কাতারে গোপনীয়তা লঙ্ঘনে জেল, এক লাখ রিয়াল জরিমানা

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৭ আগস্ট ২০২৫, ১৪:৪০

কাতারের সাইবার অপরাধ আইনে নতুন সংশোধনীতে জনসমক্ষে ছবি বা ভিডিও তোলার সময় উদ্দেশ্য ও মনোযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই আইনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনসাধারণের গোপনীয়তা রক্ষা এবং অনৈতিকভাবে ছবি বা ভিডিও তোলা রোধ করা।
এ অবস্থায়, কাতারের সৃজনশীল ও কনটেন্ট নির্মাতারা নতুন নিয়মাবলী মেনে দেশটির সৌন্দর্য উদযাপন করার পথ খুঁজছেন। তারা চেষ্টা করছেন এমনভাবে ছবি বা ভিডিও তৈরি করতে যা আইন মেনে চলে, তবে দেশের দর্শনীয় স্থান ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরে।
দোহা নিউজ জানায়, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে সরকারি রাজ্যপত্রে প্রকাশিত নতুন সংশোধনীতে সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের আইন নং ১৪-এ ধারা (৮ বিআইএস) প্রবর্তন করেন। এই নতুন ধারায় উল্লেখযোগ্য শাস্তি ধার্য করছে, যা অনলাইন অপরাধ বা নিয়মভঙ্গের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
নতুন আইন অনুযায়ী, যে কেউ অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ধারণ বা শেয়ার করে অন্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করলে তাকে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক লাখ কাতারি রিয়াল জরিমানা কিংবা এই দুটি শাস্তির যেকোনো একটি দেওয়া হতে পারে।
সাংবাদিক মৌজা আল-ইসহাক বলেছেন, দোহার জনাকীর্ণ বাজারে যাওয়া বা জনসাধারণের অনুষ্ঠানে যোগদানের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা এখন আগের মতো উদ্বেগের বিষয় নয়। তিনি উল্লেখ করেছেন, নতুন সংশোধনী আইন নারী এবং মিডিয়া পেশাদারদের জন্য সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
সাংবাদিক মৌজা আল-ইসহাকের মতোই আলোকচিত্রী মেরি ও ভ্যালেরিয়া লরিতি এই আইনকে স্বাগত জানান। নতুন আইনিটি গোপনীয়তা রক্ষার পাশাপাশি ডিজিটাল ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারবে বলে মনে করছেন তারা।
তবে এক্ষেত্রে কিছু ব্যবহারিক প্রশ্ন রিয়ে যায়। যেমন ছবি বা ভিডিওর ক্ষেত্রে মৌখিক সম্মতি কি যথেষ্ট, নাকি লিখিত প্রমাণ দরকার? ভিড়ের মধ্যে ছবি তুলতে গেলে কি সব ব্যক্তির অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন? এক্ষেত্রে আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সাধারণ ভিড়ের মধ্যে ছবি তুলতে সকলের সম্মতি লাগেনা, তবে যখন কেউ মূল বিষয় হয় বা ছবিটি মর্যাদা বা গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ করতে পারে, তখন স্পষ্ট সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
এ বিষয়ে কাতারের আইনজীবী ডঃ রিম আল-আনসারীর মতে, পাবলিক প্লেসে ছবি তোলার সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে কেউ উপস্থিত হওয়া এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। স্বতঃস্ফূর্ত ছবি তোলা সাধারণত গ্রহণযোগ্য, তবে স্পষ্ট বোঝা যায় এমন ব্যক্তিদের ছবি এড়ানোই নিরাপদ। তিনি উল্লেখ করেছেন, পেশাদার সরঞ্জাম ব্যবহার করে ছবি তোলার সময় স্পষ্ট অনুমতি ও রেকর্ড রাখা গুরুত্বপূর্ণ। লিখিত ও স্বাক্ষরিত সম্মতি থাকলে তা প্রকাশের পর প্রত্যাহার করা যায় না।