বিতাড়নের আদেশের পরও কি অ্যামেরিকার গ্রিন কার্ড পাওয়া যাবে?

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৬ আগস্ট ২০২৫, ২০:০১


যদি কারও বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন (বিতাড়ন) অর্ডার থাকে, কিন্তু তিনি যদি একজন অ্যামেরিকান নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারীকে যদি বিয়ে করেন, তাহলে ওই ব্যক্তিটি গ্রিন কার্ড পাবে কি না। যদি পেয়ে থাকে, তাহলে কীভাবে পাবেন, না পেলে তার পেছনে কী কারণ আছে, এই কারণগুলো আপনার কাছে জানতে চাই এবং সে ক্ষেত্রে বিয়ের পর কী কী সম্ভাব্য উপায় আছে গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে এবং যদি আমরা ধরে নিই যে, গ্রিন কার্ড পাওয়া একেবারেই সম্ভবপর নয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে আপনার কী মতামত থাকতে পারে এই বিষয়টি সম্পর্কে।
মাহফুজুর রহমান: ধন্যবাদ রানা ভাই। আজকে খুব একটা চমৎকার এবং খুব কমপ্লেক্স বিষয় দর্শকদের জন্য নিয়ে আসছেন। এটির উত্তর হবে, হ্যাঁ, এটা সম্ভব। যাদের কিনা অলরেডি ডিপোর্টেশন অর্ডার হয়ে গিয়েছে, কিন্তু তারা অ্যামেরিকা থেকে ত্যাগ করেনি। কোনো কারণে তারা আগে বিয়ে করেছে অথবা পরে বিয়ে করেছে, তাদের ক্ষেত্রে সম্ভব গ্রিন কার্ড পাওয়া।
এখন গ্রিন কার্ড পেতে গেলে দুটো ক্যাটাগরির অ্যপ্লিকেন্টরা কিন্তু অ্যামেরিকায় আছে। একটা হচ্ছে যারা আনলফুলি এ দেশে প্রবেশ করেছে, আরেক ক্যাটাগরি হচ্ছে যারা লফুলি অ্যামেরিকায় প্রবেশ করেছে।
তো লফুলি যারা অ্যামেরিকায় প্রবেশ করেছে, তাদের জন্য অ্যামেরিকার মধ্যেই কিন্তু অ্যাডজাস্টমেন্টের সুযোগ আছে এবং গ্রিন কার্ড পেতে পারে। সেই ক্ষেত্রে তাদেরকে কিছু ওয়ার্কআউট করতে হবে যদি তাদের ডিপোর্টেশন অর্ডার হয়ে যায়, তাহলে তাকে তার যে কেইসটি ছিল, আপনার ইমিগ্রেশন কোর্টে, সেটি মোশন্স ‍টু রিওপেন করতে হবে। বিভিন্নভাবে সে কাজগুলো করতে পারে।
আপনার গভর্নমেন্টের সাথে জয়েন্ট মোশনে যুক্ত হতে পারে অথবা সরাসরি জাজের কাছেও একতরফাভাবে মোশন টু রিওপেন করতে পারে। তো কেইসটি খুলে গেলে তখন যদি দেখা যায়, এই ক্ষেত্রে ইউএস সিটিজেন হইতে হবে, যদি এখানে অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে চায়। গ্রিন কার্ড হলে পারবে না।
তো সেই ক্ষেত্রে যদি আই-১৩০ যেটা আছে, সেটা যদি অ্যাপ্রুভাল হয়ে যায়, তাহলে সেই ক্ষেত্রে সে মোশন টু রিওপেন করে কোর্ট থেকে সেটা আইদার কোর্টে অর কোর্ট থেকে তার ইমিগ্রেশনের কেইসটি ক্লোজ করে সে গ্রিন কার্ড পেতে পারে। এটি কিন্তু সম্ভব একদম।
আরেকটি যে ক্যাটাগরি আছে, যারা কিনা এখানে লফুলি প্রবেশ করেনি। বর্ডার থেকে এ দেশে প্রবেশ করেছে। তাদের ক্ষেত্রে একটু কমপ্লেক্স হবে। তারাও কিন্তু গ্রিন কার্ড পাবে, তবে অ্যামেরিকা থেকে নয়। তাদেরকে অ্যামেরিকার বাইরে যেকোনো কনস্যুলার অফিস থেকে ভিসা নিয়ে আসতে হবে।
তো সে ক্ষেত্রে তাদেরকে কিছু এক্সট্রা ওয়ার্কআউট করতে হবে। তারা যদি ডিপোর্টেশন অর্ডার হয়ে যায় এবং এ দেশে যদি গ্রিন কার্ড অথবা ইউএস সিটিজেন বিয়ে করে, তারা কিন্তু দুটোর একটা করলে তাদের পক্ষে সম্ভব।
যেহেতু তারা হোম কান্ট্রি থেকে কনস্যুলার প্রসেস হয়ে আসছে, তো সে ক্ষেত্রে তাদের যেটি করতে হবে, তাদের হচ্ছে যদি তারা কাউকে বিয়ে করে এবং পাশাপাশি যদি আই-১৩০ অ্যাপ্রুভাল হয়ে যায়, তখন তারা একটা ওয়েভার বলে, সেটা ২১২ ওয়েভার। সেটা হচ্ছে ইনঅ্যাডমিসিবিলিটি এবং রিঅ্যাডমিসিবিলিটি। পুনরায় অ্যাডমিশনের জন্য যে প্রার্থনাটা করা, সেটা আইসের ডিরেক্টরের কাছে করতে হয়। তখন আইসের ডিসক্রেশনারি পাওয়ার (প্রয়োগের সুযোগ থাকে)।
তারা যদি দেখে যে, না তাহলে সে এখানে ইউএস সিটিজেন অথবা লফুল পারমানেন্ট রেসিডেন্ট কাউকে ম্যারি করেছে এবং তাকে যদি এই পারমিশনটা দেওয়া না হয়, তার যে ইউএস সিটিজেন অথবা লফুল পারমানেন্ট রেসিডেন্ট, হার্ডশিপের মধ্যে পড়বে, তখন কিন্তু তারা সেটা অ্যাপ্রুভ করে দিতে পারে। ওইটি যদি অ্যাপ্রুভ হয়ে যায়, তখন তাদেরকে আরেকটি ওয়েভার করতে হবে। সেটা হচ্ছে ৬০১এ ওয়েভার। সেটিকে বলে প্রভিশনাল ওয়েভার। কারণ সে যে আনলফুলি এ দেশে প্রবেশ করেছে এবং আনলফুলি দেশে অবস্থান করেছে, সেটির (বিপরীতে) পারমিশন নিতে হবে।
এ দুটো ওয়েভার যখন অ্যাপ্রুভ হয়ে যাবে, তখন পাশাপাশি তাকে কনস্যুলার প্রসেসে ইন্টারভিউর জন্য কাজ করতে হবে। যখন ইন্টারভিউটির শিডিউল হবে, সেই মুহূর্তেই সে ফ্লাই করতে পারবে ইন্টারভিউর জন্য। এর আগে তার ফ্লাই করার দরকার হবে না। এটা একটা চমৎকার বিষয় বলা যায় যে, এখানে বিয়ে করল, পাশাপাশি এই লিগ্যাল ওয়ার্কগুলো শেষ করে যখন তার ইন্টারভিউর ডেট হবে কনস্যুলার অফিসে, তখনই সে ফ্লাই করতে পারবে।
ইন দ্য মিন টাইম, সে অ্যামেরিকায় ফ্যামিলি রেইজ করতে পারবে, চিল্ড্রেন রেইজ করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে টেকনিক্যালি কিন্তু ডিপোর্টেশন স্থগিত থাকবে। এ ধরনের কেইসে কিন্তু সাধারণত ডিএইচএস বা আইস ডিপোর্টেশনের প্রসিডিংসে নেয় না অ্যাপ্লিকেন্টদেরকে।

তথ্যসূত্র:টিবিএন24