
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের একটি ভুয়া ছবি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রচার করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে দাবি উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে তৈরি এই ছবিটি ম্যাক্রোঁ কখনও শেয়ার করেননি বলে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মধ্যে ব্যক্তিগত তিক্ততা শুরু হওয়ার পর এই বিভ্রান্তিকর তথ্যটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। ১ এপ্রিল ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় ম্যাক্রোঁ এবং তার স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোঁকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছিলেন। এর জবাবে ২ এপ্রিল দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে ম্যাক্রোঁ বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্যগুলো মোটেও মার্জিত নয় এবং এগুলো কোনো উত্তর পাওয়ার যোগ্য নয়।
এই ঘটনার রেশ ধরেই গত ৫ এপ্রিল থেকে স্প্যানিশ এবং আরবিভাষী বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে দাবি করা হয় যে ম্যাক্রঁ ট্রাম্পের ওপর প্রতিশোধ নিতে তার স্ত্রীর সঙ্গে এপস্টেইনের ছবি প্রকাশ করেছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কোনো দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে এমন কোনো ছবি পোস্ট করা হয়নি। মূলত মিশরের জনৈক সাংবাদিক নাবিল ওমরান ফেসবুকে প্রথম এই দাবিটি প্রচার করেন, যা পরবর্তীতে ব্যাপক হারে ভাইরাল হয়। বিশেষ করে এক্স প্ল্যাটফর্মে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট প্রায় ৬০ লাখের বেশি ভিউ পায়।
প্রকৃতপক্ষে, আলোচিত ছবিটি জেফরি এপস্টেইন মামলার নথিপত্র থেকে নেওয়া একটি আসল ছবির বিকৃত রূপ। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট যেসব ছবি প্রকাশ করেছিল, সেখানে একটি ছবিতে এপস্টেইনকে এক নারীর সাথে দেখা যায়। তবে ছবিটিতে থাকা নারীর পরিচয় গোপন রাখার জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষ তার মুখমণ্ডল কালো বক্সে ঢেকে দিয়েছিল।
‘টম অ্যাডেলসবাক’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ওই নারীর মুখে মেলানিয়া ট্রাম্পের মুখ বসিয়ে ডিজিটাল কারসাজি করা হয়। পরবর্তীতে ব্যঙ্গাত্মক অ্যাকাউন্টটির পক্ষ থেকেও স্বীকার করা হয়েছে যে ছবিটি এডিট করা।
মার্কিন বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে থাকা ছবির কোড এবং ভাইরাল হওয়া ছবির কোড মিলিয়ে দেখা গেছে, আসল ছবিতে মেলানিয়া ট্রাম্পের কোনো অস্তিত্ব নেই। মূলত দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যকার কূটনৈতিক ও ব্যক্তিগত বাদানুবাদকে পুঁজি করে একটি মহল এই ভুয়া ছবিটি ছড়িয়ে অপপ্রচারের চেষ্টা চালিয়েছে।
তবে ফ্রান্স ২৪ অবজর্ভারসহ একাধিক ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, ম্যাক্রোঁ এমন কোনো অমর্যাদাকর কাজে লিপ্ত হননি।
সূত্র: ফ্রান্স ২৪