নিউ ইয়র্কে একটি বাড়ি কেনা বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন, কিন্তু সিটিজুড়ে বাড়ির যে দাম, তাতে সাধের সঙ্গে হয় না সাধ্যের মিল। এর ফলে নগরে বাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ হয় না অনেকের।
এ ধরনের লোকজন নিউ ইয়র্ক স্টেইটের কোথায় সাধ ও সাধ্যের মধ্যে বাড়ির সন্ধান পাবেন, তা জানাচ্ছেন বেটার হোমস রিয়েলটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা-সিইও আসিফ এ. চৌধুরী।
প্রশ্ন : আগেই চিন্তা করি যে, আমরা অ্যামেরিকায় যাব, স্বপ্নের আমেরিকায় গিয়ে আমার নিজের স্বপ্ন পূরণ করব এবং সেই স্বপ্ন পূরণের একটি অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে একটি বাড়ি; সুন্দর একটি বাড়ি, কিন্তু নিউ ইয়র্কে যারা আমরা আছি, নিউ ইয়র্ক সিটির ভেতরে যারা আছি, সহজে একটি বাড়ি কেনাটা একটা কল্পনাতীত ব্যাপার। বাড়িটা এত বেশি দাম, বলা যেতে পারে আকাশচুম্বী।
আমাদের সাধ এবং সাধ্যের মধ্যে সেটা কুলায় না। সে কারণে আপনার কাছে, যেহেতু আপনি এই রিয়েলটর ব্যবসার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত আছেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আপনার। সেই ক্ষেত্রে আপনার কাছে জানতে চাইব যে আমার এই স্বপ্নটি বাস্তবায়িত করার জন্য, পূরণ করবার জন্যে নিউ ইয়র্কের আশেপাশে কোথায় এমন জায়গা আছে, যেখানে একটি সুন্দর বাড়ি কিনতে পারি, আমি থিতু হতে পারি এবং স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারি। একই সাথে আপনার, আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারি। কোথায় পেতে পারি?
আসিফ এ. চৌধুরী: ধন্যবাদ ভিউয়ার্স। ধন্যবাদ রানা ভাই। আমি বিগত দুই-তিন বছর থেকেই আপনাদের সাথে যুক্ত আছি এবং প্রত্যেক বছরই প্রত্যেক মাসেই না একবার আসা হয়। আমার তো প্রাউড পার্ট অব টিবিএন ফ্যামিলি। এটাই প্লেজার। প্রথমে বলে নিই যে আপনি এটা বিরাট একটা কোশ্চেন করছেন কোথায় বাড়ি কিনা যাবে সাধ এবং সাধ্যের মধ্যে।
আমরা অনেকেই দেখতে পাচ্ছি যে, চার-পাঁচ বছর হয়েছে এ দেশে এসেছি। এখনও কিছু, মানে প্রোপার্টি নিতে পারিনি। প্রথমে আমি বলে নিই, যারা বাড়ি কিনতে চান তারা একটা প্ল্যানওয়াইজ কাজ করতে হবে। হঠাৎ করে আপনি চাইলেও, টাকা থাকলেও বাড়ি কিনতে পারবেন না। কারণ বাড়ি কেনার অনেকগুলো বিষয় আছে। যেমন: কোথায় কিনবেন, কীভাবে কিনবেন, কার মাধ্যমে যাবেন, কোন টাইপের বাড়ি আপনার জন্য সুইটেবল হবে, স্কুল সমস্যা বা জব সমস্যা। এগুলো সবকিছু কনসিডার করে আপনাকে এটা নিতে হবে।
বর্তমানে যেহেতু আপনি বলছেন যে কোথায় লোয়েস্ট পয়েন্ট, লোয়েস্ট মানি ডাউন দিয়ে (সিটির) আশেপাশে হতে হবে; খুব বেশি দূর হলে অন্য স্টেইটেও হবে না।
তো বিগত দুই তিন বছর যখন আমি প্রথম এসেছিলাম, বিঙ্গেমটনের কথা বলছিলাম। বিঙ্গেমটনে গত দুই-তিন বছরে প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার আমাদের কমিউনিটির লোকজন চলে গেছে। ওখানে তো প্রাইসটা একটু স্লাইটলি হায়ার হয়ে গেছে। যেটা হান্ড্রেড থাউজ্যান্ড ছিল, সেটা হান্ড্রেডএইটি, টুথাউজ্যান্ডের কাছাকাছি চলে গেছে। মানে চার বছর আগে তারা যে দামে কিনেছে, এখন চার বছর পরে প্রায় ডাবল হয়ে গেছে। সেইম আলবেনিতে হয়ে গেছে। এখন সবচেয়ে বেস্ট আপনি বাড়ি পাবেন সাইরাকিউজ বলে নিউ ইয়র্কের একটা অংশে।
এখানে খুব ভালো ইউনিভার্সিটি, স্কুল-কলেজগুলা খুব ভালো এবং নিউ ইয়র্কের ভিতরেই কিন্তু আপনার এয়ারপোর্ট আছে, আপনার হসপিটাল ভালো আছে। আমাদের বাঙালি কমিউনিটির অনেক ডাক্তার ওখানে সেটেল হয়েছেন।
আজকাল ছেলে-মেয়েরাও আমাদের ওই সাইরাকিউজ ইউনিভার্সিটিতে অ্যাডমিশন নিয়ে যাচ্ছে। এয়ারপোর্ট আছে। নিউ ইয়র্ক সিটির সাথে বাসেরও যোগাযোগ আছে। খুব বেশি দূরও না। চার ঘণ্টা, সাড়ে চার ঘণ্টা।
ইন বিটুইন বাফেলো এবং বিঙ্গেমটন নিউ ইয়র্কের মধ্যে এটা পড়ে। এক্সাক্টলি বাফেলোর মধ্যে না; বাফেলোর কাছাকাছি।
বাফেলোতেও মনে করেন যে, আট-দশ বছরে যে বাড়ির প্রাইস যেটা ছিল, সেটা কিন্তু এখন আর নাই। বাফেলো আপসাইড হয়ে গেছে। আপসাইড আমাদের কমিউনিটির লোকজন গিয়ে দামটা বেড়ে গেছে।
তো ওই যে আমি এক্সাক্টলি বলব যে, বার্গেইন যে প্রাইস যেটা, সেটা কিন্তু বাফেলোতে নাই বা বিঙ্গেমটনেও নাই বা আলবেনিতেও নাই।
আমরা যারা কম পয়সায় নিতে চাই, বাংলাদেশ থেকে আসছি। একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিতে চাই বেসিক্যালি। তো এই মুহূর্তে গ্রেট লোকেশন হচ্ছে সাইরাকিউজ। আপনি ফিফটি থাউজ্যান্ড ডলারেও একটা বাড়ি পাবেন, থার্টিফাইভ থাউজ্যান্ড, ফোর্টি থাউজ্যান্ড, আন্ডার ফিফটি থাউজ্যান্ডের মধ্যেও একটা বাড়ি নিতে পারবেন এবং যদি হান্ড্রেড থাউজ্যান্ডে যান, তাহলে আরও অনেক বাড়ি…বা এটাকে ৫০ হাজার দিয়ে নিয়ে আরও ৫০ হাজার দিয়ে সে বাড়িটা রেনোভেট করে নিলে সেটা রাজকীয় বা বসবাসের উপযোগী…কারণ ওইখানে তো নিউ ইয়র্কের স্টেইটের যে বেনিফিট যেটা, সেটা কিন্তু আপনার নষ্ট হচ্ছে না। সবই বহাল আছে। এগজ্যাক্টলি সেইম থাকবে।