দলীয় ঠিকাদাররা কাজ না পাওয়ায় সংসদ সদস্যদের ক্ষোভ, পর্যালোচনার আশ্বাস

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৯ জুন ২০২৬, ০০:০১


‘ফ্যাসিস্ট’ আমলের সুবিধাভোগী ঠিকাদারদের কাজ পাওয়া ঠেকাতে সরকার আইন (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-পিপিএ) পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 
সোমবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ অনুযায়ী জরুরি জন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের ওপর আলোচনায় নরসিংদী-২ আসনের (বিএনপি দলীয়) এমপি আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আশরাফ উদ্দিন তার প্রশ্নে বলেন, ই-জিপিতে ফ্যাসিস্ট ঠিকাদাররা কাজ পেয়ে যাচ্ছে। কারণ ফ্যাসিস্টদের আমলে অনেক কাজ করায় তাদের প্রোফাইল খুবই শক্ত। কিন্তু অন্যান্য ঠিকাদার যারা আমাদের দলের বা ফ্যাসিস্টের পরে আমরা যারা এসেছি বা আমাদের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রকৌশলী বা কোম্পানিরা তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পারে না। তারা (ফ্যাসিস্ট আমলের ঠিকাদাররা) পর্দার আড়ালে থেকে কাজগুলো পেয়ে যায়। ফ্যাসিস্টরা যাতে কাজ না পায় সেজন্য কী ব্যবস্থা নেবেন তা জানতে চান আশরাফ উদ্দিন। 
এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, আমরা সবাই বিষয়টি নিয়ে ভুগছি। 
জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়গুলো আমরা অবগত আছি এবং আমরা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি। আমরা এই আইনটির কীভাবে রিভিউ করে সঠিক লোকেরা যেন... সেটা আমরা বিবেচনা করব।’ 
এর আগে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আওতাধীন কাজের গুণগতমান ঠিক রাখার জন্য অন্য জেলা বা বিভাগের ঠিকাদারদের চেয়ে স্থানীয় ঠিকাদারদের প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জানান আশরাফ উদ্দিন। 
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, স্থানীয় এলাকার কাজ অন্য জেলা বা বিভাগের ঠিকাদারদের দেওয়া হয়। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা সমস্যা দেখা দেয়। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধানের জন্য দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। 
জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গ্রামীণ সড়ক সেতু কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার অবকাঠামোসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ এলজিডির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই টেন্ডার এবং কাজের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। সে অনুযায়ী এলজিডির আওতাধীন জেলা উপজেলা অন্যান্য ক্রয়কারীর কার্যালয় থেকে পিপিএ (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট) এবং পিপিআর (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল) অনুযায়ী অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুটি পদ্ধতিতে ক্রয় কার্য সম্পাদন করা হয়। 
সীমিত দর পদ্ধতিতে শুধুমাত্র জেলার ঠিকাদাররা অংশগ্রহণ করে থাকেন। এ পদ্ধতিতে জেলার বাইরের ঠিকাদারদের অংশগ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) ঠিকাদারদের অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই বাছাই করে দরপত্রের শর্তানুযায়ী মিল থাকলে জেলা ও জেলার বাইরের যে কোনো ঠিকাদার কাজ পেয়ে থাকেন। তবে সর্বক্ষেত্রে পিপিআরের আইন ও বিধি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়।
রাজধানীর মাঠ উদ্ধারের দাবি সংসদে: রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করোপরেশনসহ দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা শহরের খেলার মাঠ ও পার্ক উদ্ধার এবং মাদকসেবীদের কবল থেকে মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ -সদস্য নিলোফার চৌধুরী। 
এদিন জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশে এই দাবি জানান তিনি।
জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মাঠ এবং ফাঁকা জায়গাগুলোকে দলীয় কারণে দখল করে নেওয়া হয়েছিল। বিএনপি সরকার গঠন করার পর সেগুলো উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে।