
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা যখন ক্রমশ বাড়ছে, ঠিক তখনই প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে—ইমিগ্র্যান্টদের জন্য ২০২৬ সালে সবচেয়ে অনুকূল অঙ্গরাজ্য হিসেবে শীর্ষে রয়েছে ভার্জিনিয়া। গবেষণাটি প্রকাশ করেছে স্মাইলহাব নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সব ৫০টি অঙ্গরাজ্যের পরিবেশ বিশ্লেষণ করে এই র্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, সামাজিক পরিবেশ ও সহায়তা, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং আইনি পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা—এই তিনটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যগুলোর মূল্যায়ন করা হয়। এসব সূচকে ভালো ফল করায় ভার্জিনিয়া প্রথম স্থান অর্জন করেছে। তালিকায় ইমিগ্র্যান্টদের জন্য অনুকূল অঙ্গরাজ্যের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জর্জিয়া, এরপর নেব্রাস্কা, আরকানসাস এবং নর্থ ক্যারোলাইনা।
অন্যদিকে গবেষণায় দেখা গেছে, ইমিগ্র্যান্টদের জন্য সবচেয়ে কঠিন পরিবেশের অঙ্গরাজ্য হলো আলাস্কা। তালিকার শেষের দিকে আরও রয়েছে ওরেগন, হাওয়াই, অ্যারিজোনা এবং নিউ মেক্সিকো। এসব অঙ্গরাজ্যে সামাজিক সহায়তা, অর্থনৈতিক সুযোগ কিংবা আইনি স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ইমিগ্র্যান্টরা তুলনামূলকভাবে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণাটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো যখন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন প্রয়োগ নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করা ইমিগ্র্যান্টদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং ব্যাপক বহিষ্কার কার্যক্রম চালাচ্ছে।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় পাঁচ কোটি বিশ লাখ ইমিগ্র্যান্ট বসবাস ও কাজ করছেন। এদের অনেকেই বিভিন্ন পেশায় যুক্ত থেকে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ২০২৫ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় লাখ পাঁচ হাজারের বেশি ইমিগ্র্যান্টকে আমেরিকা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যাদের তারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
প্রশাসন ইমিগ্র্যান্ট বহিষ্কারের গতি বাড়াতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এবং বর্ডার পেট্রোল বাহিনীর তৎপরতা বাড়িয়েছে। তবে এই পদক্ষেপকে ঘিরে দেশজুড়ে সমালোচনা ও প্রতিবাদও দেখা দিয়েছে। অনেক মানবাধিকার সংগঠন ও ইমিগ্র্যান্ট অধিকারকর্মীরা বলছেন, কঠোর এই নীতির ফলে বহু পরিবার বিচ্ছিন্ন হচ্ছে এবং ইমিগ্র্যান্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইমিগ্র্যাশন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিভাজন যত বাড়ছে, ততই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ইমিগ্র্যান্টদের জন্য পরিবেশও ভিন্ন হয়ে উঠছে। ফলে কোথায় ইমিগ্র্যান্টরা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও সুযোগসুবিধা পাবেন—তা এখন ক্রমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠছে।