নিউইয়র্কের সিলেট এম.সি. অ্যান্ড গভর্নমেন্ট কলেজ এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ ইনক. এবার একটি স্থায়ী বৃত্তি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সাল থেকে সিলেটের দুই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—মুরারিচাঁদ কলেজ ও সরকারি কলেজের মোট চল্লিশজন শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পাবেন।
১৮ আগস্ট, সোমবার, নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের সানাই রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। সংগঠনের সভাপতি সফিক আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রেজাউল করিম রেজুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সংগঠনের নির্বাহী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে প্রতি শিক্ষার্থীকে বছরে সাত হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হবে। এর মধ্যে এম.সি. কলেজের ২৫ জন (বিভাগভিত্তিক ১৫ জন, ইন্টারমিডিয়েট ৪ জন ও পাস কোর্স ৬ জন) এবং সরকারি কলেজের ১৫ জন (বিভাগভিত্তিক ৫ জন ও ইন্টারমিডিয়েট ও পাস কোর্সে ১০ জন) শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
বৃত্তির জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক বাছাই সম্পন্ন করা হবে এবং ১৫ নভেম্বর কার্যকরী পরিষদের অনুমোদনের পর ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বৃত্তি বিতরণ করা হবে। আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। কিউআর কোড স্ক্যান করে নির্দিষ্ট ফরম পূরণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করলেই আবেদন জমা দেওয়া যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে স্কলারশিপ উপকমিটির চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন কর্মসূচির বিস্তারিত বিবরণ পাঠ করেন। তিনি জানান, শুরুতেই প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য সাত হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও, আগামী বছরগুলোতে বৃত্তির অঙ্ক ও পরিধি বাড়ানো হতে পারে। তাঁর ভাষায়, এই উদ্যোগ মেধাবী অথচ আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে, তাদের স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হবে এবং শিক্ষাজীবনে অগ্রসর হওয়ার প্রেরণা যোগাবে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, সংগঠনের কার্যকরী পরিষদ ও শুভানুধ্যায়ীরা আর্থিক ও নৈতিক সহায়তা অব্যাহত রাখবেন।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন শুধু প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধিই নয়, সামাজিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি জাতীয় দিবস উদযাপন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বনভোজন, ইফতার মাহফিলের পাশাপাশি কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিপন্ন মানুষকে সহায়তা, বন্যাদুর্গতদের সাহায্য, কলেজ ক্যাম্পাসে সবুজায়ন প্রকল্প এবং ম্যাগাজিন প্রকাশের মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে।
এ সময় অধ্যাপক ম. আমিনুল হক চুন্নু এম.সি. ও সরকারি কলেজের ঐতিহ্য এবং বিশ্বব্যাপী সুনামের কথা উল্লেখ করেন। দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী বলেন, এম.সি. কলেজের মেধাবীরা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে আছেন, তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি ও কল্যাণমূলক কাজে যুক্ত করার জন্য সংগঠন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাংবাদিক ও টাইম টেলিভিশনের সিইও আবু তাহেরের প্রশ্নের জবাবে শাকাওত আলী বৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া ও চূড়ান্তকরণের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এলামনাই নেতা কবির চৌধুরী শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, উচ্চমাধ্যমিক সময় একজন শিক্ষার্থীর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিজের ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, প্রবাসে থেকেও তাঁরা প্রিয় শিক্ষাঙ্গনকে ভুলে যাননি।
অনুষ্ঠানে প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী, সাপ্তাহিক ঠিকানার সম্পাদক এম এম শাহীন, সাংবাদিক মনজুরুল হক, রাশিদা আখতারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে অতিথিদের নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়।
উল্লখ্য, নিউইয়র্কে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এলামনাই সংগঠন থাকলেও সিলেট এম সি ও সরকারি কলেজের এলামনাইরা প্রথমবারের মত স্থায়ী বৃত্তি কর্মসুচী চালু করে দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করেছেন।