
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ে তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দল কুওমিনতাং (কেএমটি)-এর নেতা চেং লি-উনকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। তাইওয়ানের কোনো শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে চীনা প্রেসিডেন্টের ঐতিহাসিক এ বৈঠকে দুই পক্ষই তাইওয়ান প্রণালির দুই পাড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে জোর দেন।
এক দশকের মধ্যে কেএমটি প্রধান হিসেবে চেং লি-উনই প্রথম চীন সফর করলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। ২০১৬ সালে তাইওয়ানে ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) ক্ষমতায় আসার পর বেইজিং স্বশাসিত দ্বীপটির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। সাই ইং-ওয়েন ‘এক চীন’ নীতিকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এ সিদ্ধান্ত নেয় চীন।
চেংয়ের এই সফর নিয়ে সমালোচনা হয়েছে, বিশেষ করে ডিপিপির পক্ষ থেকে তাকে বেইজিংয়ের প্রতি নরম অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে একীভূত করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয় না।
বেইজিংয়ে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, দুপক্ষের লক্ষ্য হওয়া উচিত মাতৃভূমির শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা এবং প্রণালির দুই পাশের সম্পর্কের শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া।
তিনি আরও বলেন, চীন কেএমটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ ও যোগাযোগ বাড়াতে আগ্রহী, যারা তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদবিরোধী অবস্থান ভাগ করে নেয়।
জবাবে চেং লি-উন বলেন, চীনা জাতির পুনর্জাগরণ তাইওয়ান প্রণালির দুই পাশের মানুষের একটি অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা। তার মতে, এই লক্ষ্য অর্জিত হলে তা বৈশ্বিক শান্তি ও মানবিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, কেএমটি ও চীনের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে সম্পর্ক থাকলেও এর আগের নেতারা সাধারণত বেইজিং সফরে এতটা সক্রিয় ছিলেন না।
অন্যদিকে, বর্তমান তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে’র সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপে আগ্রহী নয় চীন। বেইজিং তাকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে অভিহিত করে।
লাই চিং-তে অবশ্য তাইওয়ান প্রণালির বর্তমান ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন। তবে চীনা কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাকে প্রায়ই ‘সমস্যা সৃষ্টিকারী’ ও ‘যুদ্ধবাজ’ হিসেবে উল্লেখ করে।
তাইওয়ানের জনগণের মধ্যে মতভেদ থাকলেও একটি বড় অংশ বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখার পক্ষেই মত দেন—চীনের সঙ্গে একীভূত হওয়া বা আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা, কোনো পথই তারা সমর্থন করেন না।