
উত্তর আমেরিকার কর্মব্যস্ত প্রবাসী জীবনের মাঝেও শিকড়ের টান আর আবহমান বাংলার ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণিল বৈশাখী উৎসব। গত ১৩ জুন (শনিবার) মাউন্ট লরেলের স্প্রিংভিল এলিমেন্টারি স্কুলে এই উৎসবের আয়োজন করে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী বাংলা শিক্ষণ কেন্দ্র 'WICC বাংলা স্কুল'। বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা এই বর্ণাঢ্য আয়োজন প্রবাসের মাটিতে যেন এক খণ্ড বাংলাদেশে রূপ নিয়েছিল।
১৮তম বর্ষে পদার্পণ করা এই স্কুলের উদ্যোগে আয়োজিত উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশী খাবারের মেলা। অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে সমন্বয় ও পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন নাদিরা ফারুক, শারমিন সুলতানা ও ইশিতা।
অনুষ্ঠানে প্রায় শতাধিক প্রবাসী বাঙালি ও ভিনদেশী অতিথি উপস্থিত ছিলেন। মোট ২৫ জন খুদে শিল্পী নাচ, গান ও কবিতা আবৃত্তিসহ বিভিন্ন নান্দনিক পরিবেশনায় অংশ নেয়। ২০০৮ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই শিক্ষণ কেন্দ্রটি প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এবারও একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের ধারাবাহিকতায় এই বর্ষবরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল। চটপটি, সমোসা, ভুনা খিচুড়ি, রসগোল্লা ও হরেক রকমের পিঠা-পুলির সমাহার উৎসবের আবহকে আরও জমিয়ে তোলে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডেলাওয়ার ভ্যালির সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী জনাব সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এক আবেগঘন বক্তব্যে তিনি কোমলমতি শিশুদের শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে শিশুদের কণ্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত "আমার সোনার বাংলা"র পরিবেশনা এবং সাবলীল নৃত্যশৈলী উপস্থিত সবাইকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।
আয়োজকদের মতে, প্রবাসের যান্ত্রিক জীবনের মাঝে এই ধরনের উৎসবের মূল উদ্দেশ্যই হলো নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও গভীর আগ্রহ তৈরি করা। আনন্দমুখর এই উৎসব প্রবাসী বাঙালিদের মনে এক টুকরো দেশের অনাবিল স্মৃতি বিলিয়ে দিয়ে শেষ হয়।