জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করলেও আন্দোলন থামবে না, দিল্লিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৪৭


ভারতের নির্বাচন কমিশন ও ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। কর্মসূচির বিষয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি।
দলটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তার ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর প্রতিবাদেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।
দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সৌরভ দাস বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করলেও তাদের আন্দোলন থামবে না। শুধু একজনের পদত্যাগকে সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখছে না দলটি। বরং নির্বাচন কমিশনের কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে তারা।
সৌরভ দাসের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে চলমান বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি। ওই প্রক্রিয়ায় নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তেরও তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির এই নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্যতে যাতে বিতর্কিত ব্যক্তিরা দায়িত্ব নিতে না পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা প্রয়োজন। তার মতে, একজন ব্যক্তির পদত্যাগে নির্বাচন ব্যবস্থার সংকটের সমাধান হবে না; প্রয়োজন পুরো ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার।
১০ অক্টোবরের কর্মসূচিকে দেশের তরুণদের উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত করে সৌরভ বলেন, ভোট চুরি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের মতো অভিযোগ নিয়ে তরুণদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন প্রজন্মের ভোটারদের তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নতুন ভোটারদের তালিকাভুক্ত করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়েও নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দলটির পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি ১০ অক্টোবরের সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সৌরভ দাস বলেন, আন্দোলন দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
কর্মসূচির আগে দিল্লির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দলটির দাবি, যন্তর মন্তরের সমাবেশের বিষয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় আগেই লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।