নিউইয়র্কে বাংলা ভাষা শিক্ষা চালুর দাবিতে ‘প্যারেন্টস ফর বাংলা’র আহ্বান

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৩৩


আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে বাংলা ভাষা শিক্ষা চালুর দাবি জানিয়েছে কুইন্সভিত্তিক অভিভাবক সংগঠন ‘প্যারেন্টস ফর বাংলা’। সংগঠনটি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র ও শিক্ষা দপ্তরের চ্যান্সেলরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে দ্রুত বাংলা ভাষাকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী অন্যতম বৃহৎ ভাষাগোষ্ঠী হলেও ফ্লাশিং এলাকার পি.এস. কিউ ০২৪, আই.এস. ২৩৭ কিউ এবং ২৫ কিউ ২৮১ স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য চাইনিজ, স্প্যানিশ, কোরিয়ান, জাপানিজসহ বিভিন্ন ভাষা পড়ার সুযোগ থাকলেও বাংলা ভাষা পড়ার সুযোগ নেই। এতে বাংলা ভাষাভাষী শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভাষা ও সাংস্কৃতিক শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলে সংগঠনটির দাবি।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিউইয়র্ক সিটি শিক্ষা ব্যবস্থায় ইংরেজি ভাষা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলা অন্যতম প্রচলিত ভাষা। তবুও প্রায় ছয় হাজার বাংলা ভাষাভাষী শিক্ষার্থীর জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাংলা ভাষা শিক্ষা চালু না হওয়া শিক্ষাগত সমতা ও অন্তর্ভুক্তির প্রশ্ন তোলে।
‘প্যারেন্টস ফর বাংলা’র আহ্বায়ক কবি আশিক রেজা বলেন, বাংলা ভাষাভাষী পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে সিটির প্রশাসনের সমর্থক। অথচ এমন একটি প্রজন্ম গড়ে উঠছে, যারা নিজেদের মাতৃভাষা পড়তে বা লিখতে পারছে না—যে ভাষার জন্য তাদের পূর্বসূরিরা আত্মত্যাগ করেছেন। তার মতে, বাংলা ভাষা শিক্ষা চালু করা শুধু সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির বিষয় নয়; এটি শিক্ষাগত ন্যায়, সুশাসন এবং নিউইয়র্ক সিটির অন্যতম বৃহৎ ভাষাগোষ্ঠীর প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক সম্মানের প্রশ্ন।
সংগঠনটি আরও জানায়, ফেব্রুয়ারি মাস—যে মাসে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস এবং ২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়—এই সময়টি বহুভাষিক শিক্ষা ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য সিটির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত সময়।
‘প্যারেন্টস ফর বাংলা’ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফ্লাশিংসহ সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোতে বাংলা ভাষা শিক্ষা চালুর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, এতে বাংলা ভাষাভাষী শিক্ষার্থীদের আত্মপরিচয় শক্তিশালী হবে, পরিবার-স্কুল সম্পর্ক উন্নত হবে এবং বহুসাংস্কৃতিক নিউইয়র্কে ভাষাগত বৈচিত্র্যের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত হবে।