’ ঘোষণা করে।