হালকা নাশতায় ডার্ক চকলেট রাখার উপকারিতা

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫২

সকাল কিংবা বিকেলে হালকা ক্ষুধা লাগলে অনেকেই বিস্কুট, চিপস, কেক বা মিষ্টিজাতীয় খাবার বেছে নেন। এসব খাবার সহজলভ্য হলেও নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য খুব একটা ভালো নয়। এর পরিবর্তে পরিমিত পরিমাণ ডার্ক চকলেট রাখা যেতে পারে হালকা নাশতার তালিকায়। কোকোসমৃদ্ধ ডার্ক চকলেটে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েডসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে ডার্ক চকলেট খেলেও পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস
ডার্ক চকলেটে সাধারণত দুধ চকলেটের তুলনায় কোকোর পরিমাণ বেশি থাকে। কোকোয় থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস শরীরের কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই পরিমিত পরিমাণে বেশি কোকোযুক্ত ডার্ক চকলেট খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে ডার্ক চকলেটের সব ধরনের পণ্য সমান নয়। অনেক পণ্যে কোকোর পাশাপাশি চিনি ও অন্যান্য উপাদানের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই চকলেট কেনার সময় কোকোর শতাংশ, চিনি ও মোট ক্যালরির পরিমাণ দেখে নেওয়া ভালো।
হৃদ্‌স্বাস্থ্যে ভূমিকা
ডার্ক চকলেটে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। কিছু গবেষণায় কোকো ও ডার্ক চকলেটের সঙ্গে রক্তনালির কার্যকারিতা এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের সম্ভাব্য উপকারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে শুধু ডার্ক চকলেট খেলেই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও সক্রিয় জীবনযাপনের অংশ হিসেবে পরিমিত ডার্ক চকলেট খাওয়া যেতে পারে।
ফল ও বাদামের সঙ্গে
ডার্ক চকলেট একা খাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ফল ও বাদামের সঙ্গে মিলিয়েও হালকা নাশতা তৈরি করা যায়। যেমন বেরিতে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার। অ্যাভোকাডোতে রয়েছে ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও স্বাস্থ্যকর চর্বি। অন্যদিকে আখরোটে পাওয়া যায় ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। ফলে অল্প ডার্ক চকলেটের সঙ্গে বেরি, আখরোট বা অন্যান্য বাদাম ও ফল রাখলে নাশতায় পুষ্টির বৈচিত্র্য বাড়ে। এতে শুধু মিষ্টি খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা মেটানো নয়, একই সঙ্গে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানও পাওয়া যায়।
বেশি চিনি এড়িয়ে চলুন
ডার্ক চকলেট বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোকোর পরিমাণ ও চিনির মাত্রা। বেশি কোকো এবং তুলনামূলক কম চিনি রয়েছে—এমন ডার্ক চকলেট বেছে নেওয়া ভালো। কারণ ‘ডার্ক চকলেট’ লেখা থাকলেই সেটি যে কম চিনির হবে, তা নয়। অন্যদিকে চিপস, মিষ্টি বিস্কুট, কেক ও অতিরিক্ত চিনি দেওয়া স্ন্যাকস নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস কমানো উচিত। এসব খাবারের পরিবর্তে ফল, বাদাম ও পরিমিত ডার্ক চকলেটের মতো খাবার রাখা যেতে পারে।
পরিমাণই গুরুত্বপূর্ণ
ডার্ক চকলেটে উপকারী কিছু উপাদান থাকলেও এটি ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবার। তাই বেশি পরিমাণে খাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। দিনে অল্প পরিমাণ ডার্ক চকলেটই যথেষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে চকলেটের পরিমাণের পাশাপাশি পুরো দিনের খাবারের ক্যালরি ও পুষ্টির ভারসাম্যের দিকেও নজর দিতে হবে।
সুস্থ থাকার জন্য কোনো একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি, ডাল, মাছ, বাদাম ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখা জরুরি। ডার্ক চকলেট হতে পারে সেই সুষম খাদ্যাভ্যাসের একটি ছোট অংশ।
সূত্র: এনডিটিভি