ট্রাম্প-মাদুরোর ফোনালাপ, তবুও কমেনি উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ২২:০০

দুদেশের সম্পর্কের অবনতির মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ফোনকলটি সপ্তাহখানেক আগে করা হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কি বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, তা জানা যায়নি।
গণমাধ্যমটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দুই নেতার মাঝে একটি সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। একাধিক সূত্র অবশ্য নির্দিষ্ট ফল জানাতে পারেনি। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি অব্যাহত রেখেছে এবং যেকোনো সময় হামলার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ফোনালাপটিতে গুরুত্ব পেয়েছিল সম্ভাব্য বৈঠক ইস্যুতে। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা আপাতত নেই বলে একজন সূত্র জানান। ফোনকলটিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অংশ নেন। কলটি এমন সময় হয়েছিল, যখন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মাদুরোকে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতা হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে ভেনেজুয়েলাকে লক্ষ্য করে উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলেছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের লক্ষ্য মাদক পাচার রোধ করা। তবে একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করেছেন যে তারা মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চান—প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহার করেও।
গত অক্টোবর নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মাদুরো উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে বড় ধরনের অংশীদারিত্বসহ মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য নানা সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতায় থাকার শর্ত বজায় রাখায় মার্কিন কর্মকর্তারা গত মাসের শুরুর দিকেই আলোচনা বন্ধ করে দেন।
হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র ট্রাম্প-মাদুরোর সবশেষ ফোনকল নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। ভেনেজুয়েলা সরকারও মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। ভেনেজুয়েলা সরকারের ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন যে দুই নেতার মধ্যে সরাসরি ফোনালাপ হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ করতে চাননি।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প যুদ্ধ প্রস্তুতির ঘোষণাও দিয়ে বসেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভেনেজুয়েলা ও এর আশপাশের আকাশপথ ‘পুরোপুরিই বন্ধ’ বিবেচনা করতে সব এয়ারলাইনসসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন। কিন্তু এর দ্বারা কী বুঝিয়েছেন, তা ট্রাম্প ব্যাখ্যা করেননি।