যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার কে এই হিশাম

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:১৭
জামিল আহমেদ লিমন (২৭) ও গ্রেপ্তার হিশাম আবুঘারবিয়াহ

যুক্তরাষ্ট্রে ১০ দিন ধরে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজন জামিল আহমেদ লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার রুমমেট ২৬ বছর বয়সী সাবেক ইউএসএফ শিক্ষার্থী হিশাম আবুঘারবিয়াহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিখোঁজ আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির সন্ধান এখনও পায়নি পুলিশ।

হিশামকে জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে জামিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের (পুলিশ) কার্যালয় জানিয়েছে। 
জামিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। আর নাহিদা একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডির শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জামিল ও নাহিদাকে সর্বশেষ দেখা যায় ১৬ এপ্রিল। সেদিন জামিলকে সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তার ছাত্রাবাসে দেখা যায়। অন্যদিকে নাহিদাকে সর্বশেষ দেখা যায় সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে।
হিলসবরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার এক বিবৃতিতে বলেন, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা, যা সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়াহর বিরুদ্ধে মারধর, অবৈধভাবে আটক, প্রমাণ নষ্ট করা, মৃত্যুর তথ্য গোপন রাখা এবং মৃতদেহ সরানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের আগে সন্দেহভাজন হিশামকে অন্তত দু’বার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে দ্বিতীয় জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি সহযোগিতা বন্ধ করে দেন বলে জানায় পুলিশ। এরপর শুক্রবার সকালে বাড়িতে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তিনি বাড়ির ভেতর নিজেকে আটকে রাখলে সোয়াট টিম ঘটনাস্থলে যায়। পরে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
নিউজউইকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লিমনের সাবেক রুমমেট ২৬ বছর বয়সী তরুণ হিশাম আবুঘারবিয়াহ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তিনি ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক সহিংস অপরাধের অভিযোগ ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। 
আদালত ও শেরিফ অফিসের রেকর্ড বলছে, ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত করা এবং একটি বাড়িতে চুরির অভিযোগ ওঠে। তবে সে সময় এগুলোকে অপেক্ষাকৃত লঘু অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০২৩ সালে মারধরের অভিযোগে তাকে দু’বার গ্রেপ্তার করে পুলিশ, তবে পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, লিমনের মৃত্যুর কারণ এখনও জানাতে পারেনি মেডিকেল টিম। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন শিগগিরই প্রকাশ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিবার জানায়, তারা ১০ দিন ধরে লিমনের খোঁজ করছিলেন। তার ভাই জুবায়ের আহমেদ বলেন, আমরা ভীষণ কষ্টে আছি। কী ঘটেছে, শুধু সেটা জানতে চাই।
লিমন ও বৃষ্টি বিয়ের বিষয়ে ভাবছিলেন বলে জানিয়েছেন জুবায়ের আহমেদ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মোয়েজ লিমায়েম বলেন, শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি নিখোঁজ বৃষ্টি যেন অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসেন সে কামনা করেন। সূত্র: সিএনএন