রুশ তেল আমদানি বন্ধ না হলে ভারতের শুল্ক কমাবেন না ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ২৯ আগস্ট ২০২৫, ২৩:০৫

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভারত যদি রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানি কমাতে ব্যর্থ হয়, তবে ট্রাম্পও ভারতীয় পণ্যে আরোপিত শুল্ক কমাবেন না।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
মার্কিন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিল) পরিচালক হ্যাসেট বুধবার বলেন, ‘যদি ভারতীয়রা না সরে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সরবেন না।’ তিনি বাণিজ্য আলোচনাকে ‘জটিল’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, ভারত তাদের বাজার মার্কিন পণ্যের জন্য উন্মুক্ত করতে ‘অনমনীয়’ অবস্থান নিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন বুধবার ভারতীয় পণ্যে দ্বিগুণ শুল্ক আরোপ করে তা ৫০ শতাংশে উন্নীত করেছে—যা ব্রাজিল ছাড়া অন্য কোনো দেশের জন্য সর্বোচ্চ। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল আমদানির কারণে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক।
হ্যাসেট বলেন, ‘আলোচনার একটি অংশ যুক্ত হয়েছে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর সঙ্গে। আমরা শান্তিচুক্তি এগিয়ে নিতে এবং লাখো প্রাণ রক্ষা করতে চাইছি। আরেকটি অংশ হলো ভারত তাদের বাজার খুলতে চাইছে না।’
তিনি বাণিজ্য আলোচনাকে ‘ম্যারাথনের মতো’ উল্লেখ করে বলেন, ‘এখানে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি। উত্থান-পতন আসবে, কিন্তু চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতেই হবে।’

ট্রাম্প টিমের অবস্থান
হ্যাসেটের এই মন্তব্য প্রতিধ্বনিত করেছে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের বক্তব্যকে। তিনিও সম্প্রতি বলেছেন, উচ্চ শুল্ক আরোপ শুধু রাশিয়ান তেল আমদানির কারণে নয়, বরং দীর্ঘায়িত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনার কারণেও।
বেসেন্ট বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম মে বা জুনের মধ্যেই একটি চুক্তি হবে। ভারত প্রথম দিককার চুক্তিগুলোর একটি হতে পারত। কিন্তু তারা আমাদের সময়ক্ষেপণ করিয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ‘আলোচনায় ভারত কিছুটা অনীহা দেখিয়েছে। এটি সত্যিই জটিল সম্পর্ক। তবে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ও বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হবেই।’

ভারতের অবস্থান
অন্যদিকে ভারত জোর দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে তারা নতি স্বীকার করবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ‘‘দেশের কৃষকদের স্বার্থে কোনো আপস করা হবে না।’
সরকারি হিসাবে, নতুন শুল্কের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ভারতীয় রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, তাত্ক্ষণিক প্রভাব সীমিত মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান হ্রাস ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।