রক্তাক্ত মধ্যপ্রাচ্য: ধ্বংসস্তূপের মাঝে ঈদ ও নওরোজের বিষণ্ন সুর

মো. বায়েজিদ সরোয়ার
ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৬ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৪

মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের ছায়া এবার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবগুলোর ওপর দীর্ঘ বিষণ্নতার প্রলেপ দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানে, যেখানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহর আজ ক্ষতবিক্ষত, সেখানেও সাধারণ মানুষ তাদের প্রাণের উৎসব—পারস্য নববর্ষ ‘নওরোজ’ এবং পবিত্র ‘ঈদুল ফিতর’ পালন করেছে এক অদম্য মনোবলের সঙ্গে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরানিরা বীর দর্পে প্রতিরোধ করছে বিদেশি আক্রমণ।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা, লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যে ঈদ উদ্‌যাপন
এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের আনন্দের উপলক্ষ হয়ে আসে ঈদুল ফিতর। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কোটি কোটি মানুষের ঈদ উৎসব এবার ছিল ম্লান। গত ২০ মার্চ শুক্রবার দেশগুলোতে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। গণহত্যাকারী ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনে বর্তমানে লেবানন বিধ্বস্ত। সেখানে বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ১০ লাখ মানুষ। নিহত হয়েছে ১০০০-এরও বেশি বেসামরিক নাগরিক। কয়েক বছর আগেই প্রাচীন জনপদ গাজাকে গণহত্যাকারী ইসরায়েলি বাহিনী মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। গাজার ২২ লাখ মানুষের সবাই এখন বাস্তচ্যুত। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ও লেবাননে এবারও মোটাদাগে বিষাদ ও উৎসবহীনতার মধ্য দিয়ে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়েছে। যুদ্ধে স্বজন হারানোর বেদনা, খাদ্যসংকট ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির মধ্যে দিন কাটছে সেখানকার হতভাগ্য মানুষের। ঈদ পালিত হয়েছে তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়ে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই ঈদের নামাজ আদায় করেছেন তারা।

যুদ্ধের ছায়ায় ইরানে ঈদ
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ আগ্রাসনের মধ্যেই গত ২১ মার্চ শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করেছে ইরান। যুদ্ধের তীব্রতা ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে লাখো মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশ নেন। ঈদ জামাতে ধ্বনিত হয় যুদ্ধবিরোধী স্লোগান, দেখা যায় নিহত নেতাদের ছবি। দিনের শেষভাগে অনুষ্ঠিত হয় সামরিক কর্মকর্তাদের জানাজা। উৎসবের দিনে প্রার্থনা, প্রতিবাদ ও শোক—সব মিলিয়ে এক ভিন্ন ঈদ এসেছিল ইরানিদের জীবনে।
এবারের আনন্দ ছিল অশ্রুভেজা। ক্রমাগত বোমাবর্ষণ এবং সাইরেনের শব্দের মাঝেই নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুদ্ধের প্রথম দিনে সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং প্রায় ১,৫০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুতে উৎসবের মেজাজ ছিল অত্যন্ত ম্লান। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বাজারের সংকটে সাধারণ মানুষের পক্ষে নতুন পোশাক বা সেমাই কেনা ছিল কষ্টসাধ্য। এটা ছিল তাদের অভাবের ঈদ।

নওরোজ: ধ্বংসের মাঝে পুনর্জন্মের আশা
নওরোজ বা পারস্য নববর্ষ ইরানের প্রায় ৩,০০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্য, যা ২১ মার্চ ২০২৬ তারিখে বসন্তের আগমনে উদযাপিত হয়েছে। এটি মূলত নতুন বছর শুরুর প্রতীক, কিন্তু এবারের নওরোজ ছিল টিকে থাকার সংগ্রামের নাম। পারস্য নববর্ষ এবার ঈদুল ফিতরের সঙ্গে একই সময়ে উদযাপিত হয়েছে। তবে জাতি, ধর্ম বা বর্ণ-নির্বিশেষে অধিকাংশ ইরানির কাছে এই সংঘাতের সময়ে ‘নওরোজ’ এবার ভিন্ন ও বহুমুখী বার্তা নিয়ে এসেছে। উল্লেখ্য, ধর্ম ও সংস্কৃতির মিশেলে পারস্য ঐতিহ্য বরাবর বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রবল আগ্রহের কারণ।

নওরোজ উৎসবের রঙিন দুয়ার
অবশ্য যুদ্ধ সত্ত্বেও তেহরানে নওরোজ উদযাপন একেবারে থেমে ছিল না। বাজারের দোকানগুলোয় ছিল প্রচুর পণ্য। গলিগুলোতে নওরোজের ঐতিহ্যবাহী ফুল ‘হায়াসিন্থ’-এর সুবাস ছড়িয়েছিল, যা শহরজুড়ে বসন্তের আগমনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ড. মুমিত আল রশিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। উচ্চতর গবেষণার জন্য তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইরানে অবস্থান করেছেন। ইরান-বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ড. মুমিত আল রশিদ তার ‘ইরানের পথে-প্রান্তরে’ গ্রন্থে নওরোজ উৎসবের বিষয়টি চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। ড. মুহিত আল রশিদ লিখেছেন, “পৃথিবীতে এখনো পর্যন্ত যে কয়েকটি জাতিগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব প্রাচীন কৃষ্টি কালচারকে ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে ইরান তাদের অগ্রভাগে।”

অন্ধকার কেটে আলো আসবেই
ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ির ভেতরেই ইরানের মানুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘হাফৎ-সিন’ (সাতটি উপকরণ বিশিষ্ট সাজসজ্জা) সাজিয়েছে, যা জীবন ও শক্তির প্রতীক। তেহরানের তাজরীশ বাজারের মতো জায়গাগুলোতে যেখানে উপচেপড়া ভিড় থাকার কথা, সেখানে এবার ছিল মানুষের আতঙ্কিত উপস্থিতি। তবুও অনেক ইরানি ফুল কিনে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে এই আশায় যে, অন্ধকার কেটে আলো আসবেই।
ইরানি কুর্দিরা পাহাড়ের ওপর আগুন জ্বালিয়ে ঐতিহ্যবাহী নাচ ও গানের মাধ্যমে নওরোজ উদযাপন করেছে, যা তাদের আত্মপরিচয় রক্ষার এক সাহসী বহির্প্রকাশ। এ বছরের নওরোজ উদযাপন কেবল যুদ্ধের কারণেই ম্লান হয়নি। বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার আগে থেকেই ইরান ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছিল।

নওরোজ ঘিরে নতুন আশা
নতুন বছরকে ঘিরে ইরানের অনেক নাগরিক হতাশায় ভুগলেও কেউ কেউ বসন্তের মধ্যে আশা খুঁজেছেন। রাজধানীর দীর্ঘদিনের বাসিন্দা মেহরাদ বলেন, ‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মনে হচ্ছে আবহাওয়া চমৎকার, আকাশ নীল এবং কুয়াশা কেটে গেছে। সব অর্থেই এটি নিখুঁত বসন্তের আবহাওয়া, যেন শহরটি জানে যে আমরা মুক্ত হতে যাচ্ছি’।

মানবিক বিপর্যয় ও প্রতিরোধের রূপ
রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমনে ইরানে প্রায় ৮২,০০০-এর বেশি বেসামরিক কাঠামো এবং প্রায় ৫০০ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহত হয়েছে প্রায় ১৫০০ বেসামরিক নাগরিক। এই ধ্বংসস্তূপের মাঝেই মানুষ একে অপরের সাথে খাবার ভাগ করে নিয়েছে।
এই যুদ্ধবিধ্বস্ত উদযাপনের মাধ্যমে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ বিশ্বকে এক কঠিন বার্তা দিয়েছে—বোমা আর ধ্বংসস্তূপ মানুষের সংস্কৃতি ও বিশ্বাসকে স্তব্ধ করতে পারে না। উৎসবগুলো এখানে কেবল আনন্দ নয়, বরং যুদ্ধের বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ এবং নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন।

বাংলাদেশে ঈদের মোনাজাতে যুদ্ধ বন্ধের আকুতি
মধ্যপ্রাচ্যের এক যুদ্ধে টালমাটাল এখন বিশ্ব। সেই যুদ্ধের আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও। তাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে মোনাজাতেও ধ্বনিত হলো যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান। মধ্যপ্রাচ্যের পরের দিন, বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর ২১ মার্চ শনিবার পালিত হয়। এদিন সকালে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর সুপ্রিম কোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে। সকাল সাড়ে আটটার এই জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ঈদের শিক্ষা নিয়ে এক কাতারে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়েন সবাই। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। নামাজ শেষে খুতবার পর মোনাজাতে হাত তোলেন সবাই।
ইমাম আবদুল মালেক দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি কামনা করেন। পাশাপাশি সারা বিশ্বে ফিতনা-ফ্যাসাদ বন্ধের প্রার্থনা তিনি যখন জানান, তখন ‘আমিন-আমিন’ ধ্বনিতে তাতে সমর্থন জানান হাজারো মুসল্লি। মুফতি আবদুল মালেক মোনাজাতে বলেন, ‘হে আল্লাহ, বিশ্বের ফিতনা-ফ্যাসাদ থেকে মানুষকে হেফাজত করেন। যুদ্ধবিগ্রহ থেকে মানুষকে নিরাপত্তা দেন’। মোনাজাতে ইমাম মুফতি আবদুল মালেক অসহায় মুসলমানদের পাশে দাঁড়াতে সব মুসলিম দেশের প্রতি আহ্বান জানান।
যুদ্ধের মধ্যে ইরানে আটকে পড়া দেড় শতাধিক বাংলাদেশিকে বিশেষ বিমান পাঠিয়ে ঈদের আগের দিন (২০ মার্চ) বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপীড়িত দেশগুলোতে এখন ৫২ লক্ষেরও বেশি বাংলাদেশী নানা কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। যুদ্ধের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এরই মধ্যে অন্তত ৫ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে কর্মরত আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা আছেন ব্যাপক উৎকণ্ঠায়।

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য উদ্বেগ ও দোয়া
এই প্রবাসীদের জন্য দেশে থাকা তাঁদের স্বজনদের যেমন উদ্বেগ রয়েছে, তেমনি তা দেশের প্রবাসী আয় কমানোর ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি হলো রেমিট্যান্স, যার বেশির ভাগ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেই। ফলে এই যুদ্ধ প্রলম্বিত হলে বাংলাদেশকে যে ভুগতে হবে, তা সহজেই অনুমেয়। দৃশ্যত সে কারণে ঈদের নামাজেও ছিল তার প্রতিফলন। জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়তে আসা এক ব্যক্তি একটি প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন, যেখানে ছিল যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান।
এবার ঈদে রাষ্ট্রপতির বাণীতেও ছিল এই সংকটের কথা। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের অনাকাঙ্ক্ষিত অভিঘাত বাংলাদেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। ঈদের বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।

রোহিঙ্গা শিবিরের ঈদ-আনন্দে মেতেছে শিশুরা, বড়দের চোখে-মুখে বিষাদ
মিয়ানমার থেকে উদ্বাস্তু হয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত শরণার্থী শিবিরগুলোতে এই ঈদ উৎসব উদযাপন করেছেন রোহিঙ্গারা। তবে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে শিশুদের আনন্দ চোখে পড়লেও, বড়রা কাটিয়েছেন বিষাদে। তারা আশা করছেন, আগামী ঈদ আরাকানে কাটাবেন।
উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ঈদের নামাজ পড়েছেন রোহিঙ্গারা। রাখাইনে মিয়ানমার সেনাদের চালানো নির্যাতনের বিভীষিকা আর ক্যাম্পে অভাব অনটন- এই উৎসবের রঙ তাদের কাছে অনেকটাই বিবর্ণ।
রোহিঙ্গারা বলছেন, নিজ দেশ মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে টানা ৯ বছর ধরে বাংলাদেশে আশ্রিত তারা। ঘনবসতিপূর্ণ ঝুপড়ি ঘরে বেদনার ঈদ পার করছেন। আনন্দ-উৎসবের এই দিনেও তাদের জীবনে নেই স্বস্তি। স্বজনহারানোর কষ্ট, অনিশ্চয়তা আর নিজ ভূমিতে সম্মানজনকভাবে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তারা দিন গুনছেন।
নামাজ শেষে শিশুদের মধ্যে কিছুটা আনন্দের ছাপ দেখা গেলেও বড়দের চোখে-মুখে ছিল গভীর বিষাদ। রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের স্মৃতি আর বর্তমান শরণার্থী জীবনের অভাব-অনটনে ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

রোাহিঙ্গাদের আরাকানে ফেরার আকুতি
ঈদের জামাত শেষে অনেক ইমাম ও মুসল্লি কান্নায় ভেঙে পড়েন। মোনাজাতে তারা নির্যাতনের বিচার কামনা করেন এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের জন্য মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের মুখে পড়ে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে পুরনোদেরসহ উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি শিবিরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে যাদের প্রত্যাশা একটাই, সম্মান ও নিরাপত্তা নিয়ে আবার নিজ দেশে ফেরা।

ইরান যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি
ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি দিন দিন জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযানের কথাও শোনা যাচ্ছে। গত ২১ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘন্টা সময় দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরান যদি শর্ত না মানে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেবে। কিন্তু সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘন্টা বাকি থাকতে ২৩ মার্চ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, তিনি ইরানের ওপর সব ধরনের হামলা ৫দিনের জন্য স্থগিত করেছেন।

কূটনৈতিক পদক্ষেপই এখন একমাত্র সমাধান
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন যে, উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘খুবই ইতিবাচক, ফলপ্রসূ এবং গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। তবে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো ধরনের আলোচনা কথা অস্বীকার করেছে। তবে অন্য কিছু সূত্র থেকে উভয় পক্ষের আলোচনা কথা শোনা যাচ্ছে। যুদ্ধ বন্ধে ইরান কয়েকটি শর্ত দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কোন কোন বিশ্লেষক মনে করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে শক্তিশালি অভিযান পরিচালনার জন্য বর্তমান আলোচনার নামে সময় ক্ষেপন কৌশল নিয়েছে।
বিপদজ্জনক এই ইরান যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘ, ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক বহুপক্ষিয় সংস্থাগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। সামরিক নয়, কূটনৈতিক পদক্ষেপই উত্তেজনা প্রশমন ও সংঘাতের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ। সব পক্ষ সংযত ও দায়িত্বশীল হলে কেবল বিশ্ব এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে।

বন্ধ হোক এই মহা অন্যায় যুদ্ধ-শুভবোধ জাগ্রত হোক
২০০৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে আগ্রাসন চালালে বিশ্বব্যাপী বিশেষত ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছিল। বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক, গবেষক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ এর প্রতিবাদে সেলাইহীন সাদা কাপড় পরা শুরু করেন। অথচ এবারকার যুদ্ধে বিশ্বে তেমন প্রতিবাদ নেই। তবে পাল্টা পাল্টি হামলার মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা- মধ্যস্ততার কথাও শোনা যাচ্ছে।
এই যুদ্ধে কেউ জয়ী হবে না। এই যুদ্ধ কে না বলতে হবে। যুদ্ধ বন্ধের প্রতিবাদ করতে হবে। যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন জনগন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বাংলাদেশে ইরান একটি আবেগের নাম। গোলাপ, টিউলিপ আর বিখ্যাত কবিদের দেশ ও প্রাচীন সভ্যতার দেশ ইরান বিদেশী আগ্রাসন থেকে মুক্তি পাক। বন্ধ হোক ইরানের উপর এই মহাঅন্যায় যুদ্ধ। শান্তি নামুক ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য।


লেখক: অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, গবেষক ও বিশ্লেষক