চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

লাখো মানুষ পানিবন্দি
ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৯ জুলাই ২০২৬, ০০:১১


চট্টগ্রামে ১৫ উপজেলার মধ্যে বেশির ভাগ এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী, হাটহাজারীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
টানা ভারিবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অনেকের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব উপজেলার লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রাম-নাজির হাট সড়কের বড়দীঘির পাড় এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় চট্টগ্রামের সঙ্গে হাটহাজারীসহ উত্তরের একাধিক উপজেলার যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া লোহাগাড়াসহ একাধিক এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে দক্ষিণেও চট্টগ্রামের সঙ্গে একাধিক উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
সাতকানিয়া:  টানা বর্ষণে সাতকানিয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা বুধবার ও বৃহস্পতিবারের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাত থেকে বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া পয়েন্ট দিয়ে সাঙ্গু নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে বুধবারও তা অব্যাহত ছিল। এতে বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক, বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও মৎস্য খামার পানিতে তলিয়ে যায়। খামার ডুবে যাওয়ায় অনেক মাছচাষি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
লোহাগাড়া: পাহাড়ি ঢলে লোহাগাড়ার দরবেহশহাট, আলুরঘাট এলাকাসহ বেশ কিছু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কলাউজান, বড়হাতিয়া, আধুনগর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকা পানি প্রবেশ করে ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। টানাবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর এলাকায় ডলু নদীর ওপর নির্মিত সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে সড়ক ধস এবং মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় মাছচাষি কামরুল ইসলাম বলেন, রাতে পুকুরের চারপাশ জাল দিয়ে ঘিরেও রক্ষা হয়নি। কয়েক লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে।
বাঁশখালী: টানা কয়েক দিনের ভারিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সমুদ্রের জোয়ারের লোনা পানি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার পুঁইছড়ি, শেখেরখীল, ছনুয়া, গন্ডামারা, চাম্বল, শীলকুপ, সরল, খানখানাবাদ, বাহারছড়া, পুকুরিয়া, সাধনপুর এলাকাগুলোর সড়ক ও বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।
এছাড়া রাউজান, ফটিকছড়ি, চন্দনাইশ, হাটহাজারী ও বোয়ালখালী উপজেলার বেশি কিছু ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে গেছে। গ্রামীণ সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।