শেখ আখতার উল ইসলাম আর নেই

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:২২

দেশে ও প্রবাসে তিন প্রজন্মের প্রিয় মানুষ, দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাটি-চষা  শেখ আখতার উল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন।  ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
৪ জানুয়ারি রোববার ভোরে নিঃশব্দ সময়ে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে, নিজের বাড়ির কাছেই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। আগের রাত পর্যন্তও তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন। কথা বলেছেন জীবনের সঙ্গে। রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে চিকিৎসা কেন্দ্রের এক সেবিকা ওষুধ দিতে এগিয়ে গিয়ে বুঝতে পারেন—আখতার উল ইসলাম আর নেই ।
তিনি জানতেন তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা। জানতেন সময় ফুরিয়ে আসছে। গত কয়েক দিনের লেখালেখিতে বারবার ফুটে উঠছিল বেঁচে থাকার আকুতি, স্বজন-পরিজনের কাছে প্রার্থনার অনুরোধ। সেই লেখাগুলো এখন আর লেখা নয়—শেষ বিদায়ের চিঠি।
৭৪ বছর বয়সে তিনি রেখে গেছেন দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। এক মেয়ে বৈবাহিক সূত্রে কানাডায়। ২০১১ সাল থেকে পরিবার নিয়ে নিউইয়র্কে বসবাস করলেও পেশা ও মাটির টানে নিয়মিত দেশে যাতায়াত করতেন।
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর, শেখপাড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান আখতার উল ইসলাম  মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই একজন ছাত্রনেতা হিসেবে জেলা পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ছয় ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ। 
আগ্নিঝরা যৌবনে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর ক্ষুব্ধ ও অস্থির প্রজন্মের প্রতিনিধি—যাদের ভেতরে প্রশ্ন ছিল, প্রতিবাদ ছিল, দায়বদ্ধতা ছিল।
জীবনের পথে তিনি শিক্ষকতা করেছেন, সরকারি চাকরি করেছেন, শেষ পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনসহ সমসাময়িক অনেকের সঙ্গে ছিলেন ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তিনি ছিলেন লেখকও। নিজের বাড়ির পাশ দিয়ে 'বয়ে যাওয়া কুড়া নদি' নামক গ্রন্থে লিখে গেছেন নিজের জীবনের নানা পর্যায়ের কথা। বইয়ের নামের মতোই তাঁর জীবনও বয়ে চলেছিল—নীরবে, গভীরভাবে।
নিউইয়র্কে প্রবাসী হওয়ার পর তিনি এখানকার সামাজিক, সাংস্কৃতিক জগতের অনেকের সাথেই ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার কোনো অনুষ্ঠানই যেন তাঁর উপস্থিতি ছাড়া সম্পূর্ণ হতো না। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা পরিবারের একজন হয়ে উঠেছিলেন তিনি। লেখক-সাংবাদিকদের কাছে ছিলেন অভিভাবকের মতো—নির্ভরতার জায়গা, আশ্রয়ের মানুষ। চিন্তাশীল, মুক্তচিন্তার অগ্রসর মানুষ ছিলেন।
  পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নামাজে জানাজা ৫ জানুয়ারি সোমবার জোহরের নামাজের পর নিউইয়র্ক লং আইল্যান্ড দারুল কোরআন মসজিদে (1514 E 3rd Ave, Bay Shore, NY 11706)। অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নিকটবর্তী মুসলিম কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করার কথা জানানো হয়েছে। মরহুমের অনুজ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সহসভাপতি শেখ আতিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 
শেখ আখতার উল ইসলামের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে দেশে বিদেশে স্বজন পরিজন অনুরাগী অনুসারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিউইয়র্কস্থ জালালাবাদ এসোসিয়েশন,প্রবীন সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান,  প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী, নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল হক, টাইম টিভি'র সিইও আবু তাহের, কক্ষপথ ৭১ এর যুগ্নাহ্বায়ক এডভোকেট মিয়া জাকির, সদস্য সচিব জয়জিত আচার্য্য, এম সি কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশন,লেখক সাংবাদিক এবং সাবেক ছাত্রনেতা রহমান মাহবুব, গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মঈনুল হক চৌধুরী হেলাল, সাবেক ছাত্রনেতা সৈয়দ উতবাসহ বিপুল সংখ্যক সংগঠন ও ব্যক্তিবিশেষ মরহুম আখতার উল ইসলামের মৃত্যুতে শোক ও তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। মরহুমের সন্তপ্ত পরিবারে প্রতি তারা সমবেদনা জানিছেন।