মার্কিন হামলায় ইরানের ১১১ পেট্রোকেমিক্যাল ও ওষুধ কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:২৬

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ৬০টি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, ৪৪ ওষুধ কারখানা এবং সাতটি ওষুধ উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা মেহের জানিয়েছে, রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থার নির্বাহী পরিষদের ১১৩তম অধিবেশনে হাদি ফারাজভান্ডের বক্তব্যের কিছু অংশ প্রকাশ করেছে হেগে অবস্থিত ইরানের মিশন। নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত ফারাজভান্ড এসব হামলার পরিণতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ইরানের রাসায়নিক ও ওষুধ শিল্পে সৃষ্ট ক্ষতি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে এবং রাসায়নিক অস্ত্র চুক্তির আওতাধীন বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, চুক্তির অখণ্ডতা রক্ষা, রাসায়নিক ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার স্বার্থে সশস্ত্র সংঘাতের সময় রাসায়নিক স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, এসব স্থাপনার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছাকৃত হামলা রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশনের ১, ৬ ও ১১ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং এই আন্তর্জাতিক দলিলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
কনভেনশনের বিধান অনুযায়ী, ১ নম্বর অনুচ্ছেদে রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণের বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সাধারণ বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে; ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে নিষিদ্ধ নয় এমন রাসায়নিক কার্যক্রমের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; এবং ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে শান্তিপূর্ণ রাসায়নিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বক্তব্যের অন্য এক অংশে ফারাজভান্ড রাসায়নিক অস্ত্র চুক্তি মেনে চলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে ইরানের উদ্বেগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, এই উদ্বেগগুলো মূলত ইসরাইলি সরকারের রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচিতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা এবং প্রাণঘাতী নয় এমন রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে উত্থাপিত উদ্বেগগুলোর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি এবং সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান হয়নি।