
ডিম আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সিদ্ধ, ভাজা, পোচ কিংবা অমলেট খাওয়া হয়। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খাবারটি শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী, বিশেষ করে প্রোটিনের চাহিদা পূরণে। একটি ডিমে প্রায় ৬-৭ গ্রাম প্রোটিন থাকে, যা শরীর গঠনে সাহায্য করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে নকল বা কৃত্রিম ডিম রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে কৃত্রিম ডিম তৈরি করা হয় সোডিয়াম অ্যালজিনেট, ফিটকিরি ও জেলাটিনের মতো রাসায়নিক উপাদান দিয়ে। এসব উপাদান নিয়মিত শরীরে গেলে লিভার ও মস্তিষ্কের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও সব জায়গায় এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েনি, তবুও সচেতন থাকা জরুরি।
সিদ্ধ করার পর যেসব বিষয় খেয়াল করবেন
ডিম সিদ্ধ করার পর কিছু অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য দেখা গেলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যেমন, ডিমের কুসুম যদি অস্বাভাবিকভাবে শক্ত হয়ে যায় বা রাবারের মতো টানলে লম্বা হতে থাকে, তাহলে সেটি স্বাভাবিক নয়। আসল ডিমের কুসুম সাধারণত নরম, মসৃণ ও হালকা দানাদার হয়।
সিদ্ধ করার পর ডিমের সাদা অংশ ও কুসুম সাধারণত আলাদা করে বোঝা যায়। কিন্তু যদি দুটো অংশ অস্বাভাবিকভাবে মিশে যায় বা স্পষ্ট আলাদা না থাকে, তাহলে খেয়াল করা দরকার।
এছাড়া নকল ডিমের কুসুমে অনেক সময় স্বাভাবিক টেক্সচারের পরিবর্তন দেখা যায় না। অর্থাৎ সেদ্ধ করার পরও এটি অদ্ভুতভাবে একই রকম থেকে যেতে পারে, যা সন্দেহের কারণ হতে পারে।
ডিমের সাদা অংশ খুব বেশি জেলির মতো নরম বা আবার অস্বাভাবিকভাবে শক্ত ও প্লাস্টিকের মতো লাগলে সেটিও স্বাভাবিক নয়।
খোসা দেখে চেনার উপায়
ডিমের খোসা দেখেও কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। আসল ডিমের খোসা সাধারণত কিছুটা ভঙ্গুর এবং ভেতরে একটি পাতলা ঝিল্লি থাকে। অন্যদিকে নকল ডিমের খোসা অনেক সময় বেশি চকচকে, শক্ত এবং অস্বাভাবিক মসৃণ হয়। ডিম ঝাঁকালে যদি ভেতর থেকে পানির মতো শব্দ আসে, তাহলে সেটি হয় নষ্ট, নয়তো সন্দেহজনক। কারণ আসল ডিমের ভেতরের অংশ এতটা তরলভাবে নড়াচড়া করে না।
আগুনে পরীক্ষা
নকল ডিম শনাক্ত করার আরেকটি প্রচলিত পদ্ধতি হলো আগুনে পরীক্ষা। ডিমের খোসা আগুনের কাছে ধরলে যদি পোড়া প্লাস্টিকের মতো গন্ধ বের হয় বা খোসা কালচে হয়ে যায়, তাহলে সেটি ভেজাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এই পদ্ধতি ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত।
স্বাস্থ্যের ঝুঁকি
কৃত্রিম বা ভেজাল ডিম নিয়মিত খেলে তা হজমতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে লিভারের সমস্যা, মেটাবলিজমে ব্যাঘাতসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই ডিম কেনার সময় সতর্ক থাকা এবং সন্দেহজনক ডিম এড়িয়ে চলা জরুরি।
ডিম আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার, তবে সেটি যেন অবশ্যই আসল ও নিরাপদ হয়। বাজার থেকে ডিম কেনার সময় খোসা, গঠন এবং রান্নার পরের পরিবর্তনগুলো খেয়াল করলে সহজেই অনেকটা ধারণা পাওয়া যায়। সচেতন থাকলেই সুস্থ থাকা সম্ভব।
সূত্র: হেলথ লাইন, টাইমস অব ইন্ডিয়া