আমেরিকার ২৫০ বর্ষপূর্তিতে নিউইয়র্কে তুলে ধরা হবে অভিবাসীদের অবদান

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৪ জুন ২০২৬, ১৪:১৪

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল একটি ধারাবাহিক জনসাধারণের কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে শহর ও জাতি গঠনে অবদান রাখা বিভিন্ন সম্প্রদায়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সম্মান জানানো হবে।নি২৬৮
এই আয়োজনটি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বে বাস্তবায়িত হবে। এতে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে অভিবাসী জনগোষ্ঠী, কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের অবদান, যারা নিউইয়র্ক সিটি ও যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আয়োজকদের মতে, নিউইয়র্ক সবসময়ই এমন একটি শহর যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ সুযোগের খোঁজে এসেছে এবং তাদের শ্রম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে আমেরিকার পরিচয়কে সমৃদ্ধ করেছে।
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলিয়া মেনিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের অবদান অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়েছে, অথচ তাদের ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকা ২৫০’ উদযাপনের মাধ্যমে সেই অবদানগুলোকে নতুনভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে এবং নিউইয়র্ক সেই গল্পগুলো উদযাপন করতে গর্বিত।
মেএ৩৯ই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ৩০ জুন পর্যন্ত সিটি হলের কাউন্সিল চেম্বারে ‘লিগেসি কুইল্ট প্রজেক্ট’ প্রদর্শিত হবে, যেখানে আফ্রিকান আমেরিকানদের খাদ্যসংস্কৃতি ও জাতীয় খাদ্য ঐতিহ্যে অবদান তুলে ধরা হবে। এই কুইল্টটি ৪০৬টি হাতে তৈরি অংশ নিয়ে গঠিত, যেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের অবদানের ইতিহাস সংরক্ষিত হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ জুন সিটি হল পার্কে ‘উই দ্য সিটি: কবিতা পাঠ’ আয়োজন করা হবে, যেখানে “দ্য নিউ কলোসাস” কবিতাটি বিভিন্ন ভাষায় পাঠ করা হবে, যা নিউইয়র্কের বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কে প্রতিফলিত করবে।
এরপর ১ থেকে ৩ জুলাই শহরের বিভিন্ন স্থানে ‘উই দ্য সিটি’ শীর্ষক ডিজিটাল প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অভিবাসীদের ইতিহাস ও অবদান বিভিন্ন ঐতিহাসিক ছবি ও গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। এই প্রদর্শনীতে মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড মিউজিয়াম, ব্রঙ্কস চিলড্রেনস মিউজিয়ামসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রজেকশন দেখানো হবে।
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার ড. নান্তাশা উইলিয়ামস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসকে পূর্ণাঙ্গভাবে বুঝতে হলে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান এবং অভিবাসীদের অবদানকে কেন্দ্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই কর্মসূচিগুলো ইতিহাস, সংস্কৃতি, খাদ্য ও শিল্পের মাধ্যমে সেই অবদানের গল্পকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরবে।
নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মুরাদ আওয়াওদেহ বলেন, অভিবাসীরা নিউইয়র্কের পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাদের গল্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ নিউইয়র্কের অন্তর্ভুক্তিমূলক ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করবে এবং শহরের বৈচিত্র্যকে উদযাপন করবে।
আয়োজকদের মতে, ‘আমেরিকা ২৫০’ শুধু একটি ঐতিহাসিক উদযাপন নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র গঠনে অবদান রাখা সব সম্প্রদায়ের ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন ও স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।