নিউইয়র্কে আন্তধর্মীয় ভিজিল: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হত্যার বিরুদ্ধে একাত্মতা প্রকাশ

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫৫


তীব্র শীত উপেক্ষা করে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশে সংঘটিত সংখ্যালঘু নির্যাতনে নিহতদের স্মরণে এক আন্তধর্মীয় ভিজিল ও স্মরণসভা। হিন্দু, মুসলিম, ইহুদি, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান সহিংসতার প্রতিবাদ জানানো হয় এবং বিশ্বজুড়ে মানবিক সংহতির আহ্বান জানানো হয়। ১ ফেব্রুয়ারি (রোববার) সন্ধ্যায় আয়োজিত এ কর্মসূচিটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ২০টিরও বেশি শহরে চলমান ধারাবাহিক সচেতনতা অভিযানের অংশ। এর আয়োজক ছিল কোহনা ও হিন্দু অ্যাকশন। স্থানীয় সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন হিন্দু অ্যাকশনের উপদেষ্টা ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট শুভ রায় এবং পঙ্কজ মেহতা।
মূলত টাইমস স্কোয়ারে উন্মুক্ত ভিজিল আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও প্রচণ্ড ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে অনুষ্ঠানটি স্থানান্তর করা হয় জ্যাকসন হাইটস এলাকায়। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন ধর্ম ও পটভূমির মানুষের আগ্রহপূর্ণ উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে পরিণত করে এক আন্তধর্মীয় সংহতির মঞ্চে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ব শান্তি সংস্থা HWPL-এর প্রতিনিধি আন্দ্রে ফাদেল ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানব মর্যাদা রক্ষায় আন্তধর্মীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ইসকন নিউইয়র্কের সভাপতি হংস রূপ দাস করুণা ও ন্যায়বোধের বার্তা দেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের নেত্রী সুরায়া দীন ধর্মের নামে সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানান। জৈন ধর্মের প্রতিনিধি চারুল কোঠারির পাঠ করা বার্তায় অহিংসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের দর্শন স্মরণ করা হয়। শিখ নেতা কমল পুরি ন্যায় ও সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর শিখ ঐতিহ্যের কথা বলেন।
ভিজিলে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য জেনিফার রাজকুমার। তিনি সংখ্যালঘু নির্যাতনের কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই বিষয়ে তিনি আইনসভা ও জনপরিসরে সরব থাকবেন। তিনি একটি শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশে নিহতদের নাম পাঠ করা হয়, প্রতিটি নামের সঙ্গে জ্বালানো হয় মোমবাতি ও প্রদীপ, পালন করা হয় নীরবতা। আয়োজক পঙ্কজ মেহতা বলেন, “এই ভিজিল শুধু স্মরণ নয়, এটি একটি বার্তা। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ক্যাপিটল হিলে কংগ্রেশনাল ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে আমরা এই বিষয়গুলো কংগ্রেসে তুলব।” স্মরণসভা সমন্বয়ে আন্তঃকমিউনিটি সংগঠক হিসেবে ছিলেন পঙ্কজ মেহতা, সহযোগিতা করেন ভারতীয় ডায়াস্পোরার সত্য সেনাপতি।