ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৩১


মহান ভাষা আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস-এ যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে।
২১ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রভাতফেরির আয়োজন করা হয়। এতে রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলামসহ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। দূতাবাস প্রাঙ্গণে নির্মিত শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দূতাবাস মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, নাইজেরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের শিল্পীরা অংশ নেন। মনোমুগ্ধকর পরিবেশনার মাধ্যমে ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বেথনি পোলোস মরিসন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি। তিনি বলেন, মাতৃভাষা দিবস শুধু বাংলাদেশের মানুষের নয়, সমগ্র বিশ্বের মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক মর্যাদা রক্ষার প্রেরণা জোগায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে মহান ভাষা আন্দোলনের সব শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ভাষা সৈনিকদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত বাংলা ভাষা আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচয় বহন করছে এবং কূটনৈতিক পরিসরেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, ভাষা শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং বিশেষ মোনাজাত। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কাউন্সেলর নাজনীন সুলতানা, ফার্স্ট সেক্রেটারি (পাসপোর্ট ও ভিসা উইং) মো. আবেদুর রহমান এবং ফার্স্ট সেক্রেটারি মো. আতাউর রহমান।