শরীরে ভিটামিন এ  পেতে গাজর কীভাবে খাবেন 

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৪৯

গাজর শরীরের জন্য নানাভাবে উপকারী। এতে থাকা বিটা ক্যারোটিন , ভিটামিন দৃষ্টিশক্তি প্রখর করে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়,,রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তবে গাজর কাঁচা না রান্না - কীভাবে খেলে বেশি পুষ্টি উপাদান মিলবে তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন আছে।
‘নিউজ এইট্টিনে’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দৃষ্টিশক্তি প্রখর রাখা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং ত্বক সুস্থ রাখার জন্য গাজরে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন থাকে; কিন্তু কাঁচা অবস্থায় খেলে শরীর সব পুষ্টি উপাদান ঠিকমতো শোষণ করতে পারে না। ভারতীয় ডায়েটিশিয়ান রিঙ্কল শর্মার মতে, কাঁচা গাজরের উদ্ভিজ্জ কোষের দেয়াল বা সেল-ওয়াল বেশ শক্ত হয়, যা শরীর সহজে ভাঙতে পারে না। গাজর হালকা রান্না করলে এবং অলিভ অয়েলের মতো স্বাস্থ্যকর তেলের সাথে খেলে এই বাধা দূর হয়, ফলে শরীর সর্বাধিক ভিটামিন এ শোষণ করতে সক্ষম হয়।
কাঁচা গাজর খেতে বেশ মুচমুচে ও সতেজ অনুভূতি দিলেও, শরীর এর বিটা-ক্যারোটিনের মাত্র ৩ শতাংশই শোষণ করতে পারে। গাজরের কোষের শক্ত দেয়াল পুষ্টি উপাদানগুলোকে এমনভাবে আটকে রাখে যে, অধিকাংশ উপকারী ভিটামিন এ কার্যকরভাবে ব্যবহৃত না হয়েই শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। হালকা তাপ কোষের দেয়ালকে নরম করে এবং শক্ত উদ্ভিজ্জ কলা বা টিস্যু ভেঙে ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে , গাজর রান্না করলে এর ভেতরে আটকে থাকা বিটা-ক্যারোটিন মুক্ত হয়, ফলে কাঁচা খাওয়ার তুলনায় পুষ্টিগুণ প্রায় ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ ভাপে সেদ্ধ বা 'স্টিমিং' করলেই পুষ্টির ক্ষেত্রে বিশাল পার্থক্য তৈরি হয়। ভাপে সেদ্ধ করলে পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো অক্ষুণ্ণ থাকে ঠিকই, তবে গাজর রোস্ট বা বেক করলে বিটা-ক্যারোটিন আহরণের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। উচ্চ তাপে রোস্ট করলে এর প্রাকৃতিক শর্করা ঘনীভূত হয়ে চমৎকার স্বাদ তৈরি করে এবং চোখের জন্য উপকারী ভিটামিন এ-কে পরিপাকতন্ত্রের পক্ষে শোষণ করা অনেক সহজ করে তোলে। গাজরের উপর অলিভ অয়েল বা ক্যানোলা অয়েল ছিটিয়ে দিলে পুষ্টি শোষণ ছয় গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। 
রাতকানা রোগ প্রতিরোধ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার জন্য ভিটামিন এ অপরিহার্য। হালকাভাবে রান্না করা গাজরের সাথে স্বাস্থ্যকর তেল মিশিয়ে খেলে দৈনিক চাহিদার ভিটামিন এ পূরণ হয়। এর পাশাপাশি শরীরকে প্রদাহ এবং বার্ধক্য প্রতিরোধকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকরভাবে শোষণ করতে সাহায্য করে।
গাজর অতিরিক্ত রান্না করবেন না বা সেদ্ধ করে একেবারে নরম করা ঠিক নয়। অলিভ অয়েলে এক চিমটি গোলমরিচ দিয়ে মাত্র ৫ মিনিট হালকা করে ভাজলে এর মুচমুচে ভাব বজায় থাকে এবং পুষ্টি শোষণও সর্বোত্তম হবে।  
কাঁচা গাজরের সালাদ পছন্দ করল সবসময় অলিভ অয়েল, অ্যাভোকাডোর টুকরো, বিভিন্ন ধরনের বীজ যোগ করুন। এতে স্বাস্থ্যকর লিপিডগুলো কাঁচা ফাইবারের সাথে মিশে যায়, যা রান্না করা ছাড়াই বিটা-ক্যারোটিনের শোষণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।
গাজর থেকে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য উপকারিতা পেতে, এগুলো হালকা গরম করুন এবং ফ্যাটযুক্ত খাবারের সাথে খান। রোস্ট করা, ভাপে সেদ্ধ করা কিংবা অলিভ অয়েলে হালকা ভেজে নেওয়া— এভাবে সঠিক উপায়ে খেলে গাজরের পূর্ণ পুষ্টিগুণ পাওয়া সম্ভব।