ফ্রান্সসহ চারটি দেশে এনআইডি সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে সরকারের সম্মতি পেয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীর বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, "ফ্রান্স, স্পেন, বাহারাইন ও সিঙ্গাপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সম্মতি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।"
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, মালদ্বীপ, জর্ডান ও দক্ষিণ আফ্রিকায় এ কার্যক্রম চালানোর অনুমতি পেয়েছিল ইসি।
ইতোমধ্যে ১০টি দেশের ১৭টি মিশনে এনআইডি কার্যক্রম পরিচালনা করছে এনআইডি অনুবিভাগ।
দেশগুলো হলো- সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও জাপান। এসব দেশ থেকে ৫০ হাজার প্রবাসী ভোটার হয়ে এনআইডি নিতে আবেদন করেছেন।
ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে প্রবাসীদের চার তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক।
বিদেশে বসে ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র (ফরম-২(ক), মেয়াদ সম্বলিত বাংলাদেশি পাসপোর্ট/মেয়াদহীন পাসপোর্ট/এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যায়ন, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কেন্দ্রে (দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট ডেস্কে) জমা দিতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের চার মিশনে এনআইডি সেবা আসছে
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের এনআইডি সেবা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের চার শহরে কারিগরি ও প্রশাসনিক টিম পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস এবং নিউ ইয়র্ক, মায়ামি ও লসএঞ্জেলেস কনসুলেট অফিসে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপন, লোকবল প্রশিক্ষণ শুরু হবে।
বুধবার কারিগরি ও প্রশাসনিক টিম পাঠানোর বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করেছে ইসি সচিবালয়।
সেখানে বলা হয়, ২১ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর দুটি প্রশাসনিক টিম যুক্তরাষ্ট্রে যাবে।
ইসি সচিব আখতার আহমদের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক টিম নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসিতে কাজ করবে। আর মায়ামি ও লস অ্যাঞ্জেলেসে কাজ করবে এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বাধীন টিম।
তার আগে ১৪ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর চার শহরে চারটি কারগরি টিম যাবে। তারা দূতাবাস ও কনসুলেট অফিসের লোকবলকে প্রশিক্ষণ দেবে এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বসিয়ে, ডেটা কানেকটিভিটির ব্যবস্থা করে নিবন্ধন কার্যক্রমের ‘টেস্ট ট্রায়াল’ করবে।
২০০৭-২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন শুরুর সময়ই প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করা ও এনআইডি দেওয়ার দাবি ওঠে।
দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন নিয়ে নানা ধরনের জটিলতা পেরিয়ে তৎকালীন কমিশন ২০১৯ সালের নভেম্বরে মালয়েশিয়ায় অনলাইন নিবন্ধনের কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু এরপর কোভিড মহামারীতে সেই উদ্যোগ থমকে যায়।
পরে আবার সেই কাজে গতি আনার উদ্যোগ নিলেও গত কমিশনের সময় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে কার্যক্রম শুরু হয়।
৫ অগাস্টের পটপরিবর্তনের পর আবার স্থবিরতা দেখা দেয় এ কার্যক্রমে। এ ধারাবাহিকতায় বর্তমান এ এম এম নাসির উদ্দিন কমিশন কার্যক্রম শুরু করে।
ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের এনআইডি সেবা দেওয়া হচ্ছে।