ব্রিটেন প্রবাসী মৌলভীবাজারের আলহাজ জি এম মাহমুদ মিয়াকে বিদায়

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১৩:৩৯

ব্রিটেনের বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রিয় মুখ, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিক আলহাজ গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) মাহমুদ মিয়াকে অশ্রুসিক্ত নয়নে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) বাদ জোহর বার্মিংহামের সেন্ট্রাল মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে দাফন করা হয় স্থানীয় কবরস্থানে। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন মরহুমের ছেলে শেখ হাতিম মিয়া মোজাম্মিল।
এর আগে ২৪ অক্টোবর রাত ১২টা ১৪ মিনিটে বার্মিংহামের নিজ বাসায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনি ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার বালিকান্দি গ্রামের কৃতিমান সন্তান জি এম মাহমুদ মিয়া ছিলেন সিলেট বিভাগের গর্বিত প্রবাসী। তিনি দীর্ঘদিন কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি সিলেট ডিভিশন অব কুইবেকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কানাডা বাংলা স্কুলের সাবেক সভাপতি এবং কানাডা মৌলভীবাজার সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন।
মৌলভীবাজার জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আন্দোলন, সিলেট বিভাগ বাস্তবায়ন প্রচেষ্টা এবং প্রবাসী শিক্ষা-সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘অন্বেষা’র পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তার অবদান ছিল অনন্য। নিজ এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসাসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানেও তিনি সহযোগিতা করতেন।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিও ছিল তার আন্তরিকতা। তিনি ডেইলি সিলেট এন্ড মৌলভীবাজার ডটকম এর চেয়ারম্যান ছিলেন এবং ইউকে বিডি টিভির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। সততা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উজ্জ্বল এই মানুষটি ছিলেন সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পাত্র।
তার মৃত্যুতে প্রবাসী সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইউকে বিডি টিভি পরিবারের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মকিস মনসুর, উপদেষ্টা সাইদুর রহমান রেনু, ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার খায়রুল আলম লিংকন, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ নুরুল ইসলাম, ফাইন্যান্স ডিরেক্টর শাহ শাফি কাদির, কালচারাল কো-অর্ডিনেটর হেলেন ইসলামসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এক শোকবার্তায় মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় বলা হয়, আলহাজ জি এম মাহমুদ মিয়া ছিলেন নিঃস্বার্থ সমাজসেবক ও মানবতার বন্ধু। বাংলাদেশ, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের কমিউনিটির মধ্যে তিনি সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন। তার মৃত্যুতে কমিউনিটিতে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।