তারা হয়তো বোঝেন না, পর্দা আর বাস্তব জীবন কতটা আলাদা: সাদনিমা

নতুনধারা
  ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৩৫

সাদনিমা বিনতে নোমান। তারকা অভিনেত্রী। সম্প্রতি দর্শকের মাঝে সাড়া ফেলেছে তাঁর অভিনীত একক নাটক ‘আপনপর’, ‘আনারকলি’ ও ‘মায়ার মানুষ’। এরই মাঝে গতকাল হিয়া এন্টারটেইমেন্ট ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ পেয়েছে আরেকটি একক নাটক ‘তোমার ঠিকানায়’; যেখানে নতুন এক চরিত্রে দেখা মিলেছে এই অভিনেত্রীর। ছোটপর্দার এসব আয়োজন ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ।
মাত্র এক মাসে আপনার সাতটি নাটক প্রকাশ পেল; যার সবই দর্শক মনোযোগ কেড়ে নিতে শুরু করেছে। কোনো উৎসব ছাড়াই এমন কিছু হতে পারে ভেবেছিলেন?
সব সময় দেখে আসছি, কোনো উৎসব বা দিবসে একসঙ্গে বেশ কিছু নাটক টিভিতে প্রচার নয়তো ইউটিউবে প্রকাশ পাচ্ছে। কিন্তু এই সময়ে এমন কিছুর সাক্ষী হবো সত্যি ভবিনি। অল্প সময়ে এত নাটক প্রকাশ পাওয়া যতটা না ভালো লাগার, তার চেয়ে বেশি আনন্দের এই নাটকগুলো দর্শক দেখছেন এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরছেন। একজন তরুণ অভিনেত্রী হিসেবে এটি আমার জন্য অন্যরকম এক পাওয়া।
সদ্য প্রকাশিত ‘তোমার ঠিকানায়’ নাটকটি নিয়ে জানতে চাই। আপনার আগের নাটকগুলো থেকে এর গল্প ও চরিত্রে আলাদা কিছু চোখে পড়বে কি?
‘তোমার ঠিকানায়’ একটি পারিবারিক গল্পের নাটক। আগেও বেশ কিছু ফ্যামিলি ড্রামায় কাজ করেছি। তবে সেসব নাটক থেকে এর গল্প কিছুটা হলেও আলাদা। চরিত্রেও আছে ভিন্নতা। তারচেয়ে বড় বিষয় হলো– পরিচালক সেরনিয়াবাত শাওন যেভাবে গল্প ও চরিত্রগুলো নাটকে তুলে ধরেছেন, তা দর্শক মনে ছাপ ফেলবে বলে আশা করছি।
এ পর্যন্ত যত কাজ করছেন, তার মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া বাকি সব নাটকে আপনার বিপরীতে ছিলেন খায়রুল বাসার। নিজের ইচ্ছাতে নাকি নির্মাতাদের চাওয়া থেকে এই অভিনেতার সঙ্গে বারবার জুটি বাঁধা?
দর্শকের চাওয়া থেকে আসলে খায়রুল বাসারের সঙ্গে জুটি বেঁধে একের পর এক কাজ করে যাওয়া। নির্মাতারা জুটি গড়েন দর্শকের ভালো লাগা, মন্দ লাগার বিষয়টি কথা মাথায় রেখে। দুই-তিনটি নাটকে অভিনয়ের পর থেকে খায়রুল বাসার ও আমাকে নিয়ে দর্শক কৌতূহল বেড়ে গিয়েছিল। তাই নির্মাতারাও আমাদের নিয়ে একনাগাড়ে কাজ করে গেছেন। একের পর এক নাটক দর্শক মনোযোগ কেড়ে নেওয়ায়, জুটি হিসিবেও আমরা প্রতিষ্ঠা পেয়ে গেছি। যেহেতু দর্শকের জন্য অভিনয় জীবন বেছে নেওয়া, তাই চেষ্টা করে যাচ্ছি, তাদের ভালো লাগাকে প্রাধান্য দিতে।
যখন কোনো জুটি প্রতিষ্ঠা পায়, তখন প্রেমের গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। খায়রুল বাসারকে নিয়ে এমন কোনো গুজব-গুঞ্জন কানে আসে?
গুজব তো গুজবই। তাই কে কী বলছে, সেদিকে কান না দিয়ে নিজের মতো কাজ করে যাওয়াই শ্রেয় বলে মনে করি। খেয়াল করেছি, কোনো জুটি দর্শকের ভালো লেগে গেলে, বাস্তব জীবনেও তাদের একসঙ্গে দেখার ইচ্ছা পোষণ করেন অনুরগীরা। তারা হয়তো বোঝেন না যে, পর্দা আর বাস্তব জীবন কতটা আলাদা।
‘মনেরই রঙে রাঙিয়ে’ নাটকে আপনি ছিলেন তৌসিফ মাহবুবের সহশিল্পী। এবার তাঁর বিপরীতে অভিনয় করলেন ‘আপনপর’ নাটকে। কেমন ছিল তাঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা?
‘মনেরই রঙে রাঙিয়ে’ নাটকে অভিনয় সময় তৌসিফ মাহবুবকে যেমন দেখেছিলাম, এখনও তেমনি আছেন। বড় তারকা হওয়ার পর বিন্দুমাত্র অহম ভর করেনি তাঁর মনে। তখনও যেভাবে অভিনয়ে সহযোগিতা করেছেন, এখনও ততটাই হেল্পফুল। কাজের প্রতি তাঁর যে নিষ্ঠা, তা সত্যি অনুকরণ করার মতো।
আপনার অভিনয় ক্যারিয়ার বেশি দিনের নয়, তারপরও ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। এই ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়াকে কীভাবে দেখছেন?
গুণীজনরা বলেন, ব্যস্ত থাকাই বহমান জীবনের নিয়ম। আমিও এই কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। তাই যখন যে কাজ হাতে নিচ্ছি, তা আনন্দের সঙ্গে শেষ করার চেষ্টা করছি। অনেকের মতো এমন ব্যস্ততা আমার কাঙ্ক্ষিত।